খুলনা জেলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক কাজল নিহতের ঘটনায় যশোর আদালতে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ খুলনা জেলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও খুলনা তরুণ একাডেমির কোচ কাজী রিয়াজুল ইসলাম কাজল নিহতের ঘটনায় যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার নিহত কাজলের মা খুলনার খালিশপুরের চরেরহাট এলাকার মৃত কাজী আব্দুল কাদেরের স্ত্রী রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলো, যশোর শহরের বারান্দীপাড়া ফুলতলা এলাকার আমজাদ হোসেনের মেয়ে এবং নিহতের স্ত্রী আফরিনা আক্তার সুমি, নিহতের শাশুড়ি মায়া বেগম, বারান্দীপাড়ার মনির ড্রাইভারের মেয়ে মণি বেগম ও শ্বশুর আমজাদ হোসেন এবং খুলনার খালিশপুর হালদারপাড়ার কানা শামসুরের ছেলে জাহিদুল ইসলাম সবুজ।
বিষয়টি আমলে নিয়ে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দীন হোসাইন এই সংক্রান্তে থানায় আর কোন মামলা হয়েছে কিনা আর হয়ে থাকলে কি অবস্থায় আছে সেই বিষয়ে প্রতিবেদন আকারে আদালতে দাখিলের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে আদেশ দেয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে বাদী উল্লেখ করেছেন, নিহত কাজলের সাথে সাড়ে ছয় বছর আগে আসামি সুমির বিয়ে হয়। বিয়ের পর মাঝেমধ্যে সুমি খুলনায় কাজলের বাড়িতে যেতেন। তবে তাদের সম্পর্ক ভালো ছিলনো। এরমধ্যে তাদের একটা কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। স্ত্রী সুমির সাথে এই মামলার ২নং আসামি সবুজের দুই বছর আগে পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে সুমিকে সবুজ মদদ দিতে থাকে। তার জেরে সবুজ কাজল দম্পতিকে বাদীর কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে আলাদাভাবে ঘরভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকে। এরপর খুলনার বয়রায় কাজল একটা খেলাধুলা সামগ্রী বিক্রয়কেন্দ্র খোলেন। যার নিয়ন্ত্রণে ছিলো সুমি ও সবুজ। বিষয়টি বাদী জানতে পেরে প্রতিবাদ শুরু করে। এরপর চলতি বছরের ২৬ মে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে কাজলকে যশোরে শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে আসে এবং কাজলের বিভিন্ন লেনদেন সম্পর্কে তারা আলোচনা করেন। কাজলের কাছে ৫০ লাখ টাকা আছে মর্মে আসামিরা জানতে পারে। ২৮ মে ভোর ৪টার দিকে অপরিচিত একটি মোবাইল ফোনে কল করে বাদীকে জানানো হয় কাজল সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। পরে আসামিরা সকলেই বাদীকে জানায় তারা থানায় আছেন। পরে বাদী যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হতে চাইলে আসামিরা জানায় কাজল ব্রেন স্ট্রোক করে মারা গেছেন। কাজলের লাশ নিয়ে তারা খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন। এরপর খুলনায় যেয়ে আসামিরা জানায় কাজল করোনায় মারা গেছেন। পরে কাজলের দাফন সম্পন্ন করা হয়। বাদী কয়েকদিন পর যশোরে যোগাযোগ করে জানতে পারেন কাজলকে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। এজন্য আসামিরা নিহতের কোনো রকম ময়নাতদন্ত ছাড়াই করোনার অজুহাত দেখিয়ে কাজলকে তড়িঘড়ি করে দাফন করার ব্যবস্থা করেছেন। সবকিছু জানার পর বাদী অবশেষে আদালতের আশ্রয় নেন।

 

 

শেয়ার