‘মডার্নার টিকা নিরাপদ, বয়স্কদের জন্যও কার্যকর’

সমাজের কথা ডেস্ক॥ টিকা কতটা নিরাপদ তা পরীক্ষার একটি প্রাথমিক গবেষণায় মডার্না ইনকরপোরেশনের কোভিড-১৯ টিকা বয়স্কদের শরীরেও তরুণদের মত ‘অ্যান্টিবডি’ তৈরি করে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা।

মঙ্গলবার ‘দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন’- এ এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। গবেষকরা প্রতিবেদনে বয়স্কদের বেলায় মডার্নার টিকা কতটা নিরপাদ তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরেছেন।

বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ মহামারীতে বয়স্কদের মৃত্যুঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এ রোগের কোনও প্রতিষেধক নেই। মারাত্মক সংক্রামক এই রোগ থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে টিকা।

বিশ্বে এক ডজনের বেশি দেশ এবং কোম্পানি কোভিড-১৯ এর টিকা আবিষ্কারের চেষ্টা করছে। কেউ কেউ টিকা আবিষ্কারের দৌড়ে অনেকটা এগিয়েও গেছে। কিন্তু এখনও কেউই চূড়ান্ত নিরাপত্তার পরীক্ষা শেষ করতে পারেনি। সবাই টিকা পরীক্ষার নানা ধাপে আছে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনও কারও টিকা ব্যবহারের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি।

টিকা আবিষ্কারের দৌড়ে এগিয়ে থাকা কোম্পানিগুলোর অন্যতম যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না ইনকরপোরেশন। মডার্নার টিকা নিয়ে গবেষকদের যে দলটি গবেষণা করছে তাদের অন্যতম আটলান্টার ইমোরি ইউনিভার্সিটির ডক্টর ইভান অ্যান্ডারসন।

টেলিফোনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, এই গবেষণা ফল অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক। কারণ, বয়স হলে মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিতেই দুর্বল হয়ে যায়।

মডার্নার ‘সেফটি ট্রায়াল’ এর প্রথম ধাপকে সম্প্রসারিত করে অংশগ্রহণকারীদের বয়স সীমা বাড়িয়ে এ গবেষণা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইভান অ্যান্ডারসন বলেন, প্রথমে ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সীদের ওপর এ পরীক্ষা চালানো হয়। পরে দুই ধাপে বয়স ৫৬ থেকে ৭০ এবং ৭১ থেকে আরও বেশি বয়সীদের পরীক্ষামূলকভাবে টিকা দেওয়া হয়। তাদেরকে দুই ডোজে প্রথমে ২৫ মাইক্রোগ্রাম এবং পরে ১০০ মাইক্রোগ্রাম টিকা দেওয়া হয়।

“২৮ দিনের ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার পর দেখা গেছে, তরুণদের শরীরে যেভাবে ‘অ্যান্টিবডি’ তৈরি হয়েছে, বয়স্কদের বেলাও তার প্রায় কাছাকাছি পর্যায়ে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।”

মডার্না এরই মধ্যে বৃহৎ পরিসরে তৃতীয় ধাপের (ফেজ-৩) টিকার পরীক্ষা চালাচ্ছে। চূড়ান্ত পর্যায়ের এই পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পর তারা জরুরি আনুমোদনের আবেদন করবে।

মডার্নার টিকার বেলায় যেসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে তার মধ্যে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, গায়ে ব্যথা, শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এবং টিকা দেওয়ার জায়গায় ব্যাথা হচ্ছে। বেশিরভাগের বেলায় এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মৃদু বা মাঝারি মাত্রায় হচ্ছে। তবে অন্তত দুইজনের শরীরে তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল।

টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার পর তাদের একজনের জ্বর ১০২ ডিগ্রির উপরে উঠেছিল এবং আরেকজন এতটাই ক্লান্ত বোধ করেছিলেন যে, দৈনন্দিন কাজ করতে পারেননি বলে জানান ড. অ্যান্ডারসন।

তিনি বলেন, ‘‘টিকা দেওয়ার পরপরই শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং দ্রুত তা সেরেও যায়। বয়স্কদের ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকার উচ্চমাত্রার ডোজটি দেওয়ার পর শরীরে যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এটি অনেকটা তেমন। তাদের ক্লান্ত লাগবে বা জ্বর হবে।”

 

শেয়ার