কবি, কবিতা ও একজন লুইস গ্লুক

12

চিররঞ্জন সরকার
কবিতা আবার কোন কাজে লাগে? কবিতার কোনও সেনসেক্স হয় না, কবিতার কোনও বাজার নেই। কবিতা কি এক ইঞ্চিও উপকার করতে পেরেছে মানুষের? ল্যাটিন ভাষাভাষী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তবু জন্ম-মৃত্যু-বিবাহ— এই তিনটি সময়ে তিনটি ল্যাটিন শ্লোক আর তিনটি সংস্কৃত পদ্য প্রয়োজন পড়ে বটে, এর বাইরে কবিতার প্রয়োজন কী? কবিরা অবশ্য কোনো রকম সমালোচনা ও লাভালাভের আশা না করেই কবিতা লিখে যান। আর কবিতা বিরোধীরা কবির নামে, কবিতার নামে সমালোচনা চালিয়ে যান।
কবি ও কবিতা নিয়ে সমালোচনা অবশ্য আজকের বিষয় নয়। আড়াই হাজার বছর আগে আরও মারাত্মক কথা উঠেছিল, কবিদের নির্বাসন দেওয়া হোক। যে প্রাচীন গ্রিসে কথাটা উঠেছিল, সেই গ্রিসই ছিল ইউরোপীয় কবিতার ভিত্তিভূমি।
একটা পেসমেকার যেমন কাজে লাগে, একটা হুইলচেয়ার যেমন কাজে লাগে, কবিতা কি তেমন কোনও কাজে লাগে? কবিতা লিখেও তো কবিরা তেমন কিছুই পান না। টাকা নেই, পয়সা নেই, মান নেই, মর্যাদা নেই। কবি-খ্যাতি? সে-ও তো আজ আছে, কাল নেই। তা হলে পৃথিবী জুড়ে পাঁচ শতাধিক ভাষায় কেন প্রতি দিন লেখা হয়ে চলেছে কবিতা? কবিতাই কি মনুষ্য প্রজাতির আদিমতম ও আধুনিকতম শিল্প যা মুদ্রাকে, টাকাকে, ক্যাপিটালকে তাচ্ছিল্য করে নিঃশব্দের তর্জনি দিয়ে?
জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন ‘পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন।’ এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অসুখের নাম ‘জেনোফোবিয়া’। তুমি কি আমার মতো দেখতে? তুমি কি আমার মতো কথা বলো? তুমি কি আমার মতো করে ধর্মাচরণ করো? উত্তর ‘না’ হলে আমি তোমাকে ঘৃণা করব। এই অসুখ আটলান্টিক টপকে ইউরোপ হয়ে ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান হয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বা উলটোটা।
মাহমুদ দারবিশ প্যালেস্টাইনের কবি। তিনি ইজরায়েলে ঢুকতে পারতেন না। পৃথিবীর সবচেয়ে বিষণ্ণ হাইফেনের নাম প্যালেস্টাইন-ইজরায়েল। তিনি সেই হাইফেন মাথা দিয়ে সরিয়ে উঠে দাঁড়াতে চেয়ে লিখলেন সেই কবিতা, ‘আমি একজন আরব, আমার কার্ড নম্বর ৫০০০০, আমার চুল চারকোল, চোখ ব্রাউন, আমার আটটা ছেলেমেয়ে।’ তারপরই লিখলেন, ‘অলিভ গাছ যদি জানত তাকে কারা বড় করেছে, তা হলে অলিভ থেকে তেল বেরত না। বেরিয়ে আসত চোখের জল।’ ইজরায়েল অধিকৃত প্যালেস্টাইনের লেখক ওডেহর বলেছেন, এই কবিতা কত মানুষকে কথা বলতে শিখিয়েছে। আমরা তো বেশির ভাগ সময়ই কথা বলতে পারিনি। কবিতা তা হলে ভয়কে অতিক্রম করতে পারে? আতঙ্কের কাঁধে বসে কৌতুক করতে পারে ‘ইউএসএ/ হোয়্যার/ দ্য লিবার্টি ইজ আ স্ট্যাচু!’

