ব্র্যাকের সাথে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সভায় তথ্য

যশোরে ৮ মাসে সহিংসতার শিকার ১৭১ নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে গত ৮ মাসে হত্যা, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, শারীরিক ও মানসিকসহ অন্তত ২১৮টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে নারী প্রতি সহিংসতার ঘটনাই রয়েছে ১৭১টি। শুধু শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৭৬ নারী। আর ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে ২৪টি। বুধবার দুপুরে যশোরে ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচি আয়োজিত নারী ও শিশুর প্রতি জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিনিয়ত নারীরা ঘরে বাইরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নির্যাতিত নারীরা অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ না করে আত্মহত্যাও করে থাকেন। গেল আগস্ট মাস পর্যন্ত যশোরে ২৫ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন। হত্যা ও অপহরণের চেষ্টা করেছে ২৪ নারী। এধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে বা নারী প্রতি জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে ওই সভা থেকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এক গুচ্ছ সুপারিশ করেছেন। তারা নির্যাতন প্রতিরোধসহ বাল্য বিয়ে বন্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান। শহরের খোলাডাঙ্গায় ব্র্যাক লানিং সেন্টারে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাম্মী ইসলাম বলেন, নারীকে অনেক ক্ষেত্রে দূর্বল মনে করা হয়। এ দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। নারীকে মূল্যায়ন করতে হবে। নারী তার যোগ্যতা দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নারীর স্বপ্নযাত্রায় বাধা বাল্যবিয়ে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে হবে। ব্র্যাক জেলা সমন্বয়কারী অমরেশ চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যশোরের উপ পরিচালক সকিনা খাতুন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। ব্র্যাকের সিনিয়র ডিএম আশরাফুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক প্রশান্ত কুমার দে, যশোরের অতিরিক্ত পিপি দেলোয়ার হোসেন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন, আইনজীবী সেতারা খাতুন, রাইটস যশোরের প্রোগ্রাম ম্যানেজার আজহারুল ইসলাম, ব্র্যাকের সিনিয়র ডিএম আজাদ রহমান ও ও সেক্টর স্পেশালিস্ট জয়নব খাতুন প্রমুখ। সভায় নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করে এমন সমমনা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, আইনজীবী, পল্লী সমাজ নেতা, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিক্ষক এবং কমিউনিটির মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।

 

 

শেয়ার