হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে উয়েফা সুপার কাপ বায়ার্নের

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ‘বিগ ফিশ’ শিকার করে গত মৌসুম শেষ করেছিল বায়ার্ন মিউনিখ। পিএসজিকে হারিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা ঘরে তুলেছিল জার্মানির ক্লাবটি। নতুন মৌসুমের শুরুতেও শিরোপা জয়ের উৎসব করল বায়ার্ন। ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে সেভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপের শিরোপা জিতেছে হান্স ফ্লিকের দল।
বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই-ই হলো। বায়ার্ন আগের মতোই দুর্বার ছিল। অন্যদিকে ইভান রাকিতিচকে পেয়ে সেভিয়ার শক্তিও বেড়েছে। বার্সেলোনা থেকে সেভিয়ায় ফিরে গেছেন ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় জয়-পরাজয় নির্ধারন হয়নি। দু’দলই গোল আদায় করতে পেরেছে একটি করে। তবে অতিরিক্ত সময়ে বায়ার্ন এগিয়ে গেলে সেভিয়া আর গোল পায়নি। সেখানেই ম্যাচের ফল নির্ধারন হয়েছে।
এ নিয়ে উয়েফা সুপার লিগের টানা পঞ্চম ফাইনাল হারল সেভিয়া। সর্বশেষ ২০০৬ সালে বার্সেলোনাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল স্প্যানিশ ক্লাবটি।
পুসকাস অ্যারেনায় বায়ার্ন-সেভিয়ার লড়াই গ্যালারি থেকে দেখেছে কয়েক হাজার মানুষ। করোনাল মধ্যেও ২০ হাজার দর্শকদের মাঠে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। দর্শকদের সামনে ১৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সেভিয়াকে এগিয়ে নেন ওকাস্পোসে। এই গোলের কারিগর ইভান রাকিতিচ। ডি-বক্সে তাকে থামাতে ফাউল করে বসেন বায়ার্নের ডিফেন্ডার ডেভিড আলবা। ফলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।
গোল হজম করার পর যেনো তেঁতো উঠে বায়ার্ন। দুই মিনিট পরই বেঞ্জামিন পাভার্ড গোল পেতে পারতেন। কিন্তু অল্পের জন্য তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। খানিক পর রবার্ট লেভানডফস্কির শট ফেরান সেভিয়া গোলরক্ষক। বায়ার্ন সমতাসূচক গোলটা পায় ৩৪ মিনিটে গিয়ে।
ডি-বক্সে বল পেয়ে ভলিতে মারিও গোরেৎস্কার দিকে বাড়ান লেভানডফস্কি। ডান পায়ের জোড়ালো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন গোরেৎস্কা। দুই মিনিট পর সেভিয়ার ডি ইয়ং বল জালে জড়িয়ে দিয়ে উল্লোসে মেতে উঠেন। কিন্তু অফ সাইডে বাতিল হয়ে যায় গোলটি। একই অভিজ্ঞতা হয়েছে লেভানডফস্কিরও। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বল জালে জড়িয়েছিলেন পোল্যান্ড তারকা। কিন্তু ভিএআরের সাহায্য নিয়ে অফ সাইডে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল সেভিয়া। কিন্তু ৮৮ মিনিটে বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি সেভিয়ার এন-নেসাইরি।
অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় খেলা। অতিরিক্ত সময়ের ১৪ মিনিটে বায়ার্নকে জয়সূচক গোলটা এনে দেন জাভি মার্টিনেজ। আলবার গোলমুখে শট সেভিয়া গোলরক্ষক ফেরালে ফাঁকায় দাঁড়ানো মার্টিনেজ বল পেয়ে যায়। গোল করতে ভুল করেননি স্প্যানিশ ফুটবলার। এরপর আর গোল না হওয়াতে শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানের জয়ে শিরোপা নিশ্চিত হয়েছে বায়ার্নের।

শেয়ার