অভয়নগরে হোটেল শ্রমিক ধর্ষণ দু’আসামি আদালতে জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের অভয়নগরে হোটেল শ্রমিক ধর্ষণ মামলার দু’আসামি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। জাহিদুল ইসলাম নামে এক আসামি ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। আর নূর ইসলাম নামে আরেক আসামি ধর্ষণের ঘটনা দেখেছে বলে স্বীকার করেছে। সোমবার যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সম্পা বসু জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের দু’জনকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। আসামি জাহিদুল ইসলাম উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামের মৃত আরশাদ আলীর ছেলে এবং নূর ইসলাম একই গ্রামের কায়সেদ আলী সরদারের ছেলে।
স্বীকারোক্তিতে জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাহিদুল ভাতের হোটেলের শ্রমিককে কথা আছে বলে আমডাঙ্গা মাঠের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর ওই শ্রমিককে সেখানে রেখে চলে যান জাহিদুল।
আর নূর ইসলাম বলেছেন, তিনি মুদি দোকানের ব্যবসা করেন। রাত সাড়ে ১০টায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার পর শুনতে পান জাহিদুলের সাথে তার নারী শ্রমিকের ধস্তাধস্তি হচ্ছে। সে সময় নূর ইসলামসহ আসাদ নামে আরেকজনকে ডেকে নেন জাহিদুল।
এদিকে মামলার বিবরণে জানা গেছে, ওই নারী শ্রমিকের বাড়ি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ধাওয়া গ্রামে। যশোরের অভয়নগরের লক্ষীপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়ি। ভাঙ্গাগেটে আতিয়ারের ভাতের হোটেলে তিনি কাজ করতেন। আসামি জাহিদুল ওই হোটেল ভাড়া নিয়ে চালাবেন বলে নারী শ্রমিককে তার সাথে সন্ধ্যার পরে দেখা করতে বলেন। ১৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে জাহিদুলের সাথে দেখা হলে কুপ্রস্তাব দেয়া হয়। রাজি না হলে জোর করে ধরে মাঠের মধ্যে নিয়ে চড়থাপ্পড় মেরে ধর্ষণ করে। এসময় আসামি নূর ইসলাম ও আসাদ পাহারা দেয়। জাহিদুলের ধর্ষণ শেষ হলে নূর ইসলাম তাকে ধর্ষণ করে। পরে তাকে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে চলে যায়। বাড়ি যাওয়ার পরে ওই নারীর শরীরে জ্বর আসে। সুস্থ হয়ে বিষয়টি আত্মীয় স্বজনদের জানিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে এই ঘটনায় অভয়নগর থানায় মামলা মামলা করেন। ওইদিন রাতেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভয়নগর থানা পুলিশের পরিদর্শক মিলন কুমার মন্ডল আসামি জাহিদুল ও নূর ইসলামকে আটকের পর সোমবার যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করেন। আসামি জাহিদুল ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করে এবং নূর ইসলাম বিষয়টি দেখছে বলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

শেয়ার