যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা

সমাজের কথা ডেস্ক ॥ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর সহিংসতার আশঙ্কা করছেন দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। তারা জানান, কিছু গোষ্ঠী সহিংসতার উসকানি ছড়িয়ে দেয়ার কাজ করছে। সহিংসতা ও আত্মরক্ষার জন্য বন্দুকও বিক্রি হচ্ছে প্রচুর। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ফলে প্রচারাভিযান এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে অনেক ভোটার রয়ে গেছেন, যারা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি কাকে ভোট দেবেন। দুই প্রার্থী ট্রাম্প ও বাইডেন উভয়েই চেষ্টা করছেন এই ঝুলন্ত ভোটারদের কাছে টানতে। তবে এই ভোটারদের অনেকেই এই দুই প্রার্থীর কাউকে নিয়েই খুশি নন। তারপরও নির্বাচনী প্রচারণায় ঝুলন্ত ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প ও বাইডেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের মধ্যে ভোটের লড়াইটি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। এটা নাগরিক অস্থিরতা এমনকি সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্বকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এই উদ্বেগের একটি চিত্র মিশিগানে উঠে এসেছে। রাজ্য গভর্নর অপহরণ ও রাজ্যভবনে হামলা চালানোর জন্য ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ডেভিড পাওয়েল বলেছেন, সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো সন্ত্রাসীরা নাগরিকদের অধিকার রক্ষা, সম্পত্তি ও জীবন রক্ষার জন্য পক্ষ নিতে বাধ্য করতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বর্ণবৈষম্য নিয়ে বেশ কিছু আন্দোলন হয়েছে। বেশির ভাগ সময়ই তা ছিল শান্তিপূর্ণ। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ডানপন্থী ও বামপন্থী সহিংসতা চালিয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারিতে এমনিতেই টালমাটাল যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেকারত্ব সমস্যা এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচন মিলে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছে। উত্তর ক্যারোলাইনার রেলিগ নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমি কোনো দলের সমর্থক নই, হতেও চাই না, আমি নিয়মিত সংবাদ পড়ি। এই সংবাদ পড়ে আমি সত্যিই উদ্বিগ্ন।’ রেলিগ বলেন, তিনি উদ্বিগ্ন ‘অ্যান্টিফা থাকস’ নিয়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রক্ষণশীলরা এই কথাটি ফ্যাসিবাদীদের প্রতিরোধ করতে বলেন। তিনি আরো বলেন, ‘প্রয়োজনে আমার সম্প্রদায়কে রক্ষা করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি ‘
সহিংসতা এড়াতে অনেক নাগরিক নির্বাচনের সময় বিদেশ কিংবা গ্রামে যাচ্ছেন। অনেকে বন্দুকও কিনে রেখেছেন। এফবিআইয়ের তথ্যমতে শুধু জুন মাসে ৩৯ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রিও হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আইনজীবী বলেন, ‘আমি একটি একে-৪৭ রাইফেল কিনেছি। এটি এখনো সহজলভ্য। সাবধানতা অবলম্বন করে রাখতে তো হবে।’ ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে বামপন্থী কর্মী ড্রি মিলার ডানপন্থীদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে সহিংসতা রোধে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (৬ অক্টোবর) প্রতিবেদন অনুসারে, কিছু সন্ত্রাসী ছোট ছোট সহিংসতা বাড়াতে পারে। নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন মনে করেন রাজনৈতিক লক্ষ্যকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সহিংসতা ন্যায্য। নির্বাচনে বড় কোনো সহিংসতা না হলেও ছোট ছোট সংঘাতগুলোর প্রভাব অনেক বেশি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সহিংসতা ছড়াতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও ব্যবহার করা হচ্ছে। ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতার ভিডিও ছড়ানো হয়। বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার দৃশ্য প্রচার করা হচ্ছে। ভুল তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সহিংসতা ছড়ানোর অভিযোগে ৬ হাজার ৫০০ পেজ ও গ্রুপকে বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু এখনো লাখ লাখ মানুষ অনলাইনে আছে, যারা সহিংসতা ছড়াতে পারে।
কলোরাডো রাজ্যে ব্যবসায়ী মিশেল মরিন আত্মরক্ষার জন্য প্রতিবেশীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।প্রতিবেশীরা মিলে সবার ঘরবাড়ি রক্ষার্থে বামপন্থী সন্ত্রাসীদের রুখতে এক হয়েছেন। স্টেফিয়ানো পোর্তা ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর নাগরিকদের ভোট সম্পর্কে শিক্ষিত করে তুলেছেন এবং আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি একজন ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মী। তিনি বলেন, ‘সহিংসতা কমানোর জন্য আমরা জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

 

 

 

 

 

 

 

শেয়ার