মহেশপুরে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দু’পা ভেঙ্গে দেওয়া সেই বৃদ্ধকে যশোর হাসপাতালে ভর্তি

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি॥ ঝিনাইদহের মহেশপুরে জমি নিয়ে বিরোধে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দু’পা ভেঙ্গে দেওয়া সেই বৃদ্ধ জলিল খাকে (৬৮) আশংকা জনক অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে থানা পুলিশ এ ঘটনায় সাইদুল ও ইব্রাহীম নামের দু’জনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। এর মধ্যে পুলিশের হাতে আটক সাইদুল ইসলাম উজ্জলপুর গ্রামের আমিন হক হত্যা মামলারও আসামী।
আটক সাইদুল ইসলামের বাবা উজ্জলপুর গ্রামের মুজিবর রহমান জানান, তার জমির অংশ থেকে ৬ বিঘা বোন আলেকজান বেগমকে রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন। এদিকে বোনকে জমি দেওয়ায় তার সন্ত্রাসী ছেলে সাইদুল ইসলাম তাকে কয়েকবার মেরে ফেলতে চেয়েছিলো। তিনি আরো জানান, এমনকি প্রকাশ্যে সে আমাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টায় করেছে। আমি আমার সন্তানদের ভয়ে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছি। এখনও পর্যন্ত আমার সন্ত্রসী ছেলে আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলো।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মণ্টু মেম্বার জানান, মুজিবর রহমানের বাবা মারা যাওয়ার পর প্রত্যেক বোনকে ৬ বিঘা করে জমি রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন। কিন্তু মুজিবর রহমানের ছেলেরা তাদের কোন ফুপুকে পাওনা জমি না দেওয়ার জন্যই এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।
আহত জলিল খার ছেলে জালাল উদ্দীন জানান, আমাদের নামে রেজিষ্ট্রি কৃত জমি দখলে নেওয়ার জন্য থানায়ও বসাবসি হয়েছে। কিন্তু এখন তারা গ্রামে গিয়ে আমার মা আলেকজান বেগম ও আব্বা জলিল খাকে দা দিয়ে কুপিয়ে আর হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দু’পাই ভেঙ্গে দিয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আবুল কাশেম জানান, মামলার দু’ আসামী সাইদুল ও ইব্রাহীমকে আটক করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামীরা পলাতক থাকার কারনে একটু কষ্ট হচ্ছে। তবে আসামী আটকের জন্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্যঃ গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ীর সামনের রাস্তায় হাটা হাটি করার সময় মহেশপুরের উজ্জলপুর গ্রামের মুজিবর রহমানের ছেলে সুলতান, সাইদুল, সুরুজ, ওমেদুল ও শরিফুল ইসলাম বৃদ্ধ জলিল খাকে দা ও হাতুড়ি দিয়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে তার দু’পা ভেঙ্গে দেয়। এসময় বৃদ্ধ স্বামীকে বাচাঁতে গেলে স্ত্রী আলেকজান বেগমকেও (৫৫) পিটিয়ে আহত করা হয়। এলাকাবাসী গুরুতর অবস্থায় প্রথমে জলিল খাকে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শেয়ার