কবিতা ফ্যাসিজমের সামনে উঠে দাঁড়িয়েছে বার বার। কিন্তু কবিতার ক’টা মাথা? দারবিশ বলেছিলেন, কবিরা ভেবেছিলেন, কবিতা লিখে সমাজ পালটে দেবেন। দূর বোকা ছেলের দল। কবিতা লিখে কাউকে পালটানো যায় না। শুধু চোখের কোণায় একটা অশ্রুবিন্দুর অর্ধেক বেরিয়ে আসে। আর অর্ধেক থেকে যায়— দুই অর্ধেক নিয়ে মানবজাতির কবিতা। পাঁচ হাজার বছরের দুর্যোগ তাকে বিনাশ করতে পারেনি। এখনও একটা কবিতা পেসমেকার, এখনও একটা কবিতা হুইলচেয়ার, এখনও একটা কবিতা আগ্নেয়গিরির ওপর বসে থাকা প্রজাপতি, এখনও একটা কবিতা হলুদ লাগা মায়ের আঁচল!

দুই.
মাত্র আঠেরো বছর বয়সে কবিতায় হাতে খড়ি। ২৫ বছর বয়সে প্রথম কবিতার বই ‘ফার্স্টবর্ন’। লুইস গ্লুক। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থই সাড়া ফেলে দিয়েছিল সাহিত্যের জগতে। তারপর আস্তে আস্তে বেড়েছে পরিধি। এর আগে কবি গ্লুক ১৯৯৩ সালে পুলিৎজার পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। এবং ২০১৪ সালে ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন। এবার তার মুকুটে জুড়ল নোবেলের পালক। কৃতী মার্কিন কবি লুইস গ্লুককে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দিয়ে নোবেল কমিটির সদস্যরা যেন নিজেরাও খানিকটা শুদ্ধ হলেন!
গত দুবছর সমালোচনার কাঁটায় বিদ্ধ হয়েছিল নোবেল কমিটির এই পুরস্কার। ২০১৮ সালে নোবেল কমিটির এক সদস্যের স্বামী ও জনপ্রিয় আলোকচিত্রী জ্যঁ ক্লদ আর্নোর বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনা হয়। যৌন কেলেঙ্কারির পাশাপাশি বিজয়ীর নাম ফাঁস করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিতর্কের মুখে স্থগিত করা হয় ২০১৮ সালের সাহিত্যে নোবেল প্রদান। ২০১৯ সালে এই বিভাগে নোবেল জেতেন অস্ট্রিয়ান লেখক পিটার হান্দকে। তার বিরুদ্ধে সার্বিয়ার নেতা স্লোবোদান মিলোসেভিচের বলকান যুদ্ধকে সমর্থনের অভিযোগ রয়েছে। এমন একজন লেখক সাহিত্য বিভাগে নোবেল জেতায় তুমুল সমালোচনা হয়। এবার নোবেল কমিটি মার্কিন কবি লুইস গ্লুককে বেছে নিয়ে নিজেরাও যেন সম্মানিত হলেন।
মার্কিন নারী কবি লুইস গ্লুক সম্পর্কে নোবেল কমিটি জানিয়েছে, এই পুরস্কার তিনি পেয়েছেন কাব্যভাষ্য ও দার্শনিক সৌন্দর্যবোধের জন্য। তার এই দুই গুণ ব্যক্তিসত্তাকে সর্বজনীন করে তোলে।
যে কবিতা তাকে ফিরিয়ে এনেছিল মৃত্যুর থেকে, সেই কবিতায় এবার তাকে পাইয়ে দিল শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান। আমেরিকার সেই আশ্চর্য কবির জীবনের গল্পটাও তার কবিতারই মতো। কৈশোরে হঠাৎ মনের মধ্যে বাসা বেঁধেছিল একটি আতঙ্ক। মনে হতে থাকে, তিনি বোধহয় মোটা হয়ে যাচ্ছেন। তার শরীর দেখে সবাই বুঝি গোপনে হাসাহাসি করছে। আর এই আতঙ্ক থেকে ক্রমশ খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দিলেন লুইস গ্লুক। না খেয়ে শরীর ভেঙে পড়তে থাকল। এমনকি একটা সময় তার বেঁচে থাকাও প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ে যায়। লুইস গ্লুক লিখেছিলেন, তিনি বুঝতে পারছেন তার মৃত্যু আর বেশি দূরে নেই। কিন্তু তিনি মরতে চান না।

