বেনাপোলের পুটখালীর ইউপি চেয়ারম্যান রাজ্জাক হত্যা এক জনের যাবজ্জীবন ও ১৫ আসামি খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বেনাপোলের পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হত্যা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। পলাতক আসামি জিয়ারুল ওরফে জিয়াকে এই মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে এই মামলায় আরো ১৫ আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে। গতকাল রোববার যশোরের স্পেশাল জজ (দায়রা জজ) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সামছুল হক এই রায় দেন। দ-প্রাপ্ত জিয়ারুল বেনাপোল পোর্ট থানাধীন সহিষাডাঙ্গা গ্রামের সুলতান মোড়লের ছেলে। এই মামলা থেকে খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, মহিষাডাঙ্গা গ্রামের হযরত মল্লিকের ছেলে অবায়, গুড়ে গম্বুজের ছেলে রফিকুল ইসলাম, পাচু মোড়লের দুই ছেলে নুরু ও আলা, মোশারেফ হোসেন মোড়ল মোশার ছেলে রয়েল, জহুর মল্লিকের ছেলে মনিরুল, কৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুল গফ্ফার সরদারের ছেলে মাহবুব, মতিয়ার রহমান মতের ছেলে মশিয়ার, আব্দুল হকের ছেলে হারুন অর রশিদ, পুটখালীর আব্দুল মজিদের ছেলে তরিকুল ইসলাম, শিবনাথপুর গ্রামের সাইফুর রহমান সাইফারের ছেলে মোমিনুর রহমান, বারোপোতার মোহাম্মদ আলী ওরফে কেলে আহম্মেদের ছেলে রুহুল আমিন, বেলায়েত হোসেনের ছেলে ইউসুফ মোড়ল ও দৌলতপুরের শেখ আব্দুল্লাহ’র ছেলে মেহেদী হাসান সীমান্ত। খালাসপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে কয়েকজন পলাতক ও বাকিরা আটক ছিলো। মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৪ মার্চ সন্ধ্যায় পুটখালীর বারোপোতা গ্রামের আকবর আলীর বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীরা গুলি করে, বোমা হামলা ও কুপিয়ে হত্যা করে চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাককে। শুধু হত্যা করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি আসামিদের নামে কোন মামলা দিতে না পারে সে জন্য নানা ধরনের হুমকি দেয়া হয়। ২৮ মার্চ নিহত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে হাসানুজ্জামান বাদী হয়ে ১০জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেন।
মামলায় বাদী আরো উল্লেখ করেন, একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গফফারের সাথে আধিপত্য বিস্তার নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিলো। এছাড়া সিরাজুল নামের আরেক আসামির সাথে পুটখালী হাট নিয়ে বিরোধ ছিলো। আসামি মেম্বর মোমিনুর রহামনের সাথে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে আব্দুর রাজ্জাককে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। মামলাটি প্রথমে বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই শরীফ হাবিবুর রহমান ও পরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই আবুল খায়ের মোল্যা তদন্ত করেন। ওই বছরের ২৮ আগস্ট ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে যশোর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন এসআই আবুল খায়ের মোল্যা। এরপর আদালত মামলার অভিযোগ গঠন করেন। ২৫জন স্বাক্ষীর মধ্যে ১৩জন আদালতে স্বাক্ষ্য প্রদান করেন। গতকাল রোববার এই মামলার রায় ঘোষণার ধার্য্য দিনে আসামি জিয়ারুল ওরয়ে জিয়া পলাতক ছিলেন। এদিন রায়ে জিয়ারুলকে সন্দেহাতীতভাবে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন বিচারক। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরো এক বছরের কারাদ-ের আদেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে এই মামলার অপর ১৫ আসামির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় বেকসুর খালাশ গ্রদান করেন আদালত। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের স্পেশাল পিপি সাজ্জাদ মোস্তফা রাজা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার