যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে মধ্যরাত থেকে প্রচারণা বন্ধ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে মাঠে থাকবে ১৬ জন ম্যাজিস্ট্রেটসহ ১৮টি মোবাইল টিম

জাহিদ হাসান

যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে, আর একদিন বাদেই (আগামী মঙ্গলবার) উপজেলার চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন। ফলে নিয়মানুযায়ী আজ (রোববার) মধ্যরাত থেকে সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ভোট গ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার- প্রচারণা ও মোটরসাইকেলসহ ৪ চাকার যানবাহন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও একটি মডেল নির্বাচন করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র মতে, আগামী ২০ অক্টোবর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন। ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৫ লক্ষ ৬০ হাজার ৫২৪ জন ভোটারের ভোট গ্রহণ করা হবে ১৭৫টি কেন্দ্রে। ভোট কেন্দ্রে সার্বিক নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য ১৭৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ১৩ জন পোলিং অফিসার নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য ১ হাজার ৪শ’ ৭৮টি ব্যালট বক্স থাকবে। সদর উপজেলা পরিষদের এই নির্বাচনে ২টি ইউনিয়ন (নরেন্দ্রপুর ও কচুয়া) এর ১৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করায়; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। করোনার সংক্রমণ থেকে ভোটারদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রের প্রবেশ পথে সাবান পানির ব্যবস্থা থাকছে। সেইসাথে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজারের আব্যশক করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটার ও ভোট গ্রহণের দায়িত্বে নিয়োজিতদের বাধ্যতামূলক মাস্কও সরবরাহ করা হবে।

এদিকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়োজিত থাকছে। নির্বাচনী এলাকায় ২ জন জুডিসিয়াল ও ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। ১৫শ’ পুলিশ সদস্য, ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। ১৮টি মোবাইল টিম ও ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্সের ৬টি টিম নির্বাচনের মাঠে সার্বক্ষণিক দ্বায়িত্বপালন করবে। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি সদস্যদের নিয়োজিত রাখা হবে। এদিকে শেষ সময়ের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থী ও তার কর্মীরা। নির্বাচনে জয়ী হতে বিভিন্ন কৌশলে ভোটারদের মন জয় করতে সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি মাঠে দুই প্রার্থীর হাজারোও কর্মী-সমর্থক। দুই প্রার্থীই সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের আশাবাদী। সেইসাথে দুইজনই বিজয়ী হওয়ার আশাব্যক্ত করেছেন।

জানতে চাইলে যশোর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন অফিস ও প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। নির্বাচনের দিন সকালে নির্বাচনী কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের জেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রত্যেকটি কেন্দ্রের জন্য স্বচ্ছ ব্যালট বক্স, হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হবে। এ বিষয়ে আরো জানতে চাইলে জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ন কবির সমাজের কথাকে জানান, করোনার মধ্যেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়েছে। এছাড়াও যশোর নির্বাচন অফিস কেশবপুর সংসদীয় নির্বাচনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ ভোট উপহার দিয়েছিলো। সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়ে আসন্ন ২০ অক্টোবর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যে ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা সকল কর্মকর্তাকে ১৬ অক্টোবর জিলা স্কুল অডিটোরিয়ামে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার মধ্যে নরেন্দ্রপুর ও কচুয়া ইউনিয়নের ১৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়েছে। সেখানকার প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অন্য কেন্দ্র থেকে বিরূপ হওয়ায় জেলা নির্বাচন কমিশন ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছেন।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর যশোর সদর উপজেলাসহ দেশের ৮টি উপজেলার চেয়ারম্যান ও দুইটি উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের শূন্যপদে নির্বাচনে ৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের নুরজাহান ইসলাম নীরা ও বিএনপির নূর উন নবী এবং স্বতন্ত্রভাবে জমা দিয়েছিলেন যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ ও বিএনপির সিরাজুল ইসলাম। এর মধ্যে মনোনয়ন যাচাই- বাছাইকালে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহিত কুমার নাথের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুরজাহান ইসলাম নীরা ও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নূর উন নবীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

উল্লেখ্য, যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনের আগে শাহীন চাকলাদার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর নির্বাচন কমিশন যশোর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষণা করে।

শেয়ার