‘ভবদহের পানি সরাও-মানুষ বাঁচাও’ দাবিতে মানববন্ধন

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি॥ যশোরের অভয়নগর ও মণিরামপুর উপজেলার মধ্যবর্তী মশিয়াহাটী বাজারে ভবদহ পানি নিষ্কাশন আন্দোলন কমিটির আয়োজনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় দুই হাজার পানিবন্দি নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে চলা মানববন্ধন শনিবার বেলা ১২ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত মশিয়াহাটী সড়কে অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া নারী-পুরুষের কণ্ঠে পানি সরাও-মানুষ বাঁচাও শ্লোগানের পাশাপাশি টিআরএম প্রকল্প চালু করা ও আমডাঙ্গা খাল খননসহ প্রশস্তকরণের দাবি করা হয়। মানববন্ধন কর্মসূচি শুরুর পূর্বে মশিয়াহাটী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ভবদহ পানি নিষ্কাশন আন্দোলন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ইউপি চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন আন্দোলন কমিটির আহবায়ক ও অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব এনামুল হক বাবুল। প্রধান বক্তা ছিলেন, মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র কাজী মাহমুদুল হাসান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এস এম কামরুজ্জামান, অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান সরদার অলিয়ার রহমান, সহ-সভাপতি সানা আব্দুল মান্নান, মণিরামপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তী, সুন্দলী ইউপি চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিল, পায়রা ইউপি চেয়ারম্যান বিষ্ণুপদ দত্ত, সুন্দলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধির কুমার পাঁড়ে। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রভাষক মদন মহন চক্রবর্তী, অধ্যক্ষ আব্দুল মতলেব সরদার, মনিশান্ত ম-ল, অভয়নগর নওয়াপাড়া পৌর হ্যা-লিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফাল্গুন ম-ল, অভয়নগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্যা আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর পৌর যুবলীগের সভাপতি এস এম লুৎফর প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যৌথভাবে আওয়ামী লীগ নেতা অশোক ম-ল, কনায় ম-ল, মঞ্জিত রায় ও রাজু বিশ্বাস।
প্রধান অতিথি আগামী ২৮ অক্টোবর যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচিসহ স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা করেন।
এদিকে মণিরামপুর থেকে মোতাহার হোসেন জানান, টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধীরে ধীরে এই দাবি গণদাবিতে পরিনত হয়েছে। ভবদহ বিলপাড়ের ভুক্তভোগি মানুষ বছরের পর বছর ফসল ফলানো থেকে বঞ্চিত, ইতিমধ্যে শত শত পরিবার বাস্তভিটা ছেড়ে ঘর ছাড়া হয়েছেন। চীনের দুঃখ হোয়াংহো নদীর মতো ভবদহ’র কারণে যশোরের মণিরামপুর, অভয়নগর, কেশবপুর ও খুলনার ডুমুরিয়া এবং ফুলতলা উপজেলার লাখ লাখ মানুষ নিষ্পেষিত হয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আজ তারা চরম প্রতিবাদি হয়ে উঠছেন। এ অঞ্চলের ভুক্তোভোগি পরিবারের গৃহকর্তা নন, মা তার শিশু সন্তানকে কোলে নিয়েই কোমর পানিতে নেমে ভবদহ সংকট উত্তরণের দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচিতে শরীক হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভবদহ অঞ্চলে ছোট-বড় ৫৪টি বিল রয়েছে। এসব বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র প্রবাহ পথ ভবদহ স্লইচ গেট। কিন্তু ভবদহ স্লুইচগেটে দুই পাশে পলি জমে বিল নিচু হওয়ায় সেইসব বিলের পানি প্রবাহের এই পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। যেকারণে ভবদহ বিলপাড়ের মানুষগুলো আজ চরম বিপদের মধ্যে দিন পার করছেন। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বিলে ঢুকে সব তলিয়ে গেছে। যেকারণে এ অঞ্চলের প্রায় ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষায় প্রতি বছরই নদী খননসহ সরকার নানা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।

শেয়ার