তালায় বন্ধ হওয়া মোহাম্মাদীয় মাদ্রাসার নামে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি॥ প্রায় ১৫ বছর আগে স্থায়ী ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া তালার হাজরাকাঠি মোহাম্মাদিয়া (স.) দাখিল মাদ্রাসার নামে সরকারি অর্থ এবং শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসার তথাকথিত সুপার ও তার সহযোগীরা পরস্পর যোগসাজসে কাগজে কলমে মাদ্রাসার কার্যক্রম চলমান দেখিয়ে বছরের পর বছর কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদিকে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এবিষয়ে ইতোমধ্যে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন’র নিকট অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহযোগীতায় টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কথিত সুপার প্রতারক জুলফিকার হোসেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আ.স.ম. আব্দুর রব, স্থানীয় আসাদুর রহমান ও হাফিজুর রহমান সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, হাজরাকাঠি বাজারের পাশে হাজরাকাঠি মোহাম্মাদিয়া (স.) দাখিল মাদ্রাসা স্থাপিত হয়। কিন্তু শিক্ষার্থী সংকট সহ নানা যৌক্তিক কারনে দীর্ঘ বছরেও মাদ্রাসাটি এমপিও না হওয়ায় প্রায় ১৫ বছর আগে স্থায়ী ভাবে মাদ্রাসার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। মাদ্রাসার ভবন ও খেলার মাঠ পরিত্যাক্ত হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে সেখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধিনে মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসা চালু হয়। এরপর থেকে অদ্যবাদী দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসার কার্যক্রম সফল ভাবে চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রেরনের জন্য ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপসচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন’র অনুরোধে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য চলতি বছরের ৬ জানুয়ারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আতিয়ার রহমানকে নির্দেশ দেন। সে মোতাবেক ওইদিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আতিয়ার রহমান সরেজমিন ইবতেদায়ী মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন এবং মাদ্রাসার সকল কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে তথ্য প্রেরন করেন। অথচ এরপরও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সহযোগীতায় ওই একইস্থলে মোহাম্মাদীয়া (স.) মাদ্রাসার কার্যক্রম কাগজে কলমে চলমান দেখিয়ে মাদ্রাসার কথিত সুপার জুলফিকার হোসেন নানাভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সম্প্রতি করোনা প্রাদূর্ভাবের কারনে সরকার নন এমপিও শিক্ষকদের অর্থ সহযোগীতা প্রদান করলে এই কথিত মাদ্রাসার সুপার সহ তার কতিপয় সহযোগীরা কৌশলে সেই টাকা তুলে নেয়। এছাড়া নামে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে সহযোগীতা নেয়া সহ ইতোপূর্বেই শিক্ষক এবং কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এদিকে এবিষয়গুলো জানাজানি হবার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসার কথিত সুপার জুলফিকার হোসেনকে ভূয়া কাগজপত্র সহ হাতেনাতে আটক করে তালা থানা পুলিশে সোপর্দ করে। এছাড়া মাদ্রাসার কথিত সুপার’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করেন।
এবিষয়ে, সংশ্লিষ্ট সুপার জুলফিকার হোসেন জানান, তিনি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে, ওই মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি কে, কে তাকে ভারপ্রাপ্ত সুপার বানিয়েছে এবং তার রেজ্যুলেশন সহ আনুষাঙ্গিক কাগজপত্র বা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী কতজন; কতজন শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছে- তার কোন উত্তর তিনি দিতে পারেননি। এসময় একপর্যায়ে মাদ্রাসার কার্যক্রম ১৫বছর ধরে বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস তার সকল কাগজপত্র নিয়মিত আপডেট করে দিচ্ছেন।
এদিকে এবিষয়ে জানার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আতিয়ার রহমানকে না পাওয়ায় অফিস সহকারী হাসমত আলী বলেন, হাজরাকাঠি মোহাম্মাদিয়া (স.) নামের একটি দাখিল মাদ্রাসার নাম অফিসের নথিতে রয়েছে।

শেয়ার