নিউ ইয়র্কের জর্জ হিউলেথ হাই স্কুলের ছাত্রী লুইস। ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখতেন, পা রাখবেন শিল্পের জগতে। ছবিতে বা কবিতায় সাজিয়ে তুলবেন এই পৃথিবীকে। কিন্তু তার নিজের জীবনই অসময়ে ওলটপালট হয়ে গেল। মানসিক অসুস্থতার কারণে ছাড়তে হলো পড়াশোনা। আর সেই অসুস্থতার নাম অ্যানোরেক্সিয়া, অর্থাৎ স্থূল হওয়ার আশঙ্কা। চিকিৎসকদের সাহায্য নিতে হলো শেষ পর্যন্ত। কিন্তু তার থেকেও বেশি করে আশ্রয় পেয়েছিলেন কবিতার কাছেই। ছোটবেলায় বাবা-মা যে সমস্ত কবিতার বই কিনে দিয়েছিলেন, তার মধ্যেই একটা অন্য জগতের সন্ধান পেলেন লুইস। ঠিক করলেন, এই রক্ত-মাংসের অস্তিত্বের বাইরে যে বিশুদ্ধ আত্মা আছে, তাকেই জাগিয়ে তুলবেন তিনি।
১৯৬১ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন, আর তার পর থেকেই শুরু কবিতা লেখা। বয়স তখন মাত্র ১৮ বছর। ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হলো লুইসের প্রথম কবিতার বই, ‘ফার্স্টবর্ন’। কবিতার মধ্যেই নিজের জীবনকে মেলে ধরলেন। তার সমস্ত কবিতাই যেন মনে হয় কোনো এক অতৃপ্ত জীবনের মনের যন্ত্রণার কথা। তবে সেই যন্ত্রণা কবির একার নয়। সেই যন্ত্রণা পাঠকেরও। আরও ভালোভাবে বলতে গেলে তা সর্বজনীন। রূপকে বারবার তুলে এনেছেন গ্রিক ও রোমান উপকথার চরিত্রদের। সময়ের মানচিত্রও ভেঙে গিয়েছে তার বর্ণনায়।
‘ফার্স্টবর্ন’ প্রকাশিত হওয়ার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হলো ‘দ্য হাউস অফ মার্সল্যান্ড’ আর ১৯৮০ সালে ‘ডিসেন্ডিং ফিগার’। এই তৃতীয় বইটিই তার সবচেয়ে আলোচিত কবিতার সংকলন।
সাহিত্য সমালোচকদের মতে, মৃত্যু, জরা, অবসাদ, বিরহ, ফিরে ফিরে এসেছে তার কবিতার মধ্যে। এটাই তার সবচেয়ে প্রিয় চিত্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম। এর পাশাপাশি, তার লেখায় উঠে এসেছে মানসিক চাহিদার কথাও। মানুষের অস্তিত্বের চাহিদা, প্রেমের আকাঙ্ক্ষার মত বিষয়গুলিও ধরা দিয়েছে তার কবিতায়। আছে লিঙ্গ প্রসঙ্গও।
অত্যন্ত সহজভাবে গভীর কথাটি উচ্চারণে তার পারঙ্গমতা প্রবাদপ্রতিম। কোনো কিছুই যে চূড়ান্ত নয়, কোনো কথাই যে শেষ কথা নয় এবং নিশ্চয়তা যে এক কুহকের নাম তা খুব স্পষ্ট করে বলেছেন তিনি। তার উচ্চারণ: ‘‘অল হিউম্যান বিংগস আর ডিভাইডেড/ইনটু দোজ হু উইশ টু মুভ ফরোয়ার্ড/অ্যান্ড দোজ হু উইশ টু গো ব্যাক’’ অর্থাৎ মানবজাতি বিভাজিত আজ দুইদলে/একদল চলে সম্মুখে/তো অন্যরা পেছনে চলে।
তার প্রতিটি কবিতা অত্যন্ত জীবন্ত ও নিরাভরণ। বিশ্বাসের তত্ত্বগুলো গ্রহণের ব্যাপারে তার দ্বিধাহীন ইতিবাচক মনোভঙ্গির জন্যে তাকে তুলনা করা হয় আরেক অসামান্য কবি এমিলি ডিকিনসনের সঙ্গে। ‘আভারোনো’ গ্লুকের শ্রেষ্ঠ কাব্যগুলোর একটি। আভারোনো দক্ষিণ ইতালির একটি ছোট গর্তের হ্রদ, এটি প্রাচীন রোমানরা প্রেতলোক বা পাতালের প্রবেশপথ হিসাবে বিবেচনা করতেন। গ্লুকের বর্ণনায় এটা হয়ে ওঠে পৃথিবীর এক প্রবেশপথ, যেখানে পারাপারের আহবান আছে, কিন্তু নেই পুনর্মিলনের সম্ভাবনা। আভারোনো এক দীর্ঘ বিষাদময় বিরামহীন গীতিকবিতা, যেখানে নেই প্রচলিত প্রতিজ্ঞা বা সান্ত¡না, নেই বিড়ম্বিত বর্বরতার জন্য সামান্য অনুশোচনা। আভারোনো আসলে আগমন বা প্রস্থানের মানচিত্র নয়, আমরা যেখানে আছি, সেই স্থায়ী বর্তমানের এক মর্মস্পর্শী স্থির চিত্র।

