ঢাকুরিয়ায় জোড়া হত্যাকাণ্ডে রহস্য অজানা ৭ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়ার গুঞ্জন

লাবুয়াল হক রিপন
যশোরের মণিরামপুরের ঢাকুরিয়ায় জোড়া হত্যাকাণ্ডে গেল ২৪ ঘণ্টায় কোন ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনায় ৭ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। যদিও এই হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটন এবং অপরাধীদের আটকের জন্য পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা মাঠে রয়েছে। এদিকে ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতেই নিহত বাদলের মা আঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে নিহত দুই যুবকের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। এদিনই আছর বাদ তাদের নিজ গ্রাম জয়ন্তা স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
যারা আটক হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে তাদের ৫ জনের পরিচয় জানা গেছে। এরা হলো, সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম, আব্দুল মজিদের ছেলে মামুনুর রহমান মামুন, চাউলিয়া গ্রামের গ্যাস ফিল্ড এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে সেলিম হোসেন, চান্দা মিয়ার ছেলে মানিক হোসেন এবং একই এলাকার জয়নাল হোসেনের ছেলে শাকিল হোসেন।
যশোর সদর উপজেলার জয়ন্তা গ্রামের লোকমান হোসেন ওরফে নেকমাল হোসেন বলেছেন, তার দুইটি ছেলে। বড় ছেলে আহসান হোসেন নসিমন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। আর ছোট ছেলে আহাদ আলী হামিদপুর আলহেরা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর আকিজ জুট মিলে ফোরম্যান পদে চাকরি করতো। করোনাভাইরাসের সময় সে চাকরি ছেড়ে বাড়িতে চলে আসে। বর্তমানে বিভিন্ন ঘেরে মাছ ধরার জন্য জাল টানে। আড়াই বছর আগে আহাদ আলীকে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেয়া হয়। বাড়িতে আহাদের স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনের কোলে ৯ মাস বয়সের ফারজানা খাতুন নামে একটা মেয়ে আছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে প্রতিবেশী ইলিয়াজ গাজীর ছেলে ইমরান হোসেন ইমলাক বাড়ি থেকে আহাদ আলীকে ডেকে নিয়ে জয়ন্তা বাজারে যায়। সেখানে একটি দোকানে কেরাম বোর্ড খেলা করছিল আহাদ আলী ও একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী আকতার গাজীর ছেলে বাদল হোসেন। একটি ফোন পেয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাদলের মোটরসাইকেলে দুইজনে রূপদিয়া বাজারে যায়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে নরেন্দ্রপুর গ্রাম পার হয়ে মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এবং বারপাড়া গ্রামের মাঝে মাঠের মধ্যে মোশারফ হোসেনের জমির পাশে পৌছানোর পর কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের দুইজনের পথরোধ করে। এরপর তাদের দুইজনকে এলোপাতাড়িভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। এসময় ঘটনাস্থলে বাদল মারা যায়। আহত আহাদ চিৎকার দিয়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পথচারী ইকলাচ একটি ভ্যান এনে আহাদকে হাসপাতালে নেয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। আবার একশ’ গজের মত রাস্তায় গেলেই আহাদ মারা যান। আর এরই মধ্যে ঘাতকরা পালিয়ে চলে যায়। এরপর খবর পেয়ে নরেন্দ্রপুর ও বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এবং দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে চলে যায়। তবে ঘটনাস্থলটি মণিরামপুর থানাধীন হওয়ায় রাতে লাশ দুইটি মণিরামপুর থানা পুলিশ উদ্ধার করে। এরপর যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), কোতোয়ালি ও মণিরামপুর থানা পুলিশ বিভিন্নস্থানে খুনিদের ধরতে অভিযান চালায়। সারা রাত অভিযানে জিজ্ঞাসাবাদের ওই ৫ জনসহ ৭ জনকে আটকের গুঞ্জন রয়েছে। যদিও আটকের বিষয়টি পুলিশের পক্ষকে স্বীকার করা হয়নি।
নিহত বাদলের চাচা আরমান হোসেন বলেছেন, বাদল একটি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। মাঝে মধ্যে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালায়। বাড়িতে তার মা আঞ্জুয়ারা বেগম, স্ত্রী ময়না খাতুন ও ৭ মাস বয়সের তাসকিন আহম্মেদ নামে একটি ছেলে আছে। তার পিতা আকতার গাজী সৌদি আরবে আছেন। দুইটি বোনের বিয়ে হয়েছে। দ্রুত খুনিদের আটক ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
মণিরামপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কাজী নাজমুস সাকিব জানান, নিহত বাদলের মা আঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে ওইদিন রাতেই অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ১০। তিনি আরো বলেছেন এই ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। খুনিদের আটক এবং হত্যার ক্লু উদঘাটনের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে শুক্রবার দুপুরে ময়নাতদন্তের পর আছরের নামাজ শেষে জয়ন্তা গ্রামের স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসা মাঠে তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে।
অপরদিকে দুইজন নিহতের ব্যাপারে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বসুন্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম খান রাসেল। তিনি শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

 

 

 

শেয়ার