ফুকুশিমার তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে ফেলবে জাপান

সমাজের কথা ডেস্ক॥ সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা পরমাণু কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় দূষিত ১০ লক্ষাধিক টন পানি সাগরে ফেলবে জাপান সরকার। গণমাধ্যমের খবরে একথা বলা হয়েছে।

২০১১ সালে জাপানে ভয়াবহ ভূমিকম্প পরবর্তী সুনামিতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ফুকুশিমার দায়িচি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

কেন্দ্রটি শীতল করতে ব্যবহৃত পানিসহ এই টন টন তেজস্ক্রিয় পানি কীভাবে অপসারণ করা হবে তা নিয়ে কয়েক বছরের বিতর্কের পর সরকার এই পদক্ষেপ নিতে চলেছে।

এ ব্যাপারে এ মাস শেষেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে শুক্রবার জানিয়েছে জাপানের কিয়োদো বার্তা সংস্থা।

তেজস্ক্রিয় দূষিত পানি সাগরে ফেলা হলে পরিবেশ এবং মৎস শিল্পে এর ক্ষতিকর প্রভাবের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাপানের পরিবেশবাদীরাসহ স্থানীয় জেলেরা।

যদিও পরিশোধন করে পানির তেজস্ক্রিয়তা কমানোর চেষ্টা চলছে এবং বিজ্ঞানীদের অনেকেই এই পানির ঝুঁকি কমও বলেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

জাপানের জাতীয় দৈনিক নিক্কাই এবং ইয়োমিউরি শিম্বুন পত্রিকা জানিয়েছে, ২০২২ সালের শুরুর দিক থেকে এসব পানি সাগরে ফেলা শুরু হবে। কাজ পুরোপুরি শেষ হতে লেগে যাবে ৩০ বছর।

জাপানের শিল্পমন্ত্রী হিরোশি কাজিয়ামা শুক্রবার বলেছেন, “পানি ফেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তবে শিগগিরই তা নেওয়া হবে। দেরী যাতে না হয় সেজন্য আমাদের দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।”

তেজস্ক্রিয় পানি অপসারণের আরও দুটি বিকল্প পন্থা আছে। আর তা হচ্ছে, পানি বাষ্পীভূত করা কিংবা অন্যান্য স্থানে এই পানি জমা রাখার ট্যাংক নির্মাণ করা।

তবে জাপান সরকার ব্যাপক বিরোধিতার মুখেও বরাবরই প্রশান্ত মহাসাগরে পানি ফেলার পথই বেছে নেওয়ার আভাস দিয়ে এসেছে।

পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন থেকেই এর প্রতিবাদ করে আসছে। আর স্থানীয় জেলে ও কৃষকরা বলছে, সাগরে তেজস্ক্রিয় পানি ফেললে ভোক্তারা ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক খাবার কিংবা উৎপাদিত পণ্য কিনতে চাইবে না।

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রশান্ত মহাসাগরের বিশাল জলরাশির মধ্যে তেজস্ক্রিয় পানি মিশে গিয়ে পাতলা হয়ে যাবে। ফলে ওই পানির তেজস্ক্রিয় উপাদান মানুষ এবং প্রাণীর স্বাস্থ্যের জন্য আর তেমন ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে না।

 

শেয়ার