ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা শুরু

ভোমরা বন্দর দিয়ে এলো ৩২ ট্রাক, বেনাপোলে প্রক্রিয়াধীন

সাতক্ষীরা ও বেনাপোল প্রতিনিধি ॥ ৫ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে ভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। গতকাল শনিবার সাতক্ষীরার ভোমরা ও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে। তবে পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় আটকে থাকা পেঁয়াজবোঝাই ট্রাকের লোড এক্সপোর্ট (এলইও) করা না থাকায় বেনাপোল বন্দরে কোনো পেঁয়াজ শনিবার বিকাল পর্যন্ত আসতে পারেনি।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ফরেন ট্রেডের এক চিঠিতে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। গতকাল ১৮ সেপ্টেম্বর ওই ফরেন ট্রেডের অপর এক চিঠিতে শর্ত সাপেক্ষে শনিবার থেকে পেঁয়াজ রপ্তানির সিদ্ধান্ত হলে ভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আসতে শুরু করে। ভারতের ঘোজাডাঙ্গা বন্দরে আটকে থাকা ২৫৫ ট্রাকের মধ্যে কাগজপত্র প্রস্তুত রয়েছে এমন ভারতীয় পেঁয়াজবাহী ৩২টি ট্রাক শনিবার সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরে প্রবেশ করে বলে জানিয়েছেন ভোমরা সিএন্ডএফ এজন্ট এ্যাসোসিয়েশনের বন্দর বিষয়ক সম্পাদক আমির হামজা। ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, পূর্বের এলসি করা ২৫৫ টি পেঁয়াজ ভর্তি ট্রাক ভারতের ঘোজাডাঙ্গা বন্দরে আটকে রয়েছে। এর মধ্যে কাগজপত্র প্রস্তুত রয়েছে এমন ৩২টি ট্রাক ভোমরা বন্দরে প্রবেশ করে। প্রতি ট্রাকে ২২ থেকে ২৫ টন পেঁয়াজ আমদানি হবে বলে জানান এই সিএন্ডএফ নেতা। অন্যগুলো পর্যায়ক্রমে প্রবেশ করবে। তবে, বেনাপোল, ভোমরা ও হিলিসহ তিনটি বন্দর দিয়ে মোট ২৫ হাজার মেট্রিকটন পেঁয়াজ বাংলাদেশে রপ্তানির ঘোষণা দিয়েছে ভারত। সেই হিসেবে ৮ হাজার মেট্রিকটন পেঁয়াজ ভোমরা বন্দর দিয়ে আসার কথা। ভোমরা স্থল বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মহসিন হোসেন জানান, গতকাল দুপুর ১টা থেকে পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ভারত থেকে দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ বাংলাদেশে রফতানি হলেও দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আসেনি। ভারতের পেট্রাপোল বন্দর এলাকায় আটকে থাকা পেঁয়াজবোঝাই ট্রাকের লোড এক্সপোর্ট (এলইও) করা না থাকায় বেনাপোল বন্দরে কোনো ট্রাক আসতে পারেনি। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, নিষেধাজ্ঞায় আটকে পড়া পেঁয়াজের একটি অংশ ভারত সরকার ছেড়ে দেওয়ার সম্মতি দিলেও শনিবার বেনাপোলে কোনো ট্রাক আসেনি। তিনি বলেন, ভারতের সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ইনডিরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টম কর্তৃপক্ষ (সিবিআইসি) যে নির্দেশনা দিয়েছিল, তারপর শনিবার সকালে পেট্রাপোল কাস্টমসকে তারা আরো একটি নির্দেশনা দিয়েছে। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বন্দর এলাকার যে সব পেঁয়াজের ট্রাকের লোড এক্সপোর্ট (এলইও) করা ছিল শুধু সেই ট্রাকগুলো বাংলাদেশে যাবে। এ সময় পেট্রাপোল বন্দর অভ্যন্তরে পাঁচটি পেঁয়াজের ট্রাক ছিল। এর মধ্যে একটি ট্রাকের এলইও করা ছিল। পেঁয়াজে পচন ধরায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রফতারিকারক সেই পেঁয়াজের এলইও বাতিল করেন। এতে পেট্রাপোল বন্দরে এলইও করা কোনো পেঁয়াজের ট্রাক না থাকায় শনিবার ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে কোন পেঁয়াজের ট্রাক আসেনি।
ভারতের পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, পেঁয়াজ রফতানি বন্ধে ভারতের আদেশ প্রত্যাহার করতে আহ্বান জানানোর পর আগের ঋণপত্রের (এলসি) পেঁয়াজ বাংলাদেশে রফতানির নির্দেশনা দিয়ে শুক্রবার রাতে বন্দর ও কাস্টমসহ বিভিন্ন দফতরে পত্র দেয় সেদেশের সিবিআইসি। সেই পত্রে বলা হয়, ১৪ সেপ্টেম্বর ভারতের সব শুল্ক স্টেশন/কাস্টমসে নির্দেশনা দেওয়া হয় বাংলাদেশে ৭৫০ মার্কিন ডলারের নিচে পেঁয়াজ রফতানি করা যাবে না। বাংলাদেশের আমদানিকারকদের দাবি ও সরকারি তৎপরতায় ১৫ সেপ্টেম্বর ভারতের রফতানিকারকরা পেঁয়াজ রফতানির আবেদন জানান। তারই পেক্ষিতে ১৮ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেয় ভারতের কেন্দ্রীয় শুল্ক অধিদপ্তর।
বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টম হাউজের কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা আকসির মোল্লা জানান, নিয়মানুযায়ী ভারত থেকে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের সময় কাস্টমস থেকে গেট পাশ নিতে হয়। সকাল থেকে ভারতীয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের পক্ষ থেকে কোনো গেট পাশ গ্রহণ না করায় শনিবারও পেঁয়াজের কোনো চালান আসেনি বেনাপোল বন্দরে।

শেয়ার