রূপকের মাধ্যমে তিনি নিজের জীবনের পথপরিক্রমা বর্ণনা করেছেন অত্যন্ত সহজ ভাষায়। পাকা পিচফল কবিতায় যেমন তিনি বলেছেন: এ পিচ ইন এ উইকার বাস্কেট।/দেয়ার ওয়াজ এ বোল অফ ফ্রুট।/ফিফটি ইয়ারস। সাচ এ লং ওয়াক/ফ্রম দ্য ডোর টু দ্য টেবিল (বেতের ঝুড়িতে একটি পিচফল।/একটা ফলের বাটি।/জীবনের পঞ্চাশ বছর। অনেক দীর্ঘপরিভ্রমণ/দরজা থেকে টেবিলে)।
গ্লুকের কবিতায় রূপকের পাশাপাশি আক্ষরিকভাবে জাগিয়ে রাখার উপাদান আছে, বড় বেশি ব্যাখ্যা ছাড়াই পাঠককে গভীর কোনো চিত্র বা দৃশ্যে নিমগ্ন করে। তার কবিতার কেন্দ্রে শৈশব, পারিবারিক জীবন, বাবা-মা, ভাই-বোন এবং নিকটজনদের সম্পর্ক গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
গ্লুকের কবিতা যেন অন্য এক জীবনের কথা বলে। ২০১৪ সালে তার শেষ বই ‘ফেইথফুল অ্যান্ড ভার্চুয়াস নাইট’ প্রকাশিত হয়। তার আগে একের পর কবিতাগুচ্ছ প্রকাশিত হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রকাশিত হয়েছে একাধিক প্রবন্ধ গ্রন্থও। ১৯৯২ সালে তার বিখ্যাত কবিতার বই ‘দি ওয়াইল্ড আইরিশ’ সাহিত্য দুনিয়ায় এক তরঙ্গ তৈরি করেছে। সেই বইয়ের জন্যই পুলিৎজার পেয়েছিলেন তিনি। এই বইয়ের ‘স্নোড্রপস’ কবিতায় তিনি শীতের পরে জীবনের অলৌকিক প্রত্যাবর্তন অসাধারণ সুন্দরভাবে ব্যাখা করেছেন।
জীবন, পুনরুজ্জীবন, উপকথা আর মিথের ধ্রুপদী প্রয়োগ তার কবিতাকে কালজয়ী কবিতার ধারায় প্রবহমান রেখেছে। জগৎ-জীবনের প্রতি শৈশবে যে দৃষ্টিতে আমরা তাকাই তার মাহাত্ম্য কবির বিবেচনায় অনতিক্রম্য। গ্লুক লিখেছেন: উই লুক অ্যাট দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়ান্স, ইন চাইল্ডহুড, দ্য রেস্ট ইজ মেমোরি (শৈশবে আমরা জীবনের দিকে একবার তাকাই! বাকিটা কেবলই স্মৃতি)।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গত তিন দশকে বহু কবি ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হয়েছেন, আবার নীরবে হারিয়েও গেছেন। কিন্তু এর মধ্যে গ্লুক হচ্ছেন ধ্রুবতারার মতো। তিনি কবিতার আকাশে জ্বলজ্বল করে দীর্ঘদিন ধরে টিকে রয়েছেন। এখনও অবধি মাত্র ১২টি বই লিখেছেন লুইস গ্লুক। কিন্তু তার মধ্যেই পাঠক এবং সমালোচকদের নজর কেড়ে নিয়েছেন তিনি। ৭৭ বছর বয়সী লুইস গ্লুক জীবনে হতাশার চরমতম গভীরতায় নিজেকে দেখেছেন, পুড়িয়ে যাচাই করে নিয়েছেন, তাই তার লেখনিতেও সেই অবসাদের চিহ্ন ঝরে পড়ে।
একসময় মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন কবিতার বুকে। সেই কবিতাই এনে দিল জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান। কবিতাই তো পারে মানুষের রক্ত-মাংসের অস্তিত্ব থেকে মুক্তি দিতে। আর সেই উড়ানের আরেক নাম লুইস গ্লুক।