যশোরে থানার পাশে বোমা ফাটিয়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই, আহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে দিনে-দুপুরে থানার একশ’ গজের মধ্যে বোমা ফাটিয়ে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পাশে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লি. (ইউসিবিএল) এর সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছুরিকাঘাত ও বোমার আঘাতে টাকা বহনকারী দু’জন আহত হন। আহতরা হলেন, শহরের বকচর হুশতলা এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে এবং আরএন রোড এলাকার আগমনী মোটরস্’র মালিক ইকবাল হোসেনের ভাই এনামুল হক (৩৫) ও একই এলাকার ইমদাদুলের ছেলে ইমন (২০)। এদের মধ্যে এনামুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

যশোরের ফল ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, মনিহার প্রেক্ষাগৃহের সামনে আরআই এন্টারপ্রাইজ নামে তার একটি ফলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া আরএন রোডেও আগমনী মটরস অ্যান্ড ইলেক্ট্রটিক নামে আরো একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। মঙ্গলবার দুপুরে তার ভাই এনামুল হক এবং শ্যালক একই এলাকার এমদাদুল হক ওরফে এমাদুলের ছেলে ইমনকে দিয়ে ফল ব্যবসার সাড়ে ১৭ লাখ টাকা জমা দেয়ার জন্য এমকে রোডস্থ ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল) ব্যাংকে পাঠান। তারা দুইজনে একটি মোটরসাইকেলে ব্যাংকের সামনে যান। দুপুর দুইটার দিকে ব্যাংকের সিঁড়িতে উঠার সময় পিছন দিক থেকে ছিনতাইকারীরা এনামুলের হাতে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ছিনতাইকারীদের সাথে এনামুলের ধস্তাধস্তি হলে অপর এক ছিনতাইকারী এসে তাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এসময় এনামুলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে দেখে ছিনতাইকীদের হাতে থাকা একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। বোমাটি ব্যাংকের নিচতলায় এটিএম বুথে লাগে। বোমার আঘাতে এটিএম বুথের গ্লাস চুর্ণবিচুর্ণ হয়ে যায়। এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ড (প্রহরী) মোস্তাফা কামাল বোমার স্পিøন্টারের আঘাতে জখম হন। পরে ওই তিনজন টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দৌড়ে যাওয়ার সময় ছিনতাইকারী ধর ধর’ বলতে বলতে সিটি প্লাজার সামনে দিয়ে বড় বাজারের দিকে চলে যায়। আহত এনামুল হককে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা আশংকজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন আরো জানিয়েছেন, এনামুলের অবস্থা আশংকাজনক। ডাক্তাররা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, আগে থেকে ব্যাংকের সামনে তিন ছিনতাইকারী অবস্থান করছিল। সম্ভবত তারা টাকা জমা দেয়ার সংবাদটি আগে থেকেই জানতো। ঘটনার পর জনাকীর্ণ ওই রোডে সাধারণ মানুষ দৌড়াদৌড়ি করতে থাকেন। সে সময় কৌশলে ছিনতাইকারী নিজেরাই ‘চোর চোর ধর ধর’ শব্দ করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা সেখান যান এবং পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম জানিয়েছেন, ঘটনার পর পুলিশ ছিনতাইকারীদের সনাক্ত করার জন্য ওই এলাকার সকল সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

 

শেয়ার