যশোরস্থ এমএমডিএফ বিডির এক যুগে পথচলা
দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশে বিতর্কের আলোক শিখা

ফাইল ফটো

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ২০০৯ সালের কথা, যশোরের স্বপ্নপাগল যুবক জহির ইকবাল, সানজিদা ইয়াসমিনসহ কয়েকজন তরুণদের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে মাইকেল মধুসূদন ডিবেট ফেডারেশন। প্রতিষ্ঠার এক দশকেই যার আত্মপ্রকাশ ঘটে ‘মাইকেল মধুসূদন ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ’ হিসেবে। বর্তমানে মাইকেল মধুসূদন ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এমএমডিএফ বিডি) সমগ্র বাংলাদেশের বিতর্ক শিল্পের এক উজ্জ্বল বাতিঘর। শুধু দেশেই নয়, স্বদেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও বিতর্কের মশাল হাতে আলোক শিখা প্রজ্জ্বলন করতে সক্ষম হয়েছে এমএমডিএফবিডি। প্রতিবছর অসংখ্য বিতর্ক কর্মশালা, প্রতিযোগিতা, বিতর্কের ফ্রি ক্লাস ও উৎসবের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীরা যুক্তিবাদী হয়ে উঠছে এমএমডিএফ বিডি’র পরিচর্যায়। হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার স্মৃতি রোমন্থন করে গতপরশু এমএমডিএফ বিডি পার করেছে তার প্রতিষ্ঠার ১১টি বছর, পদার্পণ করছে ১২ বছরে।
বাংলা সনেটের জনক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভূমি যশোর। তার স্মরণেই ২০০৯ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে মাইকেল মধুসূদন ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ। ২০০৯ সালে যশোর সরকারি এম এম কলেজের একটি ক্যাম্পাস বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে জয় ছিনিয়ে আনেন জহির ইকবাল। সেটিই অনুপ্রেরণা এবং এখান থেকেই শুরু হয় এমএমডিএফ বিডি’র পথচলা।
প্রতিষ্ঠার শুরুতে এমএমডিএফ বিডি দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ এবং বিশ^বিদ্যালয় পর্যায়ে বিতার্কিক তৈরিতে কাজ শুরু করে। তবে সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকে কাজের পরিধি। ধীরে ধীরে যশোরের পাশ^বর্তী জেলাগুলো এবং একসময় এমএমডিএফ বিডি’র প্রসার ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলাগুলোতে। বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমএমডিএফ বিডি’র সক্রিয় শাখা তৈরি হয়েছে যেখানে নতুন নতুন তার্কিকদের নেতৃত্বে সৃষ্টি হচ্ছে বিতার্কিক যোদ্ধা।
এমএমডিএফ বিডি’র সদস্যরা এখন জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হচ্ছে। শুধু দেশই নয় ভারতের কোলকাতা, সিকিম, শ্রীলঙ্কা ও নাইজেরিয়া পর্যন্ত এমএমডিএফবিডি বিতর্কের আলোকশিখা ছড়িয়ে দিতে পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এপর্যন্ত এমএমডিএফ বিডি প্রায় ৩০০টির অধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতর্ক কর্মশালা ও ১১টি উৎসবের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থীর মাঝে বিতর্ক শিল্পের আলো ছড়িয়ে দিতে পেরেছে যা বিতর্ক শিল্পের ইতিহাসে একটি বিরাট মাইলফলক। ২০২০ সালে সমগ্র বাংলাদেশের সববৃহৎ বিতর্ক শিল্পের আয়োজন করতে সক্ষম হয় এমএমডিএফ বিডি যা সমগ্র বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক বিতার্কিদের একই ছায়াতলে আনতে সক্ষম হয়েছিলো।
এছাড়াও প্রতি সপ্তাহে বিতর্কের ফ্রি ক্লাস, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনলাইন ও অফলাইনে কুইক-কুইজ, একক বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা, রচনা লেখা প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন দিবস ও ইস্যুভিত্তিক বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন ছাড়াও প্রতিবছর বিতর্ক উৎসবকে সামনে রেখে ম্যাগাজিন ও বিতর্কের বই প্রকাশের মাধ্যমে তাদেরকে দক্ষ করে তুলছে এমএমডিএফ বিডি। পাশাপাশি প্রতিবছর ইযুথ ক্যাম্প, সাংগঠনিক ট্রেনিং, ক্যারিয়ার ও আচার-আচরণ বিষয়ক কর্মশালা, চাকরি প্রত্যাশিদের জন্য ক্লাস ইত্যাদি আয়োজনের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপকৃত হচ্ছে।
চলার পথে অতিক্রম করতে হয়েছে বহু বাধা-বিপত্তি। তবুও হার মানেননি তরুণ এ বিতার্কিক যোদ্ধারা। ফলস্বরূপ তাদের ঝুলিতে এসেছে বহু সম্মাননা। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘জাতীয় যুব পুরস্কার’ লাভ করে এমএমডিএফ বিডি’র চেয়ারম্যান জহির ইকবাল। এছাড়াও ২০১৭ সালে সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাত থেকে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ এ্যাওয়ার্ড’, ২০১৬ সালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির হাত থেকে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সক্রিয় বিতর্ক সংগঠনের সম্মাননাসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে এমএমডিএফ বিডি পরিবার।
এমএমডিএফ বিডি’র পথচলার একযুগে পদার্পন সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জহির ইকবাল বলেন, ‘আমাদের একটা স্বপ্ন ছিলো সমগ্র বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিতর্ক শিল্পকে পৌঁছে দেওয়া। প্রতিটি জেলার ভালো দিকগুলো নিয়ে তাদেরকে বিখ্যাত করে তোলা। নিজেদের নিরলস পরিশ্রম, সকলের ভালোবাসায় আমরা অনেকটাই সফল হয়েছি তবে পুরোপুরি নয়। আমাদের এ সফলতার পেছনের সকল উপদেষ্টা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শুভকাক্সক্ষী, সাংবাদিক ও তার্কিকযোদ্ধাদেরকে জানাই এমএমডিএফ বিডি’র পক্ষ থেকে অজ¯্র ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। বর্তমানে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেও আমরা সক্রিয় শাখা খুলে নতুন নতুন বিতার্কিক তৈরিতে দিনরাত কাজ করে চলেছি। আমরা বিতর্ক চর্চার মাধ্যমে একটি যুক্তিবাদী যুব সমাজ গড়ে তোলার স্বপ্নদেখি। যে যুব সমাজে কোন মাদক থাকবে না, থাকবে না সন্ত্রাস, ইভটিজিং, নারীর প্রতি সহিংসতা। থাকবে দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে আগামী দিনগুলোতেও এমএমডিএফ বিডি’র কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

শেয়ার