যশোরে থানার পাশে বোমা ফাটিয়ে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই ঘটনায় ৫ জনকে আটকের গুঞ্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরে দিনে দুপুরে কোতোয়ালি থানার অদূরে বোমা ফাটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই ঘটনায় ৫ জনকে আটকের গুঞ্জন উঠেছে। পাশাপাশি টাকাসহ ছিনতাই করা ব্যাগ, চাকু এবং ১৩ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলেও কথা শোনা যাচ্ছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে কোন তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। এদিকে, এই ব্যাপারে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত এনামুল হকের ভাই ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন সদর ফাঁড়ি ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক তুষার কুমার মন্ডল। তিনি আরো বলেছেন, আরাফাত নামে এক যুবক সন্দেহের তালিকায় আছে। তাকে খোঁজা হচ্ছে। আর মঙ্গলবার রাত থেকে আরাফাতকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
মামলা সূত্র মতে, মঙ্গলবার দুপুরে আগমনী মটরস্’র ১৭ লাখ টাকা ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লি. (ইউসিবিএল) এ জমা দেয়ার জন্য মোটরসাইকেলে চড়ে আসেন এনামুল ও ইমন। ব্যাংকের সামনে তারা মোটরসাইকেল থেকে নামার সাথে সাথেই আগে থেকে অবস্থান নেয়া ৭/৮ জন মুখোশধারী তাদেরকে ঘিরে ধরে। দুর্বৃত্তরা এনামুলের হাতে, পেটে ও বুকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে সাথে থাকা ১৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপর শক্তিশালী একটি বোমা ফাটিয়ে সিটি প্লাজার সামনের গলি দিয়ে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। বোমার ব্যাংকের এটিএম বুথের গ্লাস ভেঙ্গে যায়। এ সময় ইমনও আহত হন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। আহত দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। আহত ইমন অভিযোগ করেছেন, ছিনতাইকালে পাশেই পুলিশের অবস্থান থাকলেও কেউই এগিয়ে আসেনি। এই ঘটনার পর থেকে বুধবার সারাদিন কোতোয়ালি থানা, সদর এবং চাঁচড়া ফাঁড়ি, ডিবি ও র‌্যাবের সদস্যরা চারিদিকে অভিযান শুরু করে। এর মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরতলীর মুড়লী এলাকা থেকে সুজন নামে এক যুবককে আটকের গুঞ্জন ওঠে। আবার রাতে শহরের বারান্দীপাড়া এলাকার লাল মিয়ার ছেলে নাসির উদ্দিন, বুধবার সকালে বাঘারপাড়া উপজেলার আলাদীপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের বাড়ি থেকে তার ভাগ্নে সোহাগকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ে। বুধবার সকালে বাঘারপাড়া থানা, ভিটাবল্লা পুলিশ ক্যাম্প, কোতোয়ালি মডেল থানা, বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্প এবং র‌্যাবের সমন্বয়ে আলাদীপুরে অভিযানে সোহাগকে আটক করা হয়। আটক সোহাগের বাড়ি যশোর শহরের শংকরপুরে বলে জানা গেছে। এছাড়া সোহেল নামেও আরেক যুবককে আটকের করা হয়েছে বলে সূত্রটি দাবি করেছে। পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতের অভিযানে আটক একজনের কাছ থেকে ছিনতাই করা টাকার ব্যাগ, এনামুলকে ছুরিকাঘাত করা ছুরিটা উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে এই ঘটনায় ব্যবহৃত মোবাইলের সিম কার্ড ও উদ্ধার করা হয়। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, এই ঘটনায় সরাসরি অংশ নেয়া কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু যাদের আটক করা হয়েছে তারা আশপাশে অবস্থান নিয়েছিল। আবার যারা সরাসরি এই ঘটনায় অংশ নেয় তাদের সেল্টার ও পরামর্শ দাতাসহ বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেছে। ফলে আটককৃতদের কাছ থেকে এই ঘটনায় সরাসরি যারা অংশ নিয়েছে তাদের সনাক্ত করা হয়েছে। এদিকে আহত এনামুল হককে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার সকালে আহত এনামুল হকের ভাই ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে ৮/৯ জনের বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। এই ব্যাপারে সদর ফাঁড়ি ইনচার্জ এবং এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তুষার কুমার মন্ডল বলেছেন, কারা এই ঘটনার নেপথ্যে ছিল এবং কারা সরাসরি অংশ নিয়েছিল তাদের সনাক্ত করা হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি অপরাধীদের আটক করা হবে। তবে আরাফাত হোসেন নামে এক যুবককেও সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে।

শেয়ার