যশোরের চাঞ্চল্যকর নুসরাত জাহান খুনের তিন বছর
সিআইডি’র দীর্ঘ তদন্তে স্বামীসহ তিনজনের জড়িত থাকার তথ্য

লাবুয়াল হক রিপন
পারিবারিক কলহের জের ধরে পার্বতী রায় ওরফে নুসরাত জাহানকে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে আসছে। এই হত্যাকাণ্ডে তার স্বামীসহ তিনজন অংশ নিয়েছিলো। কিন্তু হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনের মধ্যে মিলন হিজড়া নামে একজনের নাম ঠিকানার মিল না পাওয়ায় মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে যাচ্ছে। দীর্ঘ তদন্তে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য মিললেও গত তিন বছরেও কোনো খুনিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর রাতে যশোর সদর উপজেলার মালঞ্চি গ্রামের মাঠের মধ্যে নুসরাতকে গলা কেটে হত্যার পর লাশ ফেলে দেয়া হয়। মণিরামপুরের শ্যামকুড় গ্রামের অধির দাসের মেয়ে পার্বতী রায়কে (নুসরাত) ১০ বছর আগে মাগুরার শালিখা উপজেলার বৈখালি গ্রামের দ্বীনবন্ধু রায়ের ছেলে মহিতোষ রায়ের সাথে সনাতন ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে দেয়া হয়। দাম্পত্য জীবনে অভি রায় নামে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। তবে ছেলে অভির জন্মের ১৬ মাস পরে পিতা মহিতোষ রায় ভারতে চলে যান। আর পার্বতী রায় তার মায়ের কাছে থেকে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। গার্মেন্টসে চাকরি করাকালে সদর উপজেলার মাহিদিয়া গ্রামের প্রাইমারি স্কুলপাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে নিরব ওরফে রাব্বি নামে এক যুবকের সাথে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে তারা দুজনে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে করে। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রী শহরতলীর ঝুমঝুমপুর চান্দের মোড়ে একটি ভাড়া বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। আর পার্বতীর মা যমুনা দাস যশোর কুইন্স হাসপাতালে আয়া পদে চাকরির সুবাদে তিনি শহরের আরএন রোডের মতিয়ার রহমানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর বিকেলে পার্বতী তার মায়ের বাসায় বেড়াতে আসেন। ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আরএন রোডের সুধীর বাবুর কাঠগোলা এলাকায় কালীপূজা দেখতে যান। এরপর বাড়ি ফিরে না আসায় এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিভিন্নস্থানে খুঁজে না পেয়ে পার্বতীর ঝুমঝুমপুরে ভাড়াবাসায় খোঁজ নেয়া হয়। পরদিন ২০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পার্বতীর পিতা মালঞ্চি গ্রামে রাব্বির বাড়িতে খোঁজ নেন। কিন্তু সেখানেও তার সন্ধান পায়নি। পরে মালঞ্চী থেকে একটি লাশ উদ্ধার হলে সেটি নুসরাতের বলে শনাক্ত করে স্বজনরা।
সূত্র মতে, ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর পার্বতী নাম পরিবর্তন করে নুসরাত জাহান নাম ধারণ করেন। মামলার বাদী পার্বতীর মায়ের ধারণা রাব্বি, মাহিদিয়া গ্রামের লিয়াকত হোসেনের ছেলে বিপুল হোসেন ও মিলন হিজড়াসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে খুন করেছে। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, পার্বতী খুনের মামলাটি প্রথমে থানা এবং পরে সিআইডি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, পার্বতী খুনের আসামিরা সবাই এলাকাছাড়া। সে কারণে আসামি গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি আরো জানিয়েছেন, পার্বতী হত্যার কারণ উদ্ঘাটন এবং খুনিদের শনাক্ত করা হয়েছে।
তারা হলো, সদর উপজেলার মাহিদিয়া গ্রামের প্রাইমারি স্কুলপাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে নিরব ওরফে রাব্বি, লিয়াকত হোসেনের ছেলে বিপুল হোসেন এবং শহরের শংকরপুর হিজড়াপাড়ার মিলন হিজড়া। কিন্তু মিলন হিজড়ার নাম ঠিকানার সাথে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য তাকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।

শেয়ার