বাঘারপাড়ার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারসহ দুই খুনের তথ্য প্রমাণ সিআইডির হাতে

 ৪ বছর পর দেওয়া হচ্ছে মামলার চার্জশিট

ফাইল ফটো

লাবুয়াল হক রিপন
যশোরের বাঘারপাড়ার আব্দুল বারী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারসহ দুইজনকে হত্যার তথ্য প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি পুলিশ। তেল চুরির টাকা ভাগাভাগি এবং মাদক বিক্রিকে কেন্দ্র করে পাম্পের নজেলম্যানসহ চারজন এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়ার তথ্য প্রমাণ পেয়েছেন যশোর সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ। সর্বশেষ তিনি তদন্ত করে এমনটি নিশ্চিত হয়েছেন। এরআগে মামলাটি তদন্ত করেছিলেন বাঘারপাড়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছয়রুদ্দিন আহম্মেদ, এরপর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র পরিদর্শক এমদাদুল হক। ২০১৬ সালের ৫ জুন বাঘারপাড়া উপজেলার যশোর-নড়াইল সড়কের রঘুনাথপুরে আব্দুল বারী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারসহ দুইজন খুন হন। সদর উপজেলার ভায়না গ্রামের মাসুদুর রহমান ওই ফিলিং স্টেশনের মালিক। সকাল ৮টা থেকে প্রতিদিন রাত ৯টা পর্যন্ত ওই পাম্প খোলা থাকে। এরপর পাম্পের কার্যক্রম বন্ধ করে মালিক মাসুদুর রহমান বাড়িতে চলে যান। বাঘারপাড়ার দশপাখিয়া গ্রামের ওবায়দুর রহমান ওই পাম্পের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। একই উপজেলার নওয়াপাড়ার হুমায়ুন কবীর ক্যাশিয়ার, ঘোড়াগাছার হামিম এবং সদরের মুনসেফপুরের সিরাজুল ইসলাম নজেলম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিল। পাশাপাশি ক্যাশিয়ার হুমায়ুন কবীর ও অপর নজেলম্যান হামিম দ্বিতীয় সপ্তাহে রাতের বেলায় ডিউটি করেন। আবার তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ম্যানেজার ওবায়দুর ও নজেলম্যান সিরাজুল ডিউটি করেন। এভাবে তারা রাতে ডিউটি করেন। কিন্তু রাতে কোন লোক পাম্পের মধ্যে প্রবেশ এবং বাইরে যাওয়া নিষেধ। মাসের প্রথম সপ্তাহে ম্যানেজার ওবায়দুর রহমান এবং নজেলম্যান সিরাজুল ইসলাম রাতে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে ম্যানেজার ওবায়দুর ও নজেলম্যান সিরাজুল ডিউটি করছিলেন। কিন্তু ইতিপূর্বে নজেলম্যান সিরাজুল ইসলাম পাম্পের তেল চুরি বিক্রি করছিলেন বলে ম্যানেজার জানতে পারেন। তেল চুরির টাকার ভাগ চেয়েছিলেন সিরাজুল। কিন্তু তাকে ভাগ না দেয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়। আবার সিরাজুল রাতের বেলায় মাদক বিক্রি ও সেবন করতেন বলে জানতে পেরে ম্যানেজার তাকে ধমক দেন। এতে ম্যানেজারের উপর ক্ষিপ্ত হয় সিরাজুল। এক পর্যায় সেই বিরোধের সূত্র ধরে নজেলম্যান সিরাজুল পরিকল্পনা করে ম্যানেজার ওবায়দুরকে খুন করতে হবে। ২০১৬ সালের ৫ জুন তেল বিক্রির টাকা নিয়ে মালিক মাসুদুর রহমান বাড়িতে চলে যান। পাশের বাড়ির লিজন খান ওরফে অপু প্রচ- গরমে রাতে ঘুমানোর জন্য ম্যানেজার ওবায়দুর রহমানের কাছে আসেন। রাতে তারা দুইজনে এক সাথে ঘুমিয়ে ছিলেন।
পরদিন সকাল ৬টার দিকে মালিক মাসুদকে সরদার ফিরিং স্টেশনের ম্যানেজার মহিবুল্লাহ জানান আপনার পাম্পে রাতে দুইজন খুন হয়েছে। তিনি এসে ওবায়দুর ও লিজনের লাশ দেখে বাঘারপাড়া থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এই ঘটনায় পাম্পের মালিক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে বাঘারপাড়া থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করেন বাঘারপাড়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছয়রুদ্দিন আহম্মেদ, এরপর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র পরিদর্শক এমদাদুল হক। সর্বশেষে মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি। সর্বশেষ তদন্ত শেষে তেল চুরির টাকা ও মাদক বিক্রির বিষয়টি নিয়ে ম্যানেজার ওবায়দুর রহমানের সাথে নজেলম্যান সিরাজুলের বিরোধে এই হত্যাকা- ঘটে বলে জানতে পারেন তদন্ত কর্মকর্তা। সিরাজুল সদর উপজেলার মুনসেফপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। আর এই হত্যাকা-ে সিরাজুলের সাথে বাঘারপাড়া উপজেলার রামনগর গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে নয়ন হোসেন, বাঘারপাড়ার শ্রিরামপুরের হোসেন আলী সরদারের ছেলে ইকবাল হোসেন ও আয়াপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম ওরফে রফি উদ্দিনের ছেলে নাছির হায়দার অংশ নেয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক হারুন অর রশিদ বলেছেন, তেল চুরির টাকার ভাগাভাগি ও মাদক বিক্রিকে কেন্দ্র করে আব্দুল বারী ফিলিং স্টেশনে জোড়া হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে।

শেয়ার