পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার

সমাজের কথা ডেস্ক॥ পেঁয়াজের অস্থির বাজার সুস্থির করতে নিত্য প্রয়োজনীয় এই পণ্যটির আমদানিতে আরোপিত ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।
২০২১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এটা কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

রোববার দুপুরে অর্থমন্ত্রী মোবাইল ফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পেঁয়াজ আমদানিতে যে ৫ শতাংশ শুল্ক ছিল তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজকের মধ্যেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ বিষয়ে একটি এসআরও জারি করবে।”

পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের কারণ জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন আগের থেকে অনেক বেড়েছে। পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে আমাদের কৃষক ভাইয়েরা এখন বেশি বেশি উৎপাদন করছেন। কৃষক ভাইয়েরা যাতে পেঁয়াজের ন্যায্য দাম পায়, সেজন্যই এই পণ্যটির আমদানির উপর ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল।”

“কিন্তু এখন যেহেতু পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে। দাম বেড়ে যাচ্ছে, সেজন্য আমদানি বাড়াতে আরোপিত ৫ শতাংশ শুল্ক আগামী বছরের মার্চ পর‌্যন্ত প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো।”

তবে আগামী মৌসুমে কৃষক যাতে তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য পায়, সেজন্য মার্চের পর আবার ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে বলে জানান মুস্তফা কামাল।

গত সোমবার ভারত আকস্মিকভাবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর গতবছরের মতই লাগামহীন হয়ে উঠতে শুরু করেছে বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজার।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম রাতারাতি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। দাম আরও বাড়ার শঙ্কায় মানুষও প্রয়োজনের অতিরিক্ত পেঁয়াজ কিনতে শুরু করেছে।

একদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০ বা ১০০ টাকা হয়েছে। আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।

হুট করে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধে উদ্বেগ জানিয়ে ফের তা চালু করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার।

সেই অনুরোধে ভারত স্থলবন্দরগুলোতে আটকে থাকা (আগে এলসি খোলা) পেঁয়াজের ট্রাকগুলো বাংলাদেশে ঢুকতে দিলেও বাজারে পেঁয়াজের দাম খুব একটা কমেনি। পাককারী বাজারে কিছুটা কমলেও খুচরা বাজারে সেই বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে।

 

শেয়ার