করনোর মধ্যেও সরকারের স্কুল ফিডিং ও মিড ডে মিল কার্যক্রম
যশোরে লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর বাড়ি পৌছে দেয়া হচ্ছে পুষ্টিমান বিস্কুট ও অন্যান্য সামগ্রী

জাহিদ হাসান
করোনার কারণে চলতি বছরের ১৮ মার্চ থেকে সারাদেশের ন্যায় যশোরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। মুখ থুবড়ে পড়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালিত দারিদ্র পীড়িত এলাকার ‘স্কুল ফিডিং ও মিড ডে মিল’ কার্যক্রম। বাড়িতে থাকা দারিদ্র পরিবারের শিশুদের পুষ্টিহীনতায় পড়ার আশঙ্কার বিবেচনায় যশোরে ১ লক্ষ ১৯ হাজার ১৭০ জন শিক্ষার্থীর বাড়িতে প্রতিমাসে পৌচ্ছে যাচ্ছে পুষ্টিমান সম্পন্ন বিস্কুট ও অন্যান্য সামগ্রী। জেলার ৩টি উপজেলায় ৫শ’ ৪৮টি বিদ্যালয়ের এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে উত্তরণ ও আরআরএফ নামে দুটি বেসরকারি এনজিও প্রতিষ্ঠান। যা এই কার্যক্রম চলমান থাকবে স্কুল প্রতিষ্ঠান না খোলা পর্যন্ত।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র মতে, যশোরের তিনটি উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত দারিদ্র্য পীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি’র আওতায় যশোরে ৫৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন স্কুল ফিডিং ও মিড ডে মিল প্রকল্পের মাধ্যমে দুপুরে রান্না করা খাবার ও উচ্চ পুষ্টিমান সমৃদ্ধ বিস্কুট খাওয়ানো হতো। এগুলো হচ্ছে সদর, ঝিকরগাছা ও চৌগাছা। এই তিনটি উপজেলার মোট ৫শ’ ৪৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায়। উচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন বিস্কুট দেওয়া হয় এসব স্কুলের শিক্ষার্থীদের। সদর উপজেলায় ২শ’ ৫৬ টি স্কুলের ৫৭ হাজার ৫শ’ ৪৮ জন শিক্ষার্থী, ঝিকরগাছা উপজেলার ১শ’ ৩৩ টি স্কুলের ২৮ হাজার ২শ’ ৯৩ জন ও চৌগাছার ১শ’ ৩৯ টি স্কুলের ২৮ হাজার ১শ’ এই সুবিধা পেত। একই সাথে ঝিকরগাছার ২০ টি স্কুলের চার হাজার দুশ’ ৫৪ জন শিশুর জন্যে চালু ছিল মিড ডে মিল। তাদেরকে পুষ্টিসম্পন্ন খিঁচুড়ি খাওয়ানো হতো। করোনার প্রভাবে গত ১৮ মার্চ থেকে স্কুল বন্ধ থাকায় এই কার্যক্রমে ছেদ পড়ে। স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটি শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মাঝে প্রতি মাসে ৪০ প্যাকেট করে দেওয়া হচ্ছে বিস্কুট। আর মিড-ডে মিলের আওতায় ঝিকরগাছায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মাঝে চাল, ডাল ও ভোজ্য তেল বিতরণ করা হচ্ছে। এই আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীদের দেড় কেজি করে মশুরির ডাল, সাড়ে ৭শ’ গ্রাম করে সয়াবিন তেল ও ৮ কেজি করে চাউল দেওয়া হচ্ছে। উত্তরণ ও আরআরএফ নামে দুটি বেসরকারি এনজিও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয় এপ্রিল মাসে।
ঝিকরগাছা উপজেলায় উত্তরণের এই প্রকল্পের মনিটরিং এন্ড রিপোর্টিং অফিসার নিজামুল ইসলাম জানান, করোনার পূর্বে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত দারিদ্র্য পীড়িত এলাকায় ‘স্কুল ফিডিং ও মিড ডে মিল’ কার্যক্রম ছিলো। স্কুল বন্ধ হওয়ায় এই প্রকল্পের আওতায় পুষ্টির যাতে ঘাটতি না হয় সেকারণে সরকার বাড়ি বাড়ি এসব খাবার পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। বাড়ি বাড়ি ৪০ প্যাকেট দেওয়ার পাশাপাশি যারা মিড’ডে মিলের আওতায় রয়েছে তাদের বাড়িতেও চাল, ডাল ও ভোজ্য তেল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রকল্পে চৌগাছা ও সদর উপজেলায় নিয়োজিত আরআরএফের প্রকল্প সমন্বয়কারী আব্দুল আজিজ জানান, প্রকল্পভুক্ত প্রতিটি স্কুলের প্রত্যেক শিশুর বাড়িতে উচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন ৪০ প্যাকেট করে বিস্কুট পৌছে দেওয়া হচ্ছে। করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় তারা এই প্রকল্পের আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের করোনার মধ্যে যথাক্রমে ৩১ প্যাকেট, দ্বিতীয় ধাপে ৪০ প্যাকেট এবং তৃতীয় ধাপে ৪০ প্যাকেট করে বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে। পর্যায় ক্রমে এই প্রকল্পের আওতায় সকল স্কুলে দেওয়া হবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ অন্যান্য অফিসার এবং স্কুল শিক্ষকদের সহযোগিতায় তারা সুপরিকল্পতিভাবে এ প্রকল্পের কাজ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম বলেন, স্কুল ফিডিং এবং মিড ডে মিল সরকারের একটি কার্যকর প্রকল্প। এই প্রকল্প মাধ্যমে জেলার তিনটি উপজেলায় বিস্কুট ও দুপুরে দুপুরে পুষ্টিকর রান্না করা খাবার দেওয়া হতো। করোনার কারণে সেই প্রকল্প ছেদ পড়ে। সরকারের নির্দেশনায় করোনার মধ্যে এসকল শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়িতে পৌছে দেয়া হচ্ছে পুষ্টিকর বিস্কুট ও মিডডে মিলের রান্নার বিভিন্ন তেল, ডাল ও চাউল। যা স্কুল খোলা না পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।

শেয়ার