বিশেষ সম্পাদকীয়
সমাজের কথা’র যুগপূর্তি: শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা

যুুগপূর্তির মাইলফলক অতিক্রম করলো দৈনিক সমাজের কথা। প্রকাশনা শুরুর পর দৃপ্তপায়ে সুদীর্ঘ ১২টি বছর পার করলো পত্রিকাটি। আজ ১৩তম বর্ষে পদার্পণের শুভক্ষণ, শুভ জন্মদিন। ‘মানুষের কল্যাণে’র শ্লোগানে যাত্রা শুরু করা পত্রিকাটি সকলের সহযোগিতায় নতুন যুগের সিংহদ্বারে প্রবেশ করলো। আজকের এই শুভদিনে আমাদের অগণিত পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, বিপণনকর্মী, শুভাকাক্সক্ষী, শুভানুধ্যায়ীসহ সকলের প্রতি জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা।

‘দৈনিক সমাজের কথা’ নামে একটি নতুন পত্রিকা আজ থেকে ১২ বছর আগে যাত্রা শুরু করে। ২০০৮ সালের ১৪ অক্টোবর একঝাঁক উদীয়মান তরুণ সাংবাদিক নিয়ে শুরু হয় এই পথচলা। পরে যুক্ত হন আরো কয়েকজন প্রতিশ্রুতিশীল অভিজ্ঞ সাংবাদিক। তাদের মেধা, মনন এবং সৃজনশীল সাংবাদিকতায় অজ¯্র পত্রিকার ভিড়ে দৈনিক সমাজের কথা পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে। সত্য আর সুন্দরের পক্ষে এবং অন্যায়, অসত্য অকল্যাণ ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে পত্রিকাটি সবসময়ই সো””ার। আর আগামীতেও একই অবস্থানে থাকতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই নিরপেক্ষতা এবং ন্যায়বোধের আদর্শে অটল সমাজের কথা। বিগত একযুগে প্রিয় দেশ এবং স্বদেশবাসী তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কথা ও কণ্ঠস্বরকে তুলে ধরেছে সমাজের কথা। সেইসাথে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে দাঁড়িয়েছে সগৌরবে। এ কারণেই সমাজের কথার কাছে পাঠকদের প্রত্যাশা অসীম।

দীর্ঘ এই এক দশক পার করে আমরা আজও আমাদের যাত্রা পথে প্রতীতি ও প্রত্যয়ে সংকল্পবদ্ধ। জন্মলগ্ন থেকেই দৈনিক সমাজের কথা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। এই চেতনাকে ধারণ করে পথ পরিক্রমায় আমরা অসীম সাহসিকতা এবং নীতি নিষ্ঠাই অবলম্বন করে আসছি। পরম করুণাময়ের একান্ত সহায়তা এবং লাখো পাঠকের শুভেচ্ছা নিয়ে আমরা আমাদের এই অভিযাত্রা অব্যাহত রাখবো। পাঠকের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমাদের এই অদম্য অঙ্গীকার।

যদিও আমরা জানি, হয়তো প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির ব্যবধান রয়ে গেছে। সেটি স্বীকার করতে আমাদের কোনো কার্পণ্য নেই। এ ব্যবধান স্বীকার করে তা ঘুঁচিয়ে নিতেই আমাদের নিরন্তর সংগ্রাম। তবে সাধ ও সাধ্যের দূরত্বের অন্যতম কারণ নানা সংকট আর সীমাবদ্ধতা। মফস্বল শহর থেকে একটি রঙিন দৈনিক নিয়মিত প্রকাশ করে তা পাঠকপ্রিয় করে তুলতে কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি বিপুল বিনিয়োগ করতে হয়। তারপরও মাসের পর মাস টানতে হয় লোকসানের ঘানি। সরকারি যৎসামান্য যে বিজ্ঞাপন মেলে, তার মূল্যহারও যৎকিঞ্চিৎ। আর বেসরকারি বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও রয়েছে ‘অসুস্থ’ প্রতিযোগিতা। তারপরও মফস্বলের একটি জেলা শহর থেকে পত্রিকা প্রকাশনার সংগ্রামের আঁচ আমরা পাঠককে স্পর্শ করতে দেইনি।

এই সংগ্রামের সঙ্গে এবছর যুক্ত হয়েছে করোনা মহামারী দুর্যোগ। তারপরও সমাজের কথা থেমে থাকেনি। অনেক জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা করোনা’র ভয়ে-আতঙ্কে এবং অর্থনৈতিক সংকটে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু সমাজের কথা সেই চ্যালেঞ্জটি নিয়েছে। ভয়ে সরে না গিয়ে সতর্কতার সাথে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালিয়ে গেছে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশনার কাজ। পাঠকের কাছে পৌঁছে দিয়েছে সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতিসহ বস্তুনিষ্ঠ ও আকর্ষণীয় সব খবর। সবসময় ব্যতিক্রমী ও বৈচিত্র্যময় সংবাদের সমাহার আর চমৎকার অঙ্গসজ্জায় প্রতিদিন খবরের কাগজটি পাঠকের হাতে তুলে দিতে আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই।

তথ্য প্রযুক্তির এই সোনালী সময়ে পিছিয়ে নেই সমাজের কথাও। পাঠকের চাহিদা পূরণে আমাদের অভিযাত্রায় রয়েছে অনলাইন ভার্সন ও ই-পেপার। আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে সমাজের কথা অনলাইনকে ২৪ ঘণ্টাই তৎপর রাখার। পাশাপাশি প্রকাশনার কলেবর বৃদ্ধি’র পরিকল্পনাও রয়েছে।

আমরা জানি, কালের পরিক্রমায় সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রে এসেছে অনেক বৈচিত্র্য। প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নিত্যনতুন আঙ্গিক। সমাজের কথাও সেই নতুন ধারাকে ধারণ করে এগিয়ে যাবে, তুলে আনবে মাটি-মানুষের আরও জীবনঘনিষ্ঠ খবর। সমাজের কথার কর্মীদের এই নিরন্তর প্রচেষ্টা শুধুই পাঠকদের জন্য। তাই আমাদের পথচলাকে আরও সুদীপ্ত ও সমৃদ্ধ করতে চাই আপনাদের অকুণ্ঠ ভালবাসা, মূল্যবান পরামর্শ এবং সর্বোপরি গঠনমূলক সমালোচনা। আমরা পাঠকদের আশ্বস্ত করতে চাই, দুর্যোগ, দুর্বিপাক কিম্বা সমস্যা-সঙ্কট যা-ই আসুক না কেন, তা মোকাবেলা করে প্রতিদিন তরতাজা খবর নিয়ে আমরা পৌঁছে যাবে আপনাদের দোরগোড়ায়।

জন্মদিনের শুভক্ষণে ‘থাকুন সমাজের কথা’র সাথে। সমাজের কথা থাকবে দেশের সাথে; জনমানুষের সাথে।

শেয়ার