যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ভোটযুদ্ধ আজ

 কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণে প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি

জাহিদ হাসান
যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে ভোট যুদ্ধ আজ। টানা ১৬ দিন প্রচার-প্রচারণা যুদ্ধের পর আজ ভোট গ্রহণের মধ্যে দিয়ে বিজয়ীর নাম জানা যাবে। এই নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরজাহান ইসলাম নীরা। আর ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নূর উন নবী। উভয় প্রার্থীই জয়ে আশাবাদী। কে হবেন সদর উপজেলার আগামী দিনের চেয়ারম্যান; দুই নুরের মধ্যে কোন নুর হাসবেন বিজয়ের হাসি সেই অপেক্ষায় আছেন সদরসহ যশোরবাসী। এদিকে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগ্রহণের লক্ষে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসন। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন ১৭৫টি কেন্দ্রে পাঁচ লক্ষাধিক ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। ব্যালট পেপার বাদে গতকাল অন্যান্য সব উপকরণ ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে গেছে। আজ সকালে ভোট শুরুর আগে সব কয়টি নির্বাচনী কেন্দ্রে পৌছে যাবে ব্যালট পেপার।
জেলা নির্বাচন অফিস মতে, যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে একটি পৌরসভা ও উপজেলায় ৫ লক্ষ ৬০ হাজার ৫২৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোট গ্রহণ করা হবে ১৭৫টি কেন্দ্রে। ভোট কেন্দ্রে সার্বিক নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য ১৭৫ জন প্রিজাইটিং অফিসার ও ১ হাজার ১৩ জন পোলিং অফিসার নিয়োজিত থাকবেন। এদিকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়োজিত থাকছে। নির্বাচনী এলাকায় ২ জন জুডিসিয়াল ও ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। ১৫শ’ পুলিশ সদস্য, ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। ১৮টি মোবাইল টিম ও ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্সের ৬টি টিম নির্বাচনের মাঠে সার্বক্ষণিক কাজ করবে।
এদিকে, সোমবার সকাল থেকেই সদর উপজেলা পরিষদ থেকে কেন্দ্র প্রতিনিধিদের কাছে নির্বাচনের সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়। প্রিজাইডিং অফিসারসহ কেন্দ্র ভিত্তিক নিয়োজিত পুলিশ ও আনসার সদস্য নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে যান নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রে। বুথ অনুযায়ী তারা মালামাল বুঝিয়ে দিয়েছেন। ব্যালট বক্স, কোভিড-১৯ এর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কিছু সামগ্রী দেয়া হয়েছে। করোনার সংক্রমণ থেকে ভোটারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রের প্রবেশ পথে সাবান পানির ব্যবস্থা থাকছে। সেই সাথে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজারের আব্যশক করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটার ও ভোটগ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিতদের বাধ্যতামূলক মাস্কও সরবরাহ করা হয়েছে।
নির্বাচনে ভোটারদের দৃষ্টি আর্কষন করতে নিজ নিজ দলের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির কৌশলমতে প্রচার-প্রচারনা চালিয়েছেন। ভোটারদের নিজ নিজ দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নানান কৌশলে প্রতিটি কেন্দ্রে এজেন্টও নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচনে অংশ নেওয়া দুই প্রার্থীই। প্রতিটি কেন্দ্রের মাঠে ও আশেপাশের সড়কগুলোতে নতুন ভাবে সাজানো হয়েছে নৌকা ও ধানের শীর্ষের পোস্টার।
সদর উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে জেলা আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থেকে নির্বাচনে মাঠে রয়েছে এবং থাকবে। আওয়ামী লীগের সরকার যশোরসহ দেশের নানা প্রান্তে যে উন্নয়ন করেছে সেই কথা ভেবেই আজ নৌকার ভোট দিবে। সদর উপজেলা নির্বাচনে নৌকার গণজোয়ার হবে এবং বিপুল ভোটে নৌকা বিজয়ী হবে আশাবাদী জেলা আওয়ামী লীগের এই নেতা।
এ বিষয়ে ধানের শীর্ষের প্রার্থী নূর উন নবী বলেন, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের কোনো আস্থা নেই। তাদের অধীনে সুষ্ঠু ভোট হবে বলে কেউ বিশ্বাস করে না। তার পরও গণতান্ত্রিক দল হিসেবে মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। সুষ্ঠু ভোট হলে ধানের শীর্ষের বিজয় সুনিশ্চিত। তাই ভোট কেন্দ্র যাতে দখল বা নির্বাচনে কারচুপি যাতে না হয় সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক আছি। ভোটারদের সাথে নিয়ে ভোট কারচুপি ঠেকাতে যা যা করণীয় আমরা বিএনপির কর্মী-সমার্থকদের সেটাই করব।
জানতে চাইলে জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকতা হুমায়ন কবির বলেন, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন তার জন্য প্রয়োজনীয় ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সকল ভোটারকে আমি ভোট কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে আসবেন, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বিঘেœ বাসায় ফিরে যাবেন, সেভাবেই আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজিয়েছি বলে জানিয়েছেন যশোরের এই জেলা প্রশাসক।

শেয়ার