মানববাহী ড্রোন না ‘উড়ুক্কু গাড়ি’!

সমাজের কথা ডেস্ক॥ উড়ুক্কু গাড়ি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে চীনারাও। দীর্ঘমেয়াদী প্রাতিষ্ঠানিক কৌশল হিসেবে আলিবাবা সমর্থিত গাড়ি নির্মাতা ‘এক্সপাং’ এ ধরনের প্রযুক্তিতে স্বাবলম্বী হতে চাইছে।

শনিবার বেইজিং অটো শো’তে নিজেদের বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রথম সিরিজের নমুনা দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা জানিয়েছে, এ ধরনের গাড়ি তৈরিতে কাজ চলছে।

এক্সপাংয়ের দেখানো উড়ুক্কু গাড়ির নমুনাতে আটটি প্রপেলার, এবং ক্যাপসুলের মতো ফ্রেম রয়েছে। সিএনবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গতানুগতিক গাড়ি নয়, দেখে অনেকটা মানব বাহী ড্রোন মনে হয়েছে গাড়িটিকে।

উড়ুক্কু গাড়ির নমুনাটি মূলত তৈরি করেছে এক্সপাং হাইটেক প্রযুক্তি ইউনিট। ইউনিটটির অধিকাংশ মালিকানা এক্সপাং, এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী হি শিয়াওপেংয়ের হাতে রয়েছে।

এক্সপাং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা ও উন্নয়নের একটি অংশ এক্সপাং হাইটেক প্রযুক্তি ইউনিট। প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যবসা ও উন্নয়ন কৌশল অপরিবর্তিত থাকবে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নির্ভুলতা ও ম্যাপিং প্রযুক্তিতে গবেষণার মাধ্যমে মুনাফা আসবে এমনটাই ভবিষ্যদ্বাণী করেছে প্রতিষ্ঠান।

এখনও ‘ধারণা’ ধাপ পার করতে পারেনি পুরো প্রকল্পটি। এক্সপাংয়ের দাবি, তৈরি হওয়ার পর উড়ুক্কু গাড়িটি দুই জন যাত্রী নিয়ে পাঁচ মিটার (১৬.৪ ফিট) থেকে ২৫ মিটার (৮২ ফিট) উচ্চতায় উড়তে পারবে।

এক্সপাং আরও জানিয়েছে, যথেষ্ট বিনিয়োগ করার আগে স্থান সম্পর্কিত সম্ভাবনা মূল্যায়ন করে দেখবে তারা।

“এটি আমাদের জন্য অনেক দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা ও উন্নয়ন অনুসন্ধান, যা আরও বড় প্রসঙ্গে গতিশীলতার ব্যাপারে ভাবাবে আমাদের।” – বলেছেন এক্সপাংয়ের ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্ট ব্রায়ান গু।

“আমাদের ধারণা, ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক গাড়িতে শুধু ‘স্মার্ট মবিলিটি’ স্ব-চালিত চালনা ফিচার থাকবে না, আরও প্রযুক্তি থাকবে। অন্যান্য ডিভাইসকে সক্ষম করবে যাতে একটি বহুমাত্রিক ইকোসিস্টেম তৈরি করা যায়। বিষয়টি খুবই রোমাঞ্চকর হবে। আমরা এ জন্যই এই খাতে বিনিয়োগ করছি, এবং অনুসন্ধান করছি।” – যোগ করেছেন গু।

সিএনবিসি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মানব বহনকারী ড্রোন ও স্ব-চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাঁধাটিই হলো নীতিমালা।

গত মাসের শেষে নিজেদের উড়ুক্কু গাড়ি ‘এসডি-০৩’ এর ‘পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন’ সম্পন্ন করেছে টয়োটা সমর্থিত স্কাইড্রাইভ। এ বছরের শেষ নাগাদ পরীক্ষা ফিল্ডের বাইরেও ‘এসডি-০৩’ চালানোর অনুমোদন পাবে এমনটাই আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৩ সাল নাগাদ দুই সিটের বাণিজ্যিক বাহন বানানোর লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে তারা।

শেয়ার