টেলিভিশনের চ্যানেল দেখা নিয়ে বিরোধ ॥  স্ত্রী হত্যার কথা স্বীকার করে স্বামীর আদালতে জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ টেলিভিশনের চ্যানেল দেখা নিয়ে বিরোধে স্বামীকে গালি দেয়ায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বৃষ্টি খাতুনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এমনই কথা স্বীকার করে যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন নিহতের স্বামী সাইফুল ইসলাম মনা সরদার। বিচারক মামুনুর রহমান জবানবন্দি শেষে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। সাইফুল ইসলাম মনা সরদার কেশবপুর উপজেলার পাঁচ বাকাবর্শি গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক সরদারের ছেলে।
সাইফুল ইসলাম বলেছেন, দুই বছর আগে একই উপজেলার চিংড়া বাজার এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে বৃষ্টি খাতুনকে বিয়ে করেন। মেঝো ভাই কাজের জন্য এলাকার বাইরে গেছেন। মেঝো ভাইয়ের স্ত্রী সন্তান সম্ভবা হওয়ায় তার বাবার বাড়িতে থাকেন। বড় ভাইয়ের স্ত্রী সন্তান প্রসব করে যশোর হাসপাতালে। সাইফুলের মা বড় ভাবির কাছে হাসপাতালে। ফলে সাইফুল স্ত্রীকে নিয়ে মেঝো ভাইয়ের ঘরে থাকেন। গত ৭ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে সাইফুল এবং তার স্ত্রী বৃষ্টি খাতুন টেলিভিশন দেখছিলেন। সাইফুল তামিল ছবি দেখবে আর তার স্ত্রী অন্য চ্যনেল দেখবে। এনিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় বৃষ্টি তার স্বামী সাইফুলকে গালি দেয়। এসময় সাইফুল বলেছে তুমি আমার মা-বাবা তুলে গালি দিলে কেন। বৃষ্টি বলছে এর চেয়ে ভাল কথা তোকে আর বলা যাবেনা। এক পর্যায়ে সাইফুল ঘর থেকে চলে যায়। বেশ কিছুক্ষণ পরে বারান্দা থেকে দা নিয়ে ঘরে গিয়ে দেখে বৃষ্টি টিভি চালিয়ে ঘুমাচ্ছে। এসময় দা নিয়ে বৃষ্টি বুকের উপর বসে বাম হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে ডান হাতে থাকা দা দিয়ে গলায় কোপ মেরে হত্যা করা হয়। বাড়ির পাশে আজিজুর রহমানের পুকুরে দা ফেলে দিয়ে বাইরে এসে চিৎকার করে কান্নাকাটি করে। এসময় আশপাশের লোকজন এলে সাইফুল বলেছে বৃষ্টির সাথে অন্য পুরুষের সম্পর্ক ছিল। তারা ৬/৭ জন এসে তাকে গলা কেটে হত্যা করেছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এই ঘটনায় বৃষ্টির পিতা বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ গতকাল কেশবপুরের গড়ভাঙ্গা বাজার এলাকা থেকে সাইফুলকে আটকের পর যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে। হত্যাকা-ের দায় স্বীকার করে সাইফুল আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
এদিকে এই ঘটনার মামলায় নিহত বৃষ্টির পিতার দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করেছেন, দুই বছর আগে মেয়ে বৃষ্টিকে পারিবারিকভাবে সাইফুলের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই সাইফুল মেয়েটিকে মারপিটসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করে আসছিল। কিন্তু মেয়েকে বুঝিয়ে সংসার করার জন্য চেষ্টা করা হয়। ঘটনার দিন বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে টেলিভিশন দেখাকে কেন্দ্র করে গলা কেটে হত্যা করে।

শেয়ার