যশোরে মধ্যরাতে বাসে নারী ধর্ষণ প্রধান অভিযুক্তসহ আটক ৭

 স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্ক বলছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ শুক্রবার মধ্যরাতে যশোরে বাসের মধ্যে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারী (২৫) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তিনি এখন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রথমে এটি গণধর্ষণ বলা হলেও পরবর্তীতে মনিরুল ইসলাম মনির নামে এক পরিবহন শ্রমিক তাকে ধর্ষণ করেছে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। এদিকে এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম মনিরসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। জব্দ করা হয়েছে সেই বাসটিও। ভুক্তভোগী ওই তরুণী রাজশাহীর একটি ক্লিনিকে আয়ার চাকরি করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে তিনি বাবার বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়ায় আসার জন্য রাজশাহী থেকে এমকে পরিবহনের একটি বাসে (যশোর-ব ১১-০১২৪) ওঠেন। বেশ রাতে বাসটি যশোর পৌঁছায়। ভুক্তভোগী তরুণীর বাবার বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে।
এব্যাপারে ওই তরুণী বাদী হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন। আসামিরা হলো, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের ওহিদুল ইসলামের ছেলে এবং এমকে পরিবহনের হেলপার। বর্তমানে মনিরুল যশোর সদর উপজেলার রামনগর ধোপাপাড়ার শহিদুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া। অন্যরা হলো, যশোর সিটি কলেজপাড়ার রনজিত কুমার বিশ্বাসের ছেলে কৃষ্ণ কুমার বিশ্বাস, সমর সিংহের ছেলে সুভাষ সিংহ, বারান্দীপাড়া কাঠালতলা বৌবাজার এলাকার জাবিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বারান্দী মোল্যাপাড়ার শফিকুল ইসলাম বাবুর ছেলে শাহিন আহম্মেদ জনি, আব্দুস সামাদের ছেলে কাজী মুকুল হোসেন ও বেজপাড়া কবরস্থান রোডের গোলাম মাওলার ছেলে মাইনুল ইসলাম। এই ৬ জনের ৩ জন ধর্ষণের চেষ্টা ও আর ৩ জন মারপিট করে।
ওই তরুণী জানান, রাজশাহী থেকে যশোরে বাড়ি ফেরার জন্য বিকেলে এমকে পরিবহনে ওঠেন ওই তরুণী। রাত ১১টার দিকে তিনি মণিহার এলাকায় গাড়ি থেকে নামেন। কিন্তু এত রাতে বাড়িতে ফেরার উপায় না থাকায় তিনি বাসেই অবস্থান করছিলেন। বাসটি যশোর শহরের বকচর কোল্ড স্টোর মোড়ে গিয়ে থামে। সেখানে তাকে হেলপার মনিরুল পানীয় দেয়। পান করার পরে তিনি গভীর ঘুমে ঢলে পড়েন। এরপর তাকে বাসের মধ্যে পরিবহন শ্রমিক মনিরুল ধর্ষণ করে। চেতনা ফিরে পেয়ে তিনি ‘ধর্ষণের শিকার’ হয়েছেন বলে বুঝতে পারেন। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই পলাশ বিশ্বাস তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
বর্ণিত ঘটনায় জড়িতদের আটক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ওই তরুণী। তবে পুলিশ অন্য কথা বলছে। এটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা নয় বরং প্রেমিকের সঙ্গে স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার ঘটনা বলে পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামানের ভাষ্য, গত রাত দেড়টার দিকে যশোর শহরের বকচর কোল্ড স্টোরেজ এলাকা থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। তার সঙ্গে বাসটির হেলপার মনিরের সর্ম্পক ছিল। মেয়েটি মনিরের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজশাহী থেকে যশোর আসে। মনিরের গাড়ি সকালের দিকে রাজশাহী থেকে যশোরে ছেড়ে আসে। আর রাজশাহী থেকে বিকেলে ছেড়ে আসা গাড়িতে ওই তরুণী যশোরে আসছিলেন। মণিহারের সামনে নেমে ওই তরুণী প্রথমে মনিরকে ফোন করে। মনির এসে তাকে নিয়ে রাজপ্রিয়া হোটেলে খাওয়া-দাওয়া করে। এরপর তারা দুইজনে বকচর কোল্ড স্টোর মোড়ে এমকে পরিবহনে চলে যায়। কিন্তু মনির এবং ওই তরুণী যখন মণিহারের সামনে কথা বলে তখন আটক অন্য ৬ জনে দেখে ফেলেন। ওই ৬ জনে মনিরকে অনৈতিক অবস্থায় ধরার জন্য পরামর্শ করে। এক পর্যায়ে রাত একটার দিকে ওই তরুণী মনিরের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার পরে প্রথমে তিনজনে সেখানে যায়। ওই তিনজনে তরুণীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়। কিন্তু রাজি হয় না তরুণী। এরই মধ্যে অন্য তিনজনে সেখানে চলে যায়। এসময় মনির এবং তরুণীকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। এসময় মনির দৌড়ে পালিয়ে যায়। মেয়েটি সেখানেই পড়ে থাকে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে থানা পুলিশ তরুণীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক জাহিদ হাসান হিমেল বলেন, ওই তরুণী শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার শরীর থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

শেয়ার