যশোরে ২১২ গৃহহীনের গৃহ উপহার

 ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জাহিদ হাসান
যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা গ্রামের জয়নাল খা (৭৫)। স্ত্রী ৪ ছেলে-মেয়ে ও পুতনিদের নিয়ে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৫ কাটা জমির উপর জরাজীর্ণ একটি মাটির ঘরেই কাটিয়েছেন জীবনের বেশির ভাগই সময়। ঘরের খড়ের ছাউনি দিয়ে বর্ষায় পানি পড়ে। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি স্বপ্নের ঘর পেয়েছেন। সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে তাকে ‘দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি’ নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের আওতায় গত মাসে তার বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়। সেই বাড়িটি আনুষ্ঠানিকভাবে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের অনুষ্ঠান গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়েছে। তার বাড়িসহ সারাদেশে ১৭ হাজার ৫টি ‘দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে জায়নালকে বাড়ির চাবি বুঝিয়ে দিয়েছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কর্মকর্তা। এখন তিনি সেই বাড়িতেই বাকি জীবন নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন।
দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি পেয়ে খুশি জয়নাল খা। তিনি সমাজের কথাকে জানান, পরের কৃষি জমিতে কাজ করেই সংসার চলতো। অনেক কষ্ট করে ৪ ছেলে-মেয়েকে মানুষ করেছি। এখনও কষ্ট করেই যাচ্ছি। অসুস্থ আর বয়সের সাথে শরীর নুয়ে পড়েছে। মাটির ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস করতাম। এখন সরকার থেকে একটি ঘর দিয়েছে। ইটের ঘর পাব তা স্বপ্নেও ভাবিনি। এখন শান্তিতে ঘুমাতে পারবো। দোয়া করি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্থভাবে আরও অনেকদিন বেচে থাকেন।
শুধু জয়নাল খা নয়, তার মতো যশোর জেলার ৮টি উপজেলায় অসচ্ছল, হত দরিদ্র, গৃহহীন পরিবার, বিধবা, প্রতিবন্ধী নারী-পুরুষ, অস্বচ্ছলরা আধা পাকা ২১২টি বাড়ি পেয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে জেলার ২১২টি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি দিয়েছে সরকার। এমন বাড়ি পেয়ে খুশি তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অসহায় এসব ভুক্তভোগী। তবে চাহিদার তুলনায় বাড়ি অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন অনেকেই।
জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ কর্মকর্তার অফিসসূত্রে জানাগেছে, ৪০০ বর্গফুটের ওপর বাড়িগুলো পাঁচ ইঞ্চি ইটের গাথুনি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ২ কক্ষের প্রতিটির দৈর্ঘ্য ১০ ফুট ও প্রস্থ ১০ ফুট। প্রতিটি ঘরে দুটি করে লোহার বা কাঠের দরজা-জানালা, অত্যাধুনিক রঙিন টিনের ছাউনি, বারান্দা, একটি রান্নাঘর, রান্না ঘরে যাওয়ার করিডোর ও স্বাস্থ্য সম্মত স্যানিটারি ল্যাট্রিন রয়েছে। এসব বাড়ি বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাত প্রতিরোধে সক্ষম। ২১২টি পরিবারের প্রতিটি বাড়ি নির্মাণ খরচ ২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা। যা মোট ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ৩২ লক্ষ ৭০ হাজার ৪৬০ টাকা। জেলার আট উপজেলার ২১২টি বাড়ির মধ্যে শার্শা উপজেলায় ২৮টি, চৌগাছা উপজেলায় ২৯টি, সদর উপজেলায় ২৪টি, ঝিকরগাছা উপজেলায় ২৫টি, বাঘারপাড়া উপজেলায় ২৮টি, অভয়নগর উপজেলায় ২৪টি, মণিরামপুর উপজেলায় ২৬টি ও কেশবপুর উপজেলায় ২৮টি ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীনদের বাড়ি দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ কর্মকর্তা হায়দার আলী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বিশেষ উদ্যোগ; দেশের কোনো মানুষ যেন বাস্তুহারা না থাকে সেই লক্ষ্যে কাজ করছেন তিনি। স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ও রান্নাঘর সুবিধাসহ এসব বাড়ি বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, বজ্রপাত প্রতিরোধে সক্ষম। ইতোমধ্যে ২১২টি বাড়িই সুবিধাভোগীদের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই প্রকল্প’র আওতায় আরো বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার কাজ প্রক্রিয়াধীন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীনদের বাড়ি দেয়া হচ্ছে যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিনব ও চমৎকার উদ্যোগ। বাড়িগুলো পেয়ে হতদরিদ্ররা এতো খুশি হয়েছেন যে তারা হাত তুলে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেছেন। আমরা সফলভাবে বাড়িগুলো তৈরি করতে পেরেছি। এতে করে গ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন হবে। তিনি আরও বলেন, তবে চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

শেয়ার