প্রকল্পের ডকুমেন্ট বাংলায় তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ভৈরব পুনঃখননের ২য় পর্যায় একনেকে অনুমোদন, ব্যয় ২৩৭ কোটি টাকা

সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন-এখন থেকে সরকারের নেওয়া সব উন্নয়ন প্রকল্পের ডকুমেন্ট ইংরেজিতে নয়, বাংলায় তৈরি করতে হবে। যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই উন্নয়ন প্রকল্পের সবকিছু বুঝতে পারে। একইসঙ্গে ডিজিটাল ভূমি জোনিংয়ের সময় সব তথ্য বাংলায় নেওয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। একনেকের বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এ তথ্য জানান। এই সভায় ভৈরব নদ পুনঃখননের (২য় পর্যায়) প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেরে বাংলা নগরের এনইসি ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিল্প এলাকায় শিল্পকারখানা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। কৃষি জমি ও বসতবাড়িতে কোনও শিল্পকারখানা না করারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।’
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ব্যবসা করতে চান বা শিল্প করতে চান, তাহলে শিল্প এলাকায় যান। বাড়ির পাশের ধানের জমি নষ্ট করে শিল্প স্থাপন করবেন কেন? আমরা উৎসাহ দেবো, আপনারা শিল্প এলাকায় এসে শিল্পকারখানা স্থাপন করেন। সেখানে আপনারা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পাবেন। গ্যাস, রাস্তা, ব্যাংক সব পাবেন।’
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নৌপথের বর্জ্য অপসারণে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করবে। কৃষিজমি রক্ষা করতে হবে। যেখানে সেখানে শিল্প স্থাপন করা যাবে না। অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপন করতে হবে—যেখানে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ রাস্তাসহ সবধরনের সুবিধা রয়েছে।’ পাশাপাশি নদীর পাড় দখলমুক্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নদীর পাড় অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে। অন্যদিকে কচুরিপানা মুক্ত করে নদী ড্রেজিং করতে হবে।’
সভায় ভৈরব নদ পুণঃখননের (২য় পর্যায়) প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। এছাড়া চট্টগ্রামের সঙ্গে নৌ পথে ঢাকা ও আশুগঞ্জের যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ বাড়াতে চলমান বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ প্রকল্প-১ এর ব্যয় প্রায় দেড়শ কোটি টাকা বাড়ছে। একইসঙ্গে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন মেয়াদও এক বছর বাড়ানো হয়েছে।
একনেক সভা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বৈঠকে মোট ৭৯৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আরও তিনটি নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প’র মধ্যে রয়েছে মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং প্রকল্প। এর ব্যয় ৩৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাক। নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ, চাটখিল, সেনবাগ ও সোনাইমুড়ি উপজেলার জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে খাল পুনঃখনন প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

শেয়ার