ভেড়ামারায় বিধবা ও এতিমের অর্ধকোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ’র অপচেষ্টা

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ গরীব ভগ্নিপতিকে নিজের দোকানে রেখে ব্যবসা শিখিয়ে কাছে রেখেছিলেন। চরম দুঃসময়ে দোকান বাইরের কাউকে না দিয়ে নিজের ভগ্নিপতি কে বিশ্বাস করে বাকীতে ও সহজ শর্তে দোকানের মালামাল বুঝিয়ে দেওয়া। এটা কি অপরাধ? এমন অত্মীয় এবং ভাল মানুষের স্ত্রী ও সন্তানের সাথে বেঈমানী করে অর্ধকোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ঘৃন্য অপরাধ করে কি করে? দোকান কর্মচারী প্রতারক রিয়াজুল কে নিয়ে এমন প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে।
অনুসন্ধানে গিয়ে জনা যায়, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এক বিধবা ও তার দুই নাবালক এতিম সন্তানের সম্পত্তি আত্মসাতের অপচেষ্টা চালাচ্ছে প্রতারক রিয়াজুল। ভুক্তভোগী পরিবার থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের জুনিয়াদহ গ্রামের মৃত মকছেদ আলী মৃধার ছেলে মাহেরুল ইসলাম সুরুজ জুনিয়াদহ বাজারের একজন স্বনামধন্য হার্ডওয়ার ব্যবসায়ী। পাঁচ বছর আগে ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে অসুস্থতাজনিত কারণে সুরুজ মৃত্যুবরণ করেন।
জীবিতকালে সুরুজের ভগ্নিপতি মির্জাপুর গ্রামের পঞ্চ প্রামানিকের ছেলে রিয়াজুল সুরুজের হার্ডওয়ার দোকানের কর্মচারী হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
সে সময় সুরুজের অসুস্থতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন ফলে দোকান পরিচালনা করতে না পারায় দোকানের মালামাল বাবদ ১৯ লাখ ৪৫হাজার টাকা এবং ২ হাজার টাকা প্রতি মাসে দোকান ভাড়া দিবে এমন শর্তে ভগ্নিপতি ও কর্মচারী রিয়াজুল কে দোকানের মালামাল তিনি বুঝিয়া দেন। এরই মধ্যে সুরুজ মারা যান।
শর্ত অনুযায়ী এর কয়েকমাস দোকান ভাড়া ও মোট টাকা থেকে ৮লাখ ৭০হাজার টাকা পরিশোধ করে রিয়াজুল। এর পরেই ভোল পাল্টে ফেলে প্রতারক বনে যায় রিয়াজুল। দোকান ও মালামাল বাবদ টাকা আত্মসাৎ করতে অপচেষ্টায় নেমে পড়েন। শাশুড়ী আনোয়ারাকে ম্যানেজ করে রিয়াজুল একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে সুরুজের স্বাক্ষর জাল করে দোকান তার নামে লিখে দিয়েছে এমন দাবি করে বসে। এর আগে ২০১৯ সলের ১৪ অক্টোবর দোকানের বিদ্যুৎ মিটার সুরুজের নাম পরিবর্তন করে রিয়াজুল এর নাম বসানো এবং অনুমতির কাগজে সুরুজের স্বাক্ষর জাল করে পল্লীবিদুৎ অফিসে জমা দেয়। পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সুরুজের বাড়িতে যোগাযোগ করলে তার জালিয়াতি ফাঁস হয়ে যায়। পরবর্তীতে আরও জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে রিয়াজুল জাল কাগজপত্র তৈরি করে দোকানের মালিকানা দাবি করে বসেন। এদিকে রিয়াজুলের প্রতারণা জানতে পেরে সুরুজের স্ত্রী শিখা খাতুন স্থানীয় লোকজন এবং বাজার কমিটির কাছে বিচার দাবী করে আবেদন করেন।
এ বিষয়ে একাধিকবার জুনিয়াদহ বাজার কমিটি তাকে নিয়ে বসতে চাইলে গড়িমসি ও টাল-বাহানা করে পারেননি তিনি। একবারও শালিসি তে উপস্থিত হননি রিয়াজুল। এবং কোন কাগজপত্র জমা দিতে পারেনি তিনি।
এদিকে শিখা খাতুন অল্প বয়সে স্বামী হারিয়ে ও ১২ বছরের একটি পুত্র সন্তান এবং ৬ বছরের একটি কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছেন। স্বামীর রেখে যাওয়া দোকান ও দোকানের মালামাল বাবদ বাকি টাকা বুঝে পাওয়ার আশায় বাজার কমিটিসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট তিনি লিখিত আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীগন ও বাজার কমিটি জানতে পেরেছে, রিয়াজুলের সমস্ত কাগজপত্র নিজের মত করে জাল করেছে। সুরুজ বেঁচে থাকা অবস্থায় এর কোনটাই করে যায়নি। বরং সুরুজের মারা যাওয়ার পর ছয় মাসের অধিক সময় ধরে শর্ত অনুযায়ী টাকা ও দোকান ভাড়া নিয়মিত পরিশোধ করে আসছিল। পরবর্তীতে রিয়াজুল ৩০-৪০ লাখ টাকার সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে মিথ্যা দলিল ও সাক্ষী সাজিয়ে সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার জঘন্যতম অপচেষ্টা চালাচ্ছে এমন অভিযোগ স্থানীয় সকলের। বর্তমানে বিধবা স্ত্রী শিখা খাতুন তার মাদ্রাসা পড়–য়া এতিম নাবালক ছেলে সিয়াম (১২) ও মেয়ে সামিয়া (৬) নিয়ে চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন। স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি হতে তার সন্তানরা বঞ্চিত হতে চলেছে এমন আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন তিনি। এর থেকে পরিত্রান পেতে তিনি সবার সহানুভূতি ও সঠিক বিচার প্রার্থনা করেছেন।
দোকানের আরেক কর্মচারী রবিন বলেন, সুরুজ মামা রিয়াজুলকে দোকান লিখে দিলে আমি তা জানতাম আমার দোকান মালিক দোকান বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। এখন রিয়াজুল দোকান দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে জুনিয়াদহ বাজার কমিটির সভাপতি কে এম শাহানুল হক ও সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম মেম্বার বলেন, সুরুজের স্ত্রী শিখা খাতুন আমাদের কাছে অভিযোগ করলে রিয়াজুল দোকান যে তার এমন বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি। সে টালবাহানা করে সময় পার করছে।
এমতাবস্থায় নাবালক এতিম ও বিধবার হক মেরে খাওয়ার অপচেষ্টাকারী প্রতারক রিয়াজুলের বিচার দাবী করেছেন, স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়িসমাজসহ সর্বশ্রেণীর মানুষ।

শেয়ার