৭৮ বছর বয়সেও ভিক্ষা করেন বিধবা ফাতেমা বেগম

এতটা বছরেও মেলেনি সামাজিক নিরাপত্তার কার্ড

মশিউর রহমান মাসুম, মোরেলগঞ্জ॥ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার গুয়াবাড়িয়া গ্রামে বাসিন্দা ফাতেমা বেগম। জাতীয় পরিচয়পত্র মতে এখন বয়স ৭৮ বছর। স্বামী হাতেম আলী শেখ মৃত্যুবরণ করেছেন ৩২ বছর পূর্বে। স্বামীর মৃত্যুর আগে থেকেই ভিক্ষা করে দু’বেলার খাবার সংগ্রহ করেন এই নারী। প্রায় ৪০ বছর ধরে সবার সামনে ভিক্ষা করলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নজরে আসেনি এ নারীর অসহায়ত্ব। ফাতেমা বেগমের সম্বল আড়াই শতক জমি, একখানা ভাঙ্গা ঘর, ভিক্ষার ঝুলি ও একখানা লাঠি। প্রায় ৮০ বছর বয়সেও এই হতদরিদ্র অসহায় নারীর কপালে জোটেনি কোন প্রকার সামাজিক নিরাপত্তার কার্ড।
বয়সের ভারে সোজা হয়ে দু’পায়ে ভর করে চলাফেরা করতে পারেন না ফাতেমা বেগম। শ্রবণশক্তিও ক্ষীণ হয়ে গেছে। শরীর যখন একটু ভালো থাকে তখনই লাঠি ভর করে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। ফথে ঘাটে ঘুমিয়ে বাড়ি ফিরতে কখনো রাত ৮-৯টাও বাজে। ফাতেমা বেগমের আয়ের ওপর নির্ভর করে তার বিধবা মেয়ে রূপিয়া বেগম (৩০) ও এক শিশু নাতনীর জীবীকা।
বিধবা ও হতদরিদ্র এই নারী কেন সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আসেননি তা জানতে চাইলে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. আকরামুজ্জামান বলেন, ফাতেমা বেগমকে ভিক্ষা করতে দেখেছি। সে কখনো বিধবা বা বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য আবেদন করেনি। এখন জানলাম। বাড়তি কার্ডের বরাদ্দ পেলে ব্যবস্থা করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির বলেন, ফাতেমা বেগমের বিষয়টি ইতোপূর্বে কেউ বলেনি। এখন জানলাম। যত দ্রুত সম্ভব তাকে খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার