উত্তরা ফুড এন্ড ফিডসের যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
কাঁচামাল সরবরাহকারীদের পাওনা ১৬ কোটি টাকা পরিশোধের চেষ্টা চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য সম্পদ বিক্রিসহ অন্যভাবেও তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছে ভারতের ভিএইচ গ্রুপের উত্তরা ফুড এন্ড ফিডস। এমনকি প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি বা হস্তান্তরের আগেই সবার পাওনা পরিশোধেরও আশ্বাস দিয়েছে। গতকাল রোববার প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলন করে কাঁচামাল সরবরাহকারীদের পাওনা টাকা শিগগিরই পরিশোধের অঙ্গীকার করেছেন। কিন্তু কত দ্রুত পাওনা পরিশোধ করা হবে সংবাদ সম্মেলনে সেটি নিশ্চিত করা হয়নি। এদিন দুপুর ১২ টায় প্রেসক্লাব যশোরের দুই নম্বর কনফারেন্স রুমে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ব্যবসা শুরুর দিকে কাঁচামাল সরবরাহকারীদের চুক্তি মোতাবেক পাওনা টাকা পরিশোধ করছিল প্রতিষ্ঠান। তবে পোল্ট্রি শিল্পে ধস নামায় বাজারে কোম্পানির প্রায় ৩০ কোটি টাকা আটকে আছে। যার কারণে পাওনাদারদের বকেয়া পরিশোধ অনিয়মিত হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে অভিযোগ উঠে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ভিএইচ গ্রুপ তাদের পাওনাদারদের ১৬ কোটি টাকা পরিশোধ না করে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা দাবি করেন, ‘ফরেন ইনভেস্টমেন্ট’ বা বিদেশি কোন কোম্পানি পাওনা পরিশোধ না করে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে পারে না। কারণ আইন অনুযায়ী বিক্রি বা হস্তান্তরের আগে পাওনা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর এই আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে থেকে কোম্পানি পাওনাদারদের সমুদয় টাকা পরিশোধের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। প্রতিষ্ঠান স্থানীয় পাওনাদার বা বিজনেস অ্যাসোসিয়েটসদের সমস্ত বৈধ পাওনা পরিশোধের উদ্দেশ্যে সম্পদ বিক্রির পাশাপাশি অন্যভাবে তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তবে বিশ্বব্যাপী উদ্ভুত কোডিভ-১৯ পরিস্থিতির জন্য এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। এমন অবস্থায় ২৪টি কাঁচামাল সরবরাহ প্রতিষ্ঠান সংবাদ সম্মেলন করে তাদের পাওনা পরিরশোধ না করে ব্যবসায় গুটিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। আর তাদের সংবাদ সম্মেলনের এই বক্তব্য দেশের জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকাসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশের পর বাজারে পড়ে থাকা কোম্পানির টাকা আদায়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘ দিন ধরে টাকা অনাদায়ী থাকায় কাঁচামাল সরবরাহ প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর ব্যাংক ঋণও রয়েছে। ফলে টাকা আটকে থাকায় বাংক ঋনের সুদ গুণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে কাঁচামাল সরবরাহ প্রতিষ্ঠান কোন আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে কোম্পানি কর্মকর্তারা জানান, শুধুমাত্র পাওনার মূল টাকা ফেরতের সিদ্ধান্ত রয়েছে তাদের।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য তুলে ধরেন হিসাব ও ক্রয় বিভাগের এজিএম অবিনাষ মারাঠী, সিনিয়র ম্যানেজার (অ্যাকাউন্টস) ইন্দ্রজিৎ কুমার দে ও ক্রয় বিভাগের সহকারী ম্যানেজার মোল্যা জহুরুল হক।
এর আগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ না করে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন হয়। গত ২৬ আগস্ট প্রেসক্লাব যশোরে ২৪টি কাঁচামাল সরবরাহ প্রতিষ্ঠান এই সংবাদ সম্মেলন করে।

শেয়ার