প্রতিবন্ধীকে গাঁজা দিয়ে ‘মিথ্যা’ মামলা দেওয়ার ঘটনা নিয়ে খবর প্রকাশে ক্ষুব্ধ উপশহর ফাঁড়ির দারোগা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দাবিকৃত টাকা না পেয়ে সুমন হোসেন (৩০) নামে এক প্রতিবন্ধীকে ২শ’ গ্রাম গাঁজা দিয়ে মামলা দিয়েছে যশোরের উপশহর পুলিশ ক্যাম্প পুলিশ। বৃহস্পতিবার সুমনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার সংবাদ প্রকাশে ওই ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সাইফুল মালেক চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
জানাগেছে, একজন সিআইডি পুলিশের মোটরসাইকেল চুরি সংক্রান্ত একটি ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসাবে গত ২২ সেপ্টেম্বর দুপুরে সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি বাজার থেকে সুমন নামে ওই যুবককে আটক করে ক্যাম্পের নিয়ে যায় পুলিশ। সুমন সদর উপজেলার বড় হৈবতপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে। এরপর তার কাছে গাঁজা পাওয়া গেছে দাবি করে তার পরিবারের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন এসআই সাইফুল মালেক। বুধবার সন্ধ্যার দিকে সুমনের মা ও স্ত্রী উপশহর ক্যাম্পে গেলে তাদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন সাইফুল মালেক। অকথ্য, অশ্রাব্য অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে ক্যাম্প থেকে বের করে দেন। এ খবর বের হয় স্থানীয় দৈনিক স্পন্দনে। এতে পত্রিকা নিয়ে কুরুচিপূর্ণ অশালীল অঙ্গভঙ্গি করেন এসআই সাইফুল। এতে সংবাদকর্মীরা চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এদিকে আটক সুমনের বিরুদ্ধে দেয়া মামলায় চরম মিথ্যার আশ্রয় নেয়া হয়েছে। তাকে আটক করা হয়েছে চুড়ামনকাটি বাজার থেকে। আর ক্যাম্পের এএসআই শাহাবুদ্দিনের দায়েরকরা মামলায় আটক দেখানো হয়েছে বুধাবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে উপশহর ট্রাক স্ট্যান্ডের সামনে পাঁকা রাস্তার ওপর থেকে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছেন, এসআই সাইফুল মালেকের মানুষ সম্পর্কে আজেবাজে মন্তব্য করা পুরনো অভ্যাস। রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ সম্পর্কে যেখানে সেখানে আজেবাজে মন্তব্য করে থাকেন। কোতোয়ালি থানায় থাকাকালীন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক হাবিবুর রহমানসহ সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের নামে বাজে মন্তব্য করেন। যা কোতোয়ালি থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য শুনতে পান। বিষয়টি পুলিশ সুপারের কানে গেলে যশোর পুলিশের উর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা তা তদন্ত করে সত্যতা পান। সে কারণে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ হয়। কিন্তু তদবির করে তিনি ওই যাত্রায় রক্ষা পান। তবে তাকে কোতোয়ালি থানা থেকে তালাবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের বদলি করা হয়। সেখানে থেকে মাস তিনেক আগে তাকে উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জের দায়িত্ব দেয়া হয়। উপশহর পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নানা ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন।

শেয়ার