পুলেরহাট-রাজগঞ্জ সড়কে গাছ নিধনে অভিনব পন্থা

গাছের গোড়া খুঁড়ে দেয়া হচ্ছে লবন পেট্রোল ডিজেল রাসায়নিক দ্রব্য

মোতাহার হোসেন, মণিরামপুর ॥ সড়কের পাশে গাছের কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা বসত ঘর আড়াল পড়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও গাছ মারাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ অবস্থায় নিষ্ঠুর পথ অবলম্বন করছেন এসব ঘর মালিকরা। গাছ মারতে গাছের গোড়া খুঁড়ে পেট্রোল, ডিজেল কিংবা অতিমাত্রায় লবন বা রাসায়নিক সার প্রয়োগ, এমনকি এসিড পানি নিক্ষেপ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গাছের ছাল (বাকল) তুলে ফেলা হচ্ছে যাতে গাছ দ্রুত শুকিয়ে মারা যায়। এসব করা হচ্ছে যশোর পুলেরহাট-রাজগঞ্জ-কুমিরা সড়কে।
জানাযায়, যশোর পুলেরহাট-রাজগঞ্জ-কুমিরা সড়কে জেলা পরিষদের প্রায় সাড়ে তিন হাজার ফলজ, বনজ, ঔষুধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে। যার প্রতিটির মূল্য ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার পর্যন্ত। কিন্তু সড়ক লাগোয়া বাজারগুলোতে থাকা বৃক্ষের জীবন মানুষের নিষ্ঠুর আচারণে বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া বাজারের দক্ষিণমাথায় গেলে এমন চিত্র চোখে পড়ে। সড়কের পাশে হিজবুল্লাহ নামে এক ব্যবসায়ীর দোকানের সামনে রয়েছে বড় আকৃতির রেইনট্রি (শিশু) গাছ। গাছটি শুকিয়ে মারা গেছে। গাছের গোড়ায় গেলে দেখা যায়, গোড়ার চতুর্পাশ্বে খুঁচে কিছু একটা দেয়া হয়েছে। যা অনেক দিন ধরেই করা হচ্ছে বলে বোঝা গেলো। গাছের বাকল তুলে ফেলায় ছত্রাকের আক্রমণে গাছটি শুকিয়ে মারা গেছে। পরে একটি চক্র রাতের আধারে এসব গাছ কেটে নিচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক নারী-পুরুষ নাম প্রকাশ গোপন রাখার শর্তে জানান (যার ভিডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত), গাছটি মারতে দিনের পর দিন গোড়ায় ডিজেলসহ নানা রাসায়নিক পদার্থ ঢালা হয়েছে। শুধু হিজবুল্লাহ নন, এমন নিষ্ঠুর পন্থা আরো অনেকেই অবলম্বন করেছেন।
হিজবুল্লাহ বলেন, দোকানে ডিজেল আনার সময় ভ্যান থেকে ব্যারেলের মুখ খুলে (ডিজেল ভর্তি) গাছের গোড়ায় ঢেলে পড়ে।
গাছের ছাল তুলে ফেলা হলে কি ক্ষতি হয় এমন প্রশ্নের জবাবে মণিরামপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার বলেন, এতে গাছের খাদ্য সরবরাহ করতে পারে না। এক পর্যায় ছত্রাকের আক্রমণে গাছ মারা যায়।
হিজবুল্লাহ’র বাবা কওছার আলী বলেন, অনেকেই এভাবে গাছ মেরে ফেলেছে। গাছটি মারা জন্য ২০১৭ সালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হলেও আজও কিছুই করা হয়নি বলেও তিনি জানান।
এদিকে ‘বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০১২-এর ৪ অনুচ্ছেদের ৩ উপধারায় বলা হয়েছে‘ অনুমতি ছাড়া সড়কে রোপিত বৃক্ষ কর্তন বা অপসারন দন্ডিত অপরাধ। এ অনুচ্ছেদের ৫ উপধারায় বলা হয়েছে‘ এ আইন লংঙ্ঘন করিলে অপরাধ বিবেচনা করিয়া সর্বোচ্চ ৩ মাস কারাদন্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থ দন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন’।
জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার এমএ মঞ্জুর হোসেন জানান, যশোরের বিভিন্ন সড়কের হাজার দেড়েক গাছ দুর্বৃত্তরা এভাবে মেরে ফেলছে।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী এসএমএ রফিকুন্নবী বলেন, এ বিষয়ে তারাও জানতে পারছেন। অচিরেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার