নেংগুড়াহাট এলাকায় খেজুর গাছ তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে গাছিরা

নেংগুড়াহাট (মনিরামপুর) প্রতিনিধি॥ মনিরামপুর উপজেলার নেংগুড়াহাট এলাকায় শয়লাগ্রামের গাছি আয়ুব হোসেন শীতের আগাম বার্তা নিয়ে আসার আগেই খেজুর গাছতোলার জন্য ব্যাস্তসময় পার করছেন। আইয়ুব হোসেন বলেন, দিনের বেলায় কিছুটা গরম হলেও সন্ধ্যা হলেই শীতের আগমন বার্তা চলে এসেছে। সকালেও শিশির ভেজা পথ। যা শীতের বার্তা জানান দিচ্ছে। এরই মধ্যে উপজেলার নেংগুড়াহাট এলাকায় গাছিরা আগাম খেজুর গাছ তুলতে শুরু করেছে। যারা খেজুর গাছ থেকে বিশেষ ভাবে রস সংগ্রহ করতে পারদর্শি তাদেরকে গাছি বলা হয়। আগাম রস পাবার আশায়, বেশ কিছু গাছি গাছের পরিচর্যা শুরু করেছেন। গাছিরা হাতে দা নিয়ে ও কোমরে ডোঙ্গা বেঁধে দড়া হাতে গাছ চাছাছোলা করছেন। এরই মধ্যে কয়েক জন গাছি নলি বানাতে শুরু করেছেন। কয়েকদিন পরই গাছিদের খেজুর গাছ কাটার ধুমপড়ে যাবে। এক সময় যশোর, ফরিদপুর গুড়ের জন্য বিখ্যাত। ছিল। এলাকার খেজুর রসের গুড়ের চাহিদা ছিল ব্যাপক। সে সময় ব্যবসায়িরা এলাকা থেকে গুড় সংগ্রহ করে গরু গাড়ি ঘোড়ার গাড়িতে করে মাঝদিয়া বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিত। কিন্তু বর্তমান সময়ের ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তের পথে, কারন আগের মত খেজুর গাছ এখন আর দেখা যায়না। কোন চাষি জমিতে আলাদা করে খেজুর গাছের চাষ করেনা। শুধু রাস্তার পাশে কিংবা জমির আইলে কম বেশি খেজুর গাছ দেখা যায়। তাছাড়া গুড় তৈরি করতে অনেক সময় লাগে, আর এক কেজি গুড় বিক্রি করতে হয় ১৫০ থেকে ২০০শত টাকায়। যে কারনে চাষিরা গুড় বানাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। মনিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি গ্রামের গাছি মোন্তাজ হোসেন বলেন, আগাম গাছ তুলতে পারলে আগেই গুড়, পাটালি তৈরি করা যায়। তাই দাম ও বেশি পাওয়া যায়।

শেয়ার