যশোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে প্রচারের শুরুতেই হামলা-পাল্টা হামলার অভিযোগ

  • ঘটনার বিষয়ে দুই প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর সদর উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণার শুরুতেই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ শুরু হয়েছে। সোমবার প্রচারণার দ্বিতীয় দিনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছেন। হামলায় নিজের বহরে থাকা দুইটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর। আর আওয়ামী লীগ প্রার্থীর অভিযোগ বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে স্থানীয় যুবলীগ কার্যালয় ভাঙচুর করেছে।
আগামী ২০ অক্টোবর যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নুরজাহান ইসলাম নীরা এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুর-উন-ন্নবী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। রোববার প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়। আর সোমবার সকালে উপজেলার রূপদিয়া বাজার এলাকায় দুই পরে মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় দুইটি প্রাইভেটকার ও স্থানীয় যুবলীগ কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। এই ঘটনায় আহত কচুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, সকালের এই ঘটনার পর দুপুরে প্রেসকাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন ধানের শীর্ষের প্রার্থী নুর-উন-নবী। আর সন্ধ্যায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরজাহান ইসলাম নীরা।
নৌকার প্রার্থী সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, যশোরের হাসান-মিজানের হাত ধরে সন্ত্রাসের গোড়াপত্তন হয়। তারাই সন্ত্রাসের মূলহোতা। আর হাসান-মিজানের ভাই নুর-উন-নবী সেই সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিকভাবে প্রশ্রয়দাতা। হাসান-মিজানের অবর্তমানে এখন সেই সন্ত্রাসীদের দেখভাল করছেন ধানের শীর্ষের প্রার্থী। এই নির্বাচনে তার পোষ্য সন্ত্রাসীরা পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে। যার অংশ হিসেবে সোমবার সকালে নিজেদের মধ্যে হামলার নাটক সাজিয়ে পরে স্থানীয় যুবলীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। আর বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে সংবাদ সম্মেলন করে যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। নৌকার প্রার্থী হিসেবে আমার বিরুদ্ধে অপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এসময় নৌকার প্রার্থীর সাথে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মিন্টুনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এর আগে প্রেসকাব যশোরে বিএনপির প্রার্থী নুর-উন-ন্নবী সংবাদ সম্মেলনে তার উপস্থিতিতেই নেতাকর্মীদের ওপর ‘যুবলীগের সন্ত্রাসীরা’ হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেন। বলেন, রূপদিয়া বাজারে আমরা ধানের শীর্ষের নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গেলে স্থানীয় যুবলীগ নেতা রাজুর নেতৃত্বে সোহেল, সাগর, ওবায়দুল, পিন্টু, ইশারতসহ বেশ কিছু সন্ত্রাসী হামলা করে। সেখান থেকে আমরা কচুয়ার দিকে মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ আমাদের বাঁধা দেয়। পরে হামলায় আমাদের অন্তত সাতজন নেতাকর্মী আহত হন। যাদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে জেলা কমিটির আহ্বায়ক নার্গিস বেগম, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
শেয়ার