করোনার মধ্যে যশোরে কোচিং সেন্টার খুলে চলছে ক্লাস

 জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তারা কেউ জানেন না

সালমান হাসান রাজিব
করোনার সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় এখনো স্কুল-কলেজ খোলার সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি। অথচ চলমান মহামারি পরিস্থিতির মধ্যেই যশোরে কোচিং সেন্টার গুলো খুলতে শুরু করেছে। এমনকি ইতিমধ্যে অনেক কোচিং সেন্টারে ক্লাসও চালু হয়েছে। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় সরকারি নিষেধ উপেক্ষা করে নির্বিঘ্নে এই কোচিং ব্যবসা চলছে।
তবে জেলার শিক্ষা বিভাগ ও প্রশাসনিক সূত্র বলছে, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এভাবে কোচিং সেন্টার খুলে ক্লাস চালানো পুরোপুরি বেআইনি। নির্দেশ ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা যায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে চলতি বছরের মার্চ মাসের ১৬ তারিখে দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এদিন সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ নির্দেশ দেন তিনি। তারপর থেকে এখনো পর্যন্ত সেই নির্দেশ জারি রয়েছে। কোচিং চালুর ব্যাপারে নতুন করে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

এদিকে, পরিস্থিতি এখনো এমনই যে চারপাশে অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকে মারাও যাচ্ছে। এছাড়া আসছে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ বাড়ার হার বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারও রয়েছে দোলাচলে। আর এমন অবস্থায় কোচিং সেন্টার চালু হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যশোর শহরের স্টেডিয়াম পাড়ার পৌর হর্কাস মার্কেট এলাকায় আলমাস একাডেমিক কেয়ার নামে একটি কোচিং সেন্টার করোনার মধ্যেও ক্লাস চালু রেখেছে। প্রতিদিন বিকেল হলে বই খাতার ব্যাগ হাতে শিশুদের সঙ্গে অভিভাবকদের কোচিং সেন্টারটিতে আসা- যাওয়ার দৃশ্য নজরে পড়ে। বাবার সাথে মোটরসাইকেলে চেপে, মায়ের সাথে করে শিশুদের সেখানে আনাগোনা চলে। সম্প্রতি দেখা যায়, এক অভিভাবক শিশুকে পেছনে বসিয়ে মোটর সাইকেলের হাতলে ব্যাগ ঝুঁলিয়ে কোচিং সেন্টারের ভেতরে প্রবেশ করছেন।

এদিকে শহরের জিরো পয়েন্ট মোড় এলাকার ম্যাক্স কোচিং সেন্টারেও বেশকিছু দিন ধরে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা বেড়েছে। কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে শিক্ষার্থীদের ইদানিং সেখানে ক্লাস করতে আসা যাওয়া করতে দেখা যাচ্ছে। সেখানে ব্যাচ করে পাঠদান শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই রকম দৃশ্য শহরের রেলগেট মুজিব সড়কের পাশে পিকাসো কোচিং সেন্টারেও। প্রতিষ্ঠানটি অগোচরে কোচিং ক্লাস চালু রেখেছে।

যোগাযোগ করা হলে পিকাসো কোচিং সেন্টারের পরিচালক জাহিদ হাসান মিলন জানান, এখনো সেভাবে ক্লাস শুরু না হলেও প্রস্তুতি চলছে। এখন মূলত ভর্তি কার্যক্রম চলছে। আর শিক্ষকদের কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে অল্পকিছু শিক্ষার্থী পড়াচ্ছেন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্লাস কার্যক্রম এখনো চালু হয়নি।

করোনার কারণে কোচিং ক্লাস বন্ধের ব্যাপারে জারি করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এএসএম আব্দুল খালেক বলেন, সরকারের তরফ থেকে কোচিং চালুর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি। তাই কোনোভাবেই কোচিং সেন্টার খোলা রাখার সুযোগ নেই। বিষয়টি তিনি জেলা প্রশাসনকে অবগত করবেন যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যায়।

এদিকে ম্যাক্স কোচিং সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এসএস রাজিব জানান, এখনো পুরোদমে ক্লাস চালু হয়নি। অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস চলছে। আগে সকাল বিকাল অনেকগুলো ব্যাচ চলত। এখন মাত্র ১০ থেকে ১২জন শিক্ষার্থী নিয়ে একেকটি ব্যাচের ক্লাস করানো হচ্ছে।

যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাম্মী ইসলাম বলেন, কোচিং সেন্টার খোলা রেখে ক্লাস চালানোর বিষয়টি তিনি অবগত নন। তিনি জানান, নিষেধ অমান্য করে এমনটি কেউ করে থাকলে সেটি বেআইনি। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার