উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
যশোরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা গণকবর ও বধ্যভূমি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে যশোরে বেশ কিছু ভাস্কর্য, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বধ্যভূমি- গণকবর। যেগুলো বছরের অধিকাংশ সময়ই থাকে অযতœ-অবহেলায়। তবে যশোর প্রশাসন এগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। জেলার চৌগাছার মুক্তারপুর গ্রামে অবস্থিত অরক্ষিত বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিস্তম্ভ, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন স্থাপনা, গণকবর ও বধ্যভূমি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। দ্রুতই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের যৌথ সমন্বয়ে সংরক্ষণের কাজ শুরু হবে। রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জুম মিটিংয়ে ‘জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি’র সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান’র সভাপতিত্বে সভায় বিভিন্ন উপজেলা থেকে উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি’র সদস্যরা যুক্ত হয়। সভায় যশোরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হয়েছে। চলতি মৌসুমে বৃষ্টির কারণে যশোরের ভবাদহ জলাবদ্ধতা বেশি হয়েছে। তার পরেও আমডাঙ্গা খাল দিয়ে পানি নিচে নামতে শুরু করায় ভবাদহ এলাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। ভবদাহের সমস্যা স্থায়ী সমাধানে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছেও জানান তিনি। এছাড়া যশোরের ভৈরব নদে বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ চলমান আছে বলে দাবি করেছেন তিনি। আগামী অক্টোবর মাস থেকে শহর অংশে কাজ শুরু হবে এবং আগামী শীত মৌসুমেই ভৈরব নদের শহর অংশের কাজ শেষ করার আশাবাদী পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তার। এছাড়া কপোতাক্ষ নদের ২য় পর্যায়ের কাজ দ্রুত শুরু হবে। ইতোমধ্যে ডিজাইন ও সার্ভের কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুতই টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে।
সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, যশোরে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে যাচ্ছে অর্থাৎ সনাক্তের হার কমে আসছে। আমাদের এখন শতকরা ১৫ থেকে ২০ ভাগ সনাক্তের হার। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে আমাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে এবং অবশ্যই সকলকে মাস্ক পরতে হবে। আমরা সকল স্থানে ‘নো মাস্ক নো এন্ট্রি’ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছি। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দীলিপ কুমার রায় বলেন, আমাদের হাসপাতালে করোনা রেড জোন চালু হয়েছে। সেখানে ৭ জন রোগী ভর্তি আছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লই নিশ্চিত করা হয়েছে। কার্যক্রম চলমান রাখতে ঢাকা থেকে একটি টিম আসছে এই বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে। এখন থেকে এই হাসপাতালে সাপে কামড়ানো রোগীর চিকিৎসা করা যাবে। ইতোমধ্যে একজন রোগীর চিকিৎসা দিয়েছি। চিকিৎসার সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত আছে বলেও জানান তিনি।
সভায় অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার সালাহ্উদ্দিন শিকদার বলেন, যশোরে আইনশৃঙ্খলার সার্বিক অবস্থা ভালো। সামনে দূর্গাপূজা ইতোমধ্যে প্রতিমা তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে যাতে কোন অপ্রীতকর ঘটনা না ঘটে এক্ষেত্রে সকলকে সজাগ থাকার আহবান জানান তিনি।
যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান ভৈরব নদের কাজ দ্রুত শুরু করার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেন। সেই সাথে ভৈরব নদের উচ্ছেদকৃত দখলদাররা যাতে আবারও দখলে না মাতে সেই জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যশোরের বিভিন্ন নদের পাড়ে ও পতিত জায়গায় বিভিন্ন বৃক্ষরোপন করা হয়েছে। সেগুলো নিজ নিজ দপ্তর থেকে পরিচর্যা করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে জেলায় বিভিন্ন মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণ কাজ ধীরগতি হওয়ার সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেন। বিভিন্ন উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারলেও অভয়নগরে জমি অধিগ্রহনের কারণে সেখানে নির্মান কাজ শুরু করতে না পারায় স্থানীয় প্রশাসনকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম রফিকুন্নবী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর্জা ইফতেখার আলী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ ওহিদুল আলম, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাধন কুমার দাস, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, কমিটির সদস্য ও সাংবাদিক সাজ্জাদ গনি খাঁন রিমনসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ।

শেয়ার