সংগঠনের ঐক্যবদ্ধতার বিজয় ঘরে তুললো যশোর আ’লীগ

 নৌকার নীরাকে বিপুল ভোটে জয়ী করে বিজয়ের পাল্লা ভারী করলো দলটি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সংগঠনের ঐক্যবদ্ধতার কারণে গতকাল আরও একটা বিজয় ঘরে তুললো যশোর আওয়ামী লীগ। সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের শূন্যপদে দলীয় মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরজাহান ইসলাম নীরাকে বিপুল ভোটে জয়ী করার মধ্যদিয়ে বিজয়ের পাল্লা ভারী করলো দলটি। এর ফলে যশোরে আওয়ামী লীগের বিজয়ের ইতিহাসে যুক্ত হলো আরও একটি নাম। বিপরীতে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও কর্মী সংকটে থাকায় পরাজয়ের ধারাবাহিক চিহ্ন রেখে গেল স্বাধীনতাবিরোধীদের সাথে আঁতাত করা বিএনপি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের ঐক্যবদ্ধতার ইতিহাস বেশ পুরনো। নির্বাচন এলেই ছোটখাটো অভিমান ভুলে বঙ্গবন্ধুর নৌকা প্রতীকের জোয়ার তুলতে এককাতারে এসে জড়ো হন জেলা শহর থেকে গ্রামের সর্বস্তরের নেতাকর্মী। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী নুরজাহান ইসলাম নীরাকে নৌকার কাণ্ডারি করলে মাঠে নেমে পড়ে জেলা আওয়ামী লীগ। সাথে সদর ও শহর আওয়ামী লীগও। জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিতসভার পরই শহর ও সদর শাখার বর্ধিতসভা হয়। পর্যায়ক্রমে সহযোগী সংগঠনগুলোও সভা আহবান করে।

সূত্র মতে, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নুরজাহান ইসলাম নীরাকে বিজয়ী করতে ২৪ সেপ্টেম্বর যশোর জেলা আওয়ামী লীগ বর্ধিতসভা করে। এ সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও সাধারণ সম্পাদক এমপি শাহীন চাকলাদারসহ জেলার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সভা থেকে দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সকল নেতাকর্মীকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার। এছাড়া ৩০ সেপ্টেম্বর ফের বর্ধিতসভা করে যশোর জেলা আওয়ামী লীগ। এ সভা থেকে সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও সাধারণ সম্পাদক এমপি শাহীন চাকলাদার নৌকার বিপক্ষে কেউ কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। আর ৩ অক্টোবর সভা করে সদর উপজেলাকে ৮টি জোনে ভাগ করে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব বণ্টন করে জেলা আওয়ামী লীগ। এভাবে কর্মীদের উজ্জীবিত করে নৌকার বিজয়ে কাজ করতে নির্দেশ দেন। অন্যদিকে ৪ অক্টোবর বর্ধিতসভা করে যশোর শহর আওয়ামী লীগ। সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক এসএম মাহমুদ হাসান বিপু সভা থেকে ভোটে নৌকা বিজয়ে কর্মীদের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে আহ্বান জানান। একইভাবে সভা করেছে সদর আওয়ামী লীগও। অপরদিকে ৯ অক্টোবর বিডিহলে সদর ও শহর আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা হয়। এতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও সাধারণ সম্পাদক এমপি শাহীন চাকলাদারসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এসভা থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের বিজয়ে সরকারের উন্নয়নের বার্তা নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে কর্মীদের নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ। সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে যথাযথ চেষ্টা করেছেন জেলা থেকে গ্রামের নেতাকর্মীরা। দিনরাত পরিশ্রম করেছেন দলের প্রার্থী নুরজাহান ইসলাম নীরা। একজন নারীর এই অদম্য ছুটে চলা সাহস যুগিয়েছে দলের নেতাকর্মীদের। তাই প্রতিদিন খবরের শিরোনাম হয়েছে নৌকার প্রচারণা। যশোর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এবং উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে সকাল বিকাল প্রচারণায় নৌকার পালে হাওয়া লাগে। প্রচার প্রচারণার শেষদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম ছিলো এমনই। আর ভোটের দিন কেন্দ্রে সরব উপস্থিতি ও বিএনপির ষড়যন্ত্রের দিকে ছিলো তীক্ষè দৃষ্টি। ভোট শুরু থেকে গণনা পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয় আওয়ামী লীগ। এজন্যই নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নুরজাহান ইসলাম নীরা ২ লাখ ৭৬ হাজার ১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ের হাসি হাসেন। একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নূর উন নবী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১২ হাজার ৩৯৪ ভোট। ২ লাখ ৬৩ হাজার ৬২৫ ভোট বেশি পেয়ে নৌকা বিজয়ী হয়েছে।

জানতে চাইলে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি বলেন, ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে হারানো যায় না। যশোর আওয়ামী লীগের ঐক্যবদ্ধতার ফসল সর্বশেষ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরজাহান ইসলাম নীরা ২ লাখ ৭৬ হাজার ১৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। দলে শৃঙ্খলা থাকায় এর আগেও সদর উপজেলা পরিষদ, সংসদ নির্বাচন, পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা জয়ী হয়। নির্বাচনে নৌকাকে বিজয়ী করতে দিনরাত পরিশ্রম করা দলের প্রতিটি নেতাকর্মী ও ভোটারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন শাহীন চাকলাদার।

এদিকে, সাংগঠনিক দুর্বলতা ও কর্মী সংকটে থাকায় সদর উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে আবারও হার মানে বিএনপি। নির্বাচনের প্রচারণায় সাড়া না পাওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে ভোটের ফলাফলে। ধানের শীষে ভোট পড়েছে মাত্র ১২ হাজার ৩৯৪টি। ভোটের দিন দলটির নেতাকর্মীদের তেমন চোখে পড়েনি। অনেকে ভোটকেন্দ্রে এসে লুকোচুরি খেলে চলে যান। যাতে দলের হাইকমান্ডের কাছে কেন্দ্রে আসার কথা বলতে পারেন।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, অন্যান্য ভোটের মতো সদরের নির্বাচনেও বিএনপি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। সাংগঠনিক অবস্থা মজবুত না হলে সেটা সম্ভব না। এজন্য নির্বাচনে ৫১ দশমিক ৭৭ ভাগ ভোটার এলেও তাদের ভোটার এসেছে মাত্র ৪ দশমিক ২৭ ভাগ।

শেয়ার