ঢাকুরিয়ায় জোড়া খুনের কোন ক্লু উদঘাটন হয়নি ডিস ব্যবসায়ী মানিকের জড়িত থাকার গুঞ্জন

লাবুয়াল হক রিপন
যশোরের মণিরামপুরের ঢাকুরিয়ায় জোড়া খুনের এক সপ্তাহেও কোন ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তবে হত্যা রহস্য নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন রয়েছে এলাকায়। টাকা লেনদেনের বিরোধের জের ধরে ডিস ব্যবসায়ী মানিক আহাদকে হত্যার হুমকি দেয় বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। এরমধ্যে পুলিশ মানিককে আটক করেছে বলেও পরিবারের লোকজন দাবি করেছে। এছাড়া জাকির নামে আরও একজন পুলিশ হেফাজতে থাকার গুঞ্জন রয়েছে। এই দুইজনসহ বিভিন্ন সময়ে আরও ৪ জন আটকের গুঞ্জন উঠলেও পুলিশ স্বীকার করেনি।
গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় মণিরামপুরের ঢাকুরিয়ায় বাদল ও আহাদ নামে দুই যুবককে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই রাতেই নিহত বাদলের মা আঞ্জুয়ারা বেগম মণিরামপুর থানায় মামলা করেন। তিনি বলেছেন, বাদল হোসেন কয়েক বছর ধরে সদর উপজেলার শাখারীগাতি গ্রামের মুরাদ হোসেনের ডিস এবং ওয়াইফাই লাইনের একজন টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতো। কিছুদিন আগে মুরাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কাজ ছেড়ে দেয় বাদল। বাদল পরবর্তী কাজ ঠিক করে গোপালপুর গ্রামের কবির হোসেনের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার কাজ করবে। বাদল দক্ষ টেকনিশিয়ান হওয়ায় তাকে কাজের সুযোগ দিয়ে অন্য চারজনকে কাজ থেকে বের করে দেবে এমন ইঙ্গিত দেন কবির হোসেন। এতে কবির হোসেনের প্রতিষ্ঠানে থাকা ওই চারজন কর্মচারীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

আবার ১৫/২০ দিন আগে ইমতিয়াজ নামে একজনের সাথে মাদারীপুরে একটি সিসি ক্যামেরার স্থাপন করতে যায়। ওই সিসি ক্যামেরা মানিকের মাধ্যমে যশোরের রাজু নামে একজনের দোকান থেকে বাকিতে ক্রয় করেন। ওই ক্যমেরার টাকা পরিশোধ নিয়ে মানিক বাদলকে এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা না দিলে তাকে খুন করার হুমকি দেয়। ঘটনার দিন গত ১৫ অক্টোবর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বাদলের মোবাইলে একটি কল আসে। ফোন পেয়ে সাথে সাথে বাদল বাড়ি থেকে বের হয়ে চলে যায়। জয়ন্তা বাজারে একটি দোকান থেকে ছোলা খেয়ে বাদল প্রতিবেশী আহাদকে মোটরসাইকেলে নিয়ে রূপদিয়ার দিকে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে সন্ধ্যার দিকে মণিরামপুরের ঢাবুরিয়ার উত্তরপাড়া গ্রামের মাঠের মধ্যে দিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে রওনা হয়। মাঠের মধ্যে মোশাররফ হোসেন টুকু মেম্বরের জমির পাশে গেলেই পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাদের পথরোধ করে। এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। আহাদ দৌড়ে ১০০/১৫০ গজ দূরে একটি বাড়ির মধ্যে যায়। পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এরই মধ্যে ইকলাচ নামে এক যুবক আহাদকে একটি ভ্যানে তুলে যশোর হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা করে। কিন্তু কয়েকশ’ গজ দুরে গেলেই আহাদ মারা যায়। এর আগে ঘটনাস্থলেই মারা যান বাদল।

এঘটনার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মণিরামপুর থানার এসআই কাজী নাজমুস সাকিব বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে মণিরামপুর, কোতোয়ালি থানা, সিআইডি এবং পিবিআইসহ পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনার কোন ক্লু উদঘাটন এবং কোন খুনিকে আটক করা যায়নি।
অন্যদিকে, ঘটনার পরপরই পুলিশ নরেন্দ্রপুর, বলরামপুর এবং চাউলিয়া থেকে ৭/৮ জনকে আটক করেছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।
এদিকে চাউলিয়া গ্রামের চান মিয়া বলেন, তার ছেলে মানিককে বৃহস্পতিবার রাতে এবং পরদিন বলরামপুর গ্রামের আবু বক্কার ওরফে মণির ছেলে জাকিরকে আটক করে নিয়ে যায়।
জানতে চাইলে নিহত আহাদের পিতা লোকমান হোসেন ওরফে নেকমাল বলেছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে এই ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। পাশাপাশি খুনের কারণও উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তিনি দ্রুত খুনিদের আটক করে আইনের আওতায় আনতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

 

 

 

শেয়ার