মণিরামপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু পার্ক নির্মাণ

 প্রশংসা পাচ্ছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অজয় রায়

মোতাহার হোসেন, মণিরামপুর॥ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু পার্ক নির্মাণের খবরে অনেকেই হতচকিত যাওয়ার কথা। আজকের দিনে সিংহভাগ বিদ্যালয়ের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ লোপাটের অভিযোগ শোনা যায় অহরহ । সেখানে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে এ ধরণের পার্ক নির্মাণ অবিশ্বাস্য মনে হওয়ায় স্বাভাবিক।
অথচ এমনটিই করা হয়েছে মণিরামপুর চাঁদপুর-মাঝিয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ে শিশু পার্ক নির্মাণ করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়ারোধ, বিদ্যালয়গামী হওয়াসহ দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেই এই নান্দনিক উদ্যোগ নিয়ে শিশু পার্ক নির্মাণ করেছেন স্কুলের এসএমসি’র (বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি) সভাপতি অজয় রায়। তিনি সর্বমহলে প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন। ইতোমধ্যে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি পার্কটি উদ্বোধন করেছেন।
দেশ-বিদেশের দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতায় প্রায় ৬ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে তিনি এ পার্ক নির্মাণ করেছেন। শুধু পার্ক নয়, বিদ্যালয়ের শোভাবর্ধনে করেছেন দৃষ্টিনন্দন ফুল বাগান। অবশ্য এসব নান্দনিক কাজের স্বীকৃতি মিলেছে তার। গেল বছর উপজেলার শ্রেষ্ঠ সভাপতি হয়েছেন তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেহেনা পারভীন বলেন, ২০১৯ সালের ৭ জুলাই অজয় রায় সভাপতি হওয়ার প্রথম দিনই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১২টি সিলিং ফ্যান কিনে দেন। স্কুলটি ওই এলাকার সমাপনী পরীক্ষার কেন্দ্র। গেল বছর সমাপনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহনকারি ৫শ’৫১ জন শিক্ষার্থীর নাস্তার ব্যবস্থা করেন। এছাড়া দেওয়াল পঞ্জিকা, অনারি বোর্ড (সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক) করে দিয়েছেন তিনি।
ন্থানীয় অভিভাবক প্রভাষক মামুন অর রশিদ জুয়েল বলেন, এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি অভিভাবকদের স্বাস্থ্য সেবায় মেডিকেল ক্যাম্প করে ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন সভাপতি অজয় রায়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ভ’য়সী প্রশংসা করে বলেন, ওই বিদ্যালয়ের সভাপতির এমন কর্ম শুধু প্রশসংনীয় নয়; অনুকরনীয়, অনুসরনীয় ও অতুলনীয়। দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে তার মতো সভাপতি থাকলে শিক্ষা বিস্তারে দেশ আরো এগিয়ে যাবে। দেশের আর কোথাও এমন উদ্যোগের কথা তার জানা নেই বলেও তিনি জানান।
সভাপতি অজয় রায় বলেন, দিনাজপুরে স্বপ্নপুরী এলাকার শিল্পী এনে প্রায় দুই লাখ টাকার পারিশ্রমিক দিয়ে পার্কের রাইডার নির্মান করা হয়েছে। এ কাজে দেশে ও দেশের বাইরে থাকা প্রবাসীসহ ভারতীয় কয়েকজন নাগরিক তার উদ্যোগে সাড়া দিয়ে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।

শেয়ার