করোনায় কেড়ে নিলো কলেজ জীবনের প্রথম দিন, অনলাইনে ক্লাস শুরু

জাহিদ হাসান ।। উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষাজীবনে প্রথম দিনের কাসে আনন্দ উচ্ছ্বাস থেকে বঞ্চিত হলো ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। করোনায় বদলে যাওয়া নতুন জীবনযাত্রার সাথে বদলেও গেছে তাদের শিক্ষাব্যবস্থার চলমান রেওয়াজও। সেই সাথে শিক্ষকরাও তাদের শিক্ষার্থীদের বরণ করতে পারলেন না। কলেজের প্রথম দিনে আনন্দ উৎসববিহীন কাস করলো শিক্ষার্থীরা। তবে কাস রুমে নয়; বদ্ধ ঘরে অনলাইনে হলো নতুন বর্ষের প্রথম কাস। করোনা ভাইরাসের কারণে এ উদ্যোগ নিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড।
জানা গেছে, করোনায় বদলে গেছে জীবনের স্বাভাবিক গতি। ধীরে ধীরে বন্ধ অফিস-আদালত, কলকারখানা খুলে দেয়া হলেও এখনো খোলা যায়নি স্কুল কলেজ। তবে লেখাপড়ার চাকা সচল রাখতে কাস চলছে অনলাইনে। এরই ধারাবাহিতকায় তিন মাস পিছিয়ে রোববার থেকে শুরু হলো একাদশ শ্রেণির কাস। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন কাস ঢাকা থেকে একযোগে উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানা গেছে, বোর্ডের আওতাধীন ৬শ’ কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী। কলেজগুলোতে ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে আবার কোন কোন কলেজ জুম অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইন কাস নিয়েছে।
যশোর সরকারি এমএম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর শেখ আবুল কওসার জানান, তার কলেজে স্ব উদ্যোগে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অনলাইন শুরু করা হয়েছে। ইউটিউব ও কলেজের ফেসবুক আইডিতে ভিডিও কাস দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে কাস করেছে। যারা কোন কারণে কাস করতে পারেনি তারা পরবর্তীতে সেই সকল ভিডিওগুলো ডাউনলোড করে দেখতে পারবেন।
এ বিষয়ে সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আহসান হাবিব জানান, তার কলেজে ফেসবুক, ইউটিউবের পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থী জুম অ্যাপসের মাধ্যমে কাস করেছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক একে এম গোলাম রব্বানি জানান, প্রতিবছর জুন মাসে কলেজ ভর্তি ও জুলাইয়ে একাদশের কাস শুরু হওয়ার রেওয়াজ ছিলো। করোনার কারণে এবছর তিন মাস পিছিয়ে একাদশের কাস শুরু হলো। ৩০ সেপ্টেম্বর ছিল একাদশ শ্রেণির ভর্তির শেষ সময়। আর ৪ অক্টোবর রোববার থেকে একাদশ শ্রেণির নতুন শিক্ষার্থীদের কাস নেয়ার জন্য বিভিন্ন কলেজে চিঠি দেয় আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সাব সাব-কমিটি। আন্তঃশিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাব কমিটির সভাপতি প্রফেসর জিয়াউল হকে ২৯ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তিনি করোনা ভাইরাসের কারণে কলেজ বন্ধ থাকায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া নতুন শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বিঘœ না ঘটে এজন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ নিতে বলেন। মহামারি পরিস্থিতিতে অনলাইনে হলেও কাস চালু হওয়াই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিার্থীরা। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত চলবে অনলাইন কাস। শিা প্রতিষ্ঠান খোলার পর এই পাঠদানের উপর মূল্যায়নও করা হবে বলে জানান বোর্ডের এই কর্মকর্তা।

শেয়ার