মধ্যরাতে বসল হাইকোর্ট : কেএস নবীর দুই নাতির নিরাপত্তা দিতে নির্দেশ আদালতের

সমাজের কথা ডেস্ক॥ সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল কেএস নবীর দুই নাতির সার্বিক নিরাপত্তা দিতে ধানম-ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
১১ অক্টোবর এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের দিন রেখে ওই দিন উভয় পকে (দুই শিশু ও তাদের চাচা কাজী কাজী রেহান নবী) লিখিত ব্যাখ্যাসহ আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।

সেদিন দুই শিশুকে আদালতে হাজির করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ধানম-ি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়াকে।

দুই শিশুর বাসায় ফেরা নিয়ে শনিবার মধ্যরাতে দেওয়া উচ্চ আদালতের আদেশের বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দেখে বিচারপতি বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।

ভার্চুয়াল আদালতে ধানম-ি থানার ওসির বাস্তবায়ন প্রতিবেদন তুলে ধরেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়ায়েস আল হারুনী।

আদেশে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, “আগামী ১১ অক্টোবর উভয় পকে আদালতে আসতে বলা হয়েছে ঘটনার লিখিত ব্যাখ্যাসহ। সে পর্যন্ত নাবালকদ্বয়ের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানের জন্য ধানম-ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হল।”

ওসি ইকরামকে উদ্দেশ্য করে বিচারক বলেন, “আপনি ১১ অক্টোবর পর্যন্ত জাস্ট এক-দুজন পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজ নেবেন তারা ঠিক আছে কিনা, এটা শুধু মনিটরিং করেন। এই শিশুদের মনে একটা ভয়-ভীতি আছে, ফলে তারা নিরাপদ বোধ করবে না।

“আজকের আদেশটা বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিব। আর ধানম-ি থানাকে বলছি, যিনি বাচ্চাদের বের করে দিয়েছেন, ওই বাসায় গিয়ে তাকে বলবেন আদালত বলেছেন, কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত বা পদপে না নিতে। সবাই যেন বাসায় অবস্থান করেন। তাদের বাড়ির নিরাপত্তা তাদেরকেই নিশ্চয়তা দিতে হবে। পুলিশ মানুষের জীবন রা করতে পারে না। আমরা নিজেরা নিজেরা যদি সচেতন না হই তাহলে কিছু হবে না। সুতরাং ব্যারিস্টার কাজী রেহান নবীকে বলবেন বাচ্চাদের যাতে কিছু না হয়।”

“উভয় পই যেন সচেতন থাকে। নাবালক যে দুই শিশু আছে তাদের বলবেন, সংযত আচরণ করতে। সংযত আচরণ করে যেন তারা বাড়িতে অবস্থান করে। কোনো উচ্ছৃঙ্খলতা যাতে না দেখায়। নাবালক বলতে আমরা যেমনটা ভাবছি সেরকম নয়। নাবালকদেরও আমরা দেখছি অপরাধ করতে। সুতরাং পুলিশ দিয়ে আগামী তারিখ পর্যন্ত বাচ্চাদের নিরাপত্তা দিবেন। এই শিশু দুটিকে নিয়ে আপনি কোর্টে আসবেন। আইনজীবী যদি থাকে তিনিও আসবেন।”
টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠান দেখে শনিবার মধ্যরাতে আদালত বসিয়ে আদেশ দিয়েছিল হাই কোর্টের এই বেঞ্চ। সেই আদেশের পর পরই সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল কেএস নবীর দুই নাতিকে বাসায় দিয়ে আসে পুলিশ।
শনিবার রাতে একাত্তর টিভিতে শিশু অধিকার নিয়ে এক আলোচনায় উঠে আসে, কেএস নবীর দুই নাতিকে বাসায় ঢুকতে দিচ্ছেন না তাদের চাচা। টকশোর শেষ দিকে বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের আদালত একটি স্বতঃপ্রণোদিত রুল ইস্যু করে ওই বাসায় শিশু দুটির থাকার ব্যবস্থা করতে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধানম-ি থানাকে নির্দেশ দেয়।
পরে সুপ্রিম কোর্ট থেকে ধানম-ি থানার ওসির সঙ্গে যেগাযোগ করা হলে পুলিশ শিশু দুটির থাকার ব্যবস্থা করে দেয় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব পালন করা কেএস নবী ২০১৮ সালে মারা যান।
তার দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে কাজী রেহান নবী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। ছোটো ছেলে সিরাতুন নবী গত ১০ আগস্ট মারা যান। সিরাতুন নবীর দুই ছেলেকে বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছিলেন না তাদের চাচা কাজী রেহান নবী।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী রেহান নবী রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি সময়মত বিষয়টা কারিফাই করব। আমার শরীরটা একটু খারাপ। পাঁচ দিন ধরে জ্বরে পড়ে আছি। আমি পুরো বিষয়টা নিয়ে রিজয়েন্ডার দেব। আপনি পরে যোগাযোগ করেন, আমি পুরো জিনিসটা কারিফাই করব।”

তাহলে আসলে কী ঘটেছিল প্রশ্ন করলে এই আইনজীবী বলেন, “আপনি তো সবই ওয়ান সাইডেড শুনেছেন। একটা গল্পের বিপরীত বা অন্য একটা দিকও থাকে সবসময়। যেটা ওরা আমাকে বাধ্য করতেছে, যেটা আমি বলব এবং দরকার হলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাব। আমার আব্বা উনার (প্রধানমন্ত্রীর) খুব কোজ ছিলেন। আমাকে কয়েকটা দিন সময় দেন, তারপর অবশ্যই আমি বলব।”

শেয়ার