শার্শার দুটি মাদ্রাসায় শিক্ষকসহ ৮ জনের নিয়োগে দুর্নীতি কায়বার চেয়ারম্যান টিংকুর পকেটে ৭৩ লাখ টাকা !

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ শার্শার কায়বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহমেদ টিংকুর বিরুদ্ধে আবারো অনিয়ম ও ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ৭৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। জানা গেছে, শার্শা উপজেলার কায়বা বাইকোলা ওসমানীয়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি হিসাবে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহমেদ টিংকু দায়িত্ব নেওয়ার পর অনিয়ম ও ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে ৩ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু মাদ্রাসার ফান্ডে একটি টাকাও জমা না দিয়ে ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন তিনি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে মহিষা পীর আব্দুস সোবহান আলিম মাদ্রাসায় ৪ জন শিক্ষক ও ১ জন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দিয়ে ২৮ লখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মহিষা পীর আব্দুস সোহবান আলিম মাদ্রাসায় সভাপতি আব্দুস সালামের স্ত্রীকে কম্পিউটার অপারেটরের পদটি দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের পক্ষে নিয়ে নেয় চেয়ারম্যান টিংকু। পরে লৌহমর্ষক কাহিনী তৈরি করে বলির পাঠা করে তারই অনুগত মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুস সালামকে। এ মাদ্রাসায় ৫টি পদের নিয়োগের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ১৩ টি। এর মধ্যে ৫ জনকে ২৮ লাখ টাকা নিয়ে চূডান্ত করেন চেয়ারম্যান টিংকু। তাতে নিয়োগ থেকে মাদ্রাসার সভাপতির স্ত্রী বাদ পড়ে যায়। কিন্তু সুচতুর চেয়ারম্যান টিংকু এই কথা তার নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে। পরে নিয়োগ বোর্ডে চেয়ারম্যান টিংকুর টাকা নেওয়া ৫ জনকে কৃতকার্য দেখানো হয়। এসময় নিয়োগ বোর্ডের ভিতর যেতে সভাপতি আব্দুস সালামকে বাধা দেওয়া হয়। তখন আব্দুস সালাম চেয়ারম্যান টিংকুকে ফোন দিলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী টিংকুর ফোন বন্ধ থাকে। নিয়োগ বোর্ডের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুস সালামকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়োগের কাগজে জোর করে স্বাক্ষর করে নেয় চেয়ারম্যানের নিজ হাতে গড়া টিংকু বাহিনীর সদস্যরা। এরআগেও চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু শার্শার চালিতাবাড়িয়া আর.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার পর স্কুলটিতে অনিয়ম ও ঘুষ দুর্নীতির বাসা বেঁধে ওঠে। তিনি নিয়ম না মেনে পর্যায়ক্রমে ১৭ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। সেখান থেকে তিনি ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা হজম করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্প, ভিজিএফ, ভিজিডি, টিআর, এলজিএসপি ও হতদরিদ্রদের কর্মসৃজন কর্মসূচির লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তিনি মাত্র অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। উপজেলার চালিতাবাড়িয়ায় তৈরি করেছেন আলিসান বাড়ি। তার স্বনামে বেনামে রয়েছে অঢেল সম্পদ। বিভিন্ন ব্যাংকে জমা আছে কয়েক কোটি টাকা। অথচ চেয়ারম্যান হওয়ার পূর্বে নুন আনতে তার পানতা ফুরাতো। ভাঙ্গা টিনের একটি ঘরে বসবাস করতেন। এবিষয়ে মহিষা পীর আব্দুস সোবহান আলিম মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, আমাকে নিয়োগ বোর্ডের মধ্যে যেতে দেওয়া হয়নি। নিয়োগ বোর্ডের কাজ শেষে আমার জীবন নাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোর করে নিয়োগের কাগজে স্বাক্ষর করে নিয়েছে।
এব্যাপারে চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুর কাছে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এক পর্যায়ে বলেন, কায়বা বাইকোলা ওসমানীয়া দাখিল মাদ্রাসায় নিয়োগ স্বচ্ছভাবে হয়েছে। আর মহিষা পীর আব্দুস সোবহান আলিম মাদ্রাসার বিষয়ে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
এবিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। তবে ঘুষ দুর্নীতি বিষয়ে আমার জানা নেই।
অন্যদিকে, এলাকাবাসী চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সেই সাথে কায়বা বাইকোলা ওসমানীয়া দাখিল মাদ্রাসা ও মহিষা পীর আব্দুস সোবহান আলিম মাদ্রাসার দুর্নীতি অনিয়মের নিয়োগ বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

শেয়ার