রাত পোহালেই যশোর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে ভোট
নৌকার পালে হাওয়া, বিজয়ে আশাবাদী নীরা

 জয়ের স্বপ্ন দেখছেন বিএনপি প্রার্থী নূর-উন-নবীও

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ রাত পোহালেই যশোর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনের ভোট। ইতিমধ্যে নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা নির্বাচন কমিশন। আজ ব্যালট পেপার বাদে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে অন্যান্য সামগ্রী। এদিকে নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী গতকাল মধ্যরাত থেকে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। এর আগে গতকাল দিনভর ভোটের মাঠ চষে বেড়ান নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থীসহ উভয় প্রার্থীর কর্মীরা। যদিও সন্ধ্যার দিকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরজাহান ইসলাম নীরা। তবে তিনি দলের নেতাকর্মীদের ভোটের মাঠে থেকে ভোটারদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেন। তার বিশ্বাস এ নির্বাচনে নৌকার বিজয় অবশ্যম্ভাবী। অবশ্য বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বিএনপি প্রার্থী নূর উন নবীও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রোববার প্রচারণার শেষ দিনে সকাল থেকে রাত অবধি প্রচার, মতবিনিময়, গণসংযোগ ও পথসভায় মুখর ছিলো সদর উপজেলার প্রতিটি এলাকা। আধুনিক ও স্মার্ট উপজেলা গড়ার অঙ্গীকারে নৌকায় ভোট চেয়েছেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরজাহান ইসলাম নীরা। প্রার্থীকে বিজয়ী করতে জেলা যুব শ্রমিকলীগের উদ্যোগে রোববার শহরের বকুলতলায় নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পথসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহমুদ হাসান বিপু। জেলা যুব শ্রমিকলীগের আহ্বায়ক কে এম কামরুজ্জামান শামীমের সভাপতিত্বে ও জেলা শাখার সদস্য সচিব ইউসুফ শিকদারের পরিচালনায় এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরজাহান ইসলাম নীরা, জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক (চলতি দায়িত্ব) আসাদুজ্জামান বাবলু, জেলা যুব শ্রমিকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির উজ্জলসহ শ্রমিকলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। একই দিন দুপুরে জেলা পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগে শহরের মুসলিম একাডেমী এলাকায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহমুদ হাসান বিপু, পৌর কাউন্সিলর মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তা, জেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক (চলতি দায়িত্ব) আসাদুজ্জামান বাবলুসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
একইরাতে যশোর পৌর ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শহরের পিটিআই মোড়ে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু। এসময় বক্তব্য রাখেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদ্জ্জুামান আসাদ, কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন, জেলা যুবলীগের সহসভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান, ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান ইমাম বাবলু। পথসভায় ওয়ার্ড ও যশোর পৌর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে নৌকার প্রার্থী নুরজাহান ইসলাম নীরা উপশহর ইউনিয়নে প্রচার- প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি ২০ অক্টোবর নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে প্রতিটি কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনার নির্দেশ দেন। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন উপশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসানুল হক লিটুসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী নূর উন নবীও প্রচারণা চালিয়েছেন দিনভর। তিনি দলীয় নেতাকর্মী সমর্থকদের নিয়ে দড়াটানা থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। এইচএমএম রোড, কাপুড়িয়াপট্টি, স্বর্ণপট্টি, চৌরাস্তা হয়ে দলীয় কার্যালয়ে এসে তারা প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন। হামলা ভাঙচুরের প্রতিবাদে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন এবং শাস্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি প্রার্থী নূর- উন- নবী, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন। গণসংযোগ ও প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শরফুদ্দৌলা ছোটলু, অ্যাড. হাজী আনিছুর রহমান মুকুল, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আজম, যুগ্ম সম্পাদক মীর নূর ইমাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আনছারুল হক রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা আমির ফয়সাল প্রমুখ।
জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনে ৫ লক্ষ ৬০ হাজার ৫২৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ভোটগ্রহণ করা হবে ১৭৫টি কেন্দ্রে। ভোটকেন্দ্রে সার্বিক নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য ১৭৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ১৩ জন পোলিং অফিসার নিয়োজিত থাকবে। এদিকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়োজিত থাকছে। নির্বাচনী এলাকায় ২ জন জুডিসিয়াল ও ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। ১৫শ’ পুলিশ সদস্য, ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। ১৮টি মোবাইল টিম ও ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্সের ৬টি টিম নির্বাচনের মাঠে সার্বক্ষণিক দ্বায়িত্ব পালন করবে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর যশোর সদর উপজেলাসহ দেশের ৮টি উপজেলার চেয়ারম্যান ও দুইটি উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের শূন্যপদে নির্বাচনে ৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের নুরজাহান ইসলাম নীরা ও বিএনপির নূর উন নবী এবং স্বতন্ত্রভাবে জমা দিয়েছিলেন যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ ও বিএনপির সিরাজুল ইসলাম। এর মধ্যে মনোনয়ন যাচাই- বাছাইকালে সিরাজুল ইসলাম ও মোহিত কুমার নাথের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরজাহান ইসলাম নীরা ও বিএনপির ধানের শীর্ষ প্রতীকের প্রার্থী নূর উন নবীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
উল্লেখ্য, যশোর-৬ আসনের উপ-নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনের আগে শাহীন চাকলাদার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর নির্বাচন কমিশন যশোর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদটি শুন্য ঘোষণা করে।

শেয়ার