আজ পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের উপনির্বাচন

আব্দুল আজিজ, পাইকগাছা॥ আজ ২০ অক্টোবর পাইকগাছা উপজেলা পরিষদের শূন্য চেয়ারম্যান পদের উপ-নির্বাচন। দু’জন প্রার্থী এই উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার ইকবাল মন্টু। অপরদিকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক ডা. মো. আব্দুল মজিদ।
ইতোমধ্যে নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হয়েছে ব্যালট বক্স ও ভোটের যাবতীয় উপকরণ। নিছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উপজেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তা। প্রার্থীরাও তাদের প্রচার প্রচারণা শেষ করেছেন। তবে প্রচার প্রচারণায় ধানের শীষ প্রতীকের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মন্টু। দলীয় নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করায় এবং ক্লিনইমেজের প্রার্থী হিসেবে জয়ের ব্যাপারেও শতভাগ আশাবাদী আনোয়ার ইকবাল মন্টু। অপরদিকে ভোটার উপস্থিতি এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে এবং জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানিয়েছেন ডাঃ আব্দুল মজিদ।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী করোনা পজেটিভ নিয়ে মৃত্যুবরণ করলে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হয়। শূন্য এই পদে নির্বাচন কমিশন ১৫ সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণা করেন। তফসীল অনুযায়ী আজ ২০ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৭৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১৯ হাজার ৭১৬। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১০ হাজার ৫৬৪ ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯ হাজার ১৫২ জন।
নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার ইকবাল মন্টুর পারিবারিক পরিচয়ে রাজনৈতিক ঐতিহ্য রয়েছে। তার পিতা শহীদ এমএ গফুর ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সহচর, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ভাষাসৈনিক। তিনি আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের মধ্যে অন্যতম। এবারই প্রথম তিনি দলীয় মনোনয়ন নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন। নির্বাচনে জয় হলে এটি হবে তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
অপরদিকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মজিদ উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক। এরআগে তিনি একবার উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন।
নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার কামালউদ্দীন আহম্মেদ বলেন, ভোটের আগের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট বক্সসহ ভোটের যাবতীয় উপকরণ পৌঁছে দেয়া হয়েছে। সুন্দর পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও আনসার নিয়োজিত থাকবে। আশা করছি সকলের সহযোগিতায় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারবো। খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও দক্ষিণ) জিএম আবুল কালাম আজাদ জানান, অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশের ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচনে নিরাপত্তার কোন ঘাটতি নেই। আশা করি ভোটাররা নির্ভয়ে-নির্বিগ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

শেয়ার