যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দুই প্রার্থীর দিনভর মিটিং গণসংযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে পুরোদমে চলছে প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন গ্রামের অলিগলি। রাত-দিন নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। গণসংযোগ-মিছিল, কর্মী-সমাবেশ, মাইকিং-পোস্টার ঝোলানোসহ নানা কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে সমগ্র নির্বাচনী এলাকা। এদিকে উপ-নির্বাচনে আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণে একটি ভিজিলেন্স টিম ও একটি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর টিম আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সিনিয়র নির্বাচন কর্মকতা হুমায়ন কবির।
প্রার্থীদের গণসংযোগ আর প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠছে আসন্ন সদর উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নিয়ে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন আধুনিক উন্নত সুযোগ সুবিধা উপজেলা গড়ার। প্রত্যেকেই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। আর ভোটাররা বলছেন, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবেন তারা। এ দিকে সোমবার রাত থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পোস্টারে-পোস্টারে ছেয়ে দিয়েছে কর্মী সমার্থকরা। নির্বাচনী আচারণবিধি মোতাবেক দুপুর থেকে শহর থেকে গ্রামের রাস্তাঘাট, অলিগলি ও পাড়া-মহল্লায় প্রচার হচ্ছে নৌকার ও ধানের শিষের স্লোগান মাইকিং। তবে বিএনপি কর্মী-সমার্থকদের অভিযোগ তারা মাইকিং প্রচার ও প্রার্থীর পোস্টার সাটাতে দিচ্ছে না নৌকার কর্মী-সমার্থক। সব মিলেই কোন অপ্রতীকর ঘটনা ছাড়ায় আসন্ন সদর উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে ৩য় দিন কাটলো দুই প্রার্থীর।
শহরের দড়াটানায় খাইরুল নামে এক রিকসা চালক বলেন, শহরের সোমবার রাতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পোস্টার টাঙ্গিয়েছে। পোস্টার টাঙ্গানের পরে এবার নির্বাচন নির্বাচন মনে হচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠ হলে হাড্ডাহাড্ডি ভোট হবে বলে জানান তিনি।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুর জাহান ইসলাম নীরা ব্যাপক গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মী সমাবেশ করে বেড়াচ্ছেন। তিনি নির্বাচনে শতভাগ বিজয়ী হওয়ার আশাবাদী। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের চুয়াডাঙ্গা স্ট্যান্ডে নৌকা প্রতীকে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করেন ভোটারদের মাঝে। এর পরেই সদর উপজেলার ইউনিয়নে কাশিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নৌকার পক্ষে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ভোটারদের উদ্দেশ্যে নুর জাহান ইসলাম নীরা বলেন, সরকারের উন্নয়ন অব্যহত রাখতে নৌকায় ভোট দিতে হবে। নৌকা ছাড়া এই দেশে উন্নয়ন সম্ভব না। ভারপ্রাপ্ত থাকাকালীন সময়েও আমি মানুষের জন্য সবসময় কাজ করেছি। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়িয়েছি। আশা করছি, ভোটাররা আমাকে বঞ্চিত করবেন না। তিনি সবাইকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে ভোটারদের কাছে অনুরোধ জানান। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, সাধারণ সম্পাদক ও আরবপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম, জেলা কৃষকলীগের সাবেক সহ-সভাপতি শেখ মতলেব বাবু, জেলা পরিষদের সদস্য হাজেরা পারভিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের দপ্তর সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন খোকন প্রমুখ। এছাড়া হৈবতপুর ইউনিয়ন ও চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নে কর্মী সমাবেশ ও ভোটাদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা ও লিফলেট বিতরণ করেন।
এ দিকে বিএনপি প্রার্থী নূর-উন-নবী মঙ্গলবার দিনভর প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে। সকাল থেকে রাত অবধি সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-মহল্লায় ভোটারদের মাঝে ভোট প্রার্থনা করেছেন। মঙ্গলবার সকালে বিএনপি প্রার্থী নূর-উন-নবী সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন। তিনি ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা, ঝুমঝুমপুর, হামিদপুর, বাউলিয়া বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন। তিনি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের হাতে ধানের শীষের লিফলেট তুলে দিয়ে ভোট ও দোয়া চান। বিকালে তিনি নগর বিএনপির আয়োজনে শহরের বিভিন্ন সড়কে গণসংযোগ করেন। রেলগেট মুজিব সড়ক থেকে শুরু হওয়া তার এই গণসংযোগটি নীলরতন ধর সড়ক, চার খাম্বার মোড়, রেল রোড হয়ে চৌরাস্তা মোড়ে এসে শেষ হয়। গণসংযোগ শেষে বিএনপি প্রার্থী নূর-উন-নবী সাংবাদিকদের বলেন, নেতাকর্মী সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। দুটি গণসংযোগে অংশ নেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম রেজা দুলু, প্রফেসর গোলাম মোস্তফা, আলহাজ্ব মিজানুর রহমান খান, নগর বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র মারুফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুনীর আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট হাজী আনিছুর রহমান মুকুল।

শেয়ার