যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল
জরুরি বিভাগে রোগী এলেই করোনা ওয়ার্ডে ভর্তির নির্দেশ চিকিৎসকদের!

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগী এলেই করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি নির্দেশ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবারও সকালে এমন ঘটনা ঘটেছে। ইশারত হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তির পেটের নাড়ি পেচিয়ে যাওয়ার কারণে স্বজনরা তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. দেলোয়ার হোসেন কর্মচারীর কথা মত রোগীর ব্যবস্থাপত্রে কোভিড-১৯ উল্লেখ করে ওষুধ লিখে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তির নির্দেশ দেন। তিনি ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর গ্রামের জবেদ আলীর ছেলে। শুধু তিনিই ভোগান্তির শিকার হননি। এর আগে গত মঙ্গলবার যশোর সদর উপজেলার সানতালার হেলেনা আক্তার; এরও দু’দিন আগে শহরের জেল রোড এলাকার আব্দুল আজিজ দুর্বল ও বমির কারণে হাসপাতালে এলে তাকে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
এদিকে শুক্রবার রোগীর স্বজন মঞ্জুরুল হাসান অভিযোগ করে বলেন, ইশারত হোসেনের গত কয়েক দিন থেকে পেটে ব্যথা, বাথরুম না হওয়া, অসুস্থসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। পরে ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের দেখালে তারা এক্সেরে করার পরামর্শ দেন। বৃহস্পতিবার পরীক্ষা করে চিকিৎসককে দেখালে তারা জানান রোগীর পেটে নাড়ি পেচিয়ে গেছে। তখন চিকিৎসকরা অপারেশন করতে হবে বলে যশোর হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার যশোরে না এসে তারা শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে যশোর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসা হয়। এ সময় জরুরি বিভাগে কোন চিকিৎসক ছিলেন না। সামনের টেবিলে থাকা কর্মচারী রতন সরকার নাম ঠিকানা লিখে পিছনের রুমে চিকিৎসকের কাছে যান। এর কিছুক্ষণ পরে একটি ব্যবস্থাপত্র নিয়ে এসে রোগীকে করোনা ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে বলেন। অথচ কোন চিকিৎসক এ সময় রোগীকে দেখেননি।
পরে করোনা ওয়ার্ডে নিয়ে গেলে সেবিকা দেখে মঞ্জুরুল হাসানকে বলেন এই রোগী এই ওয়ার্ডের না তিনি সার্জারি ওয়ার্ডে যাবেন। তাকে সেবিকা পুনরায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কাছে যেতে বলেন। সেবিকার কথা মত তিনি রোগী নিয়ে আবার জরুরি বিভাগে যান। এ সময় কর্মচারীকে বলে চিকিৎসকের পিছনের রুমে যান। কিন্তু চিকিৎসক তখনও রোগী না দেখে বলেন, যে ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে সেখানে গিয়ে বসেন। এর পরে রোগী নিয়ে আবার ওই ওয়ার্ডে যান। এ সময় ওয়ার্ডে একজনের পরামর্শে রোগীকে বাইরের চিকিৎসককে দেখান। সেখানে পরীক্ষা করে পেটের নাড়ি পেচানো ধরা পড়ে। সেখানে রোগীর ব্যবস্থাপত্র নিয়ে স্বজনরা বাড়িতে যান।
মঞ্জুরুল হাসান মুঠোফোনে জানান, ক্লিনিকের চিকিৎসক পরীক্ষা করে ওষুধ দিয়েছেন। এখন রোগী সুস্থ আছেন। তিনি আরও জানান, ওষুধে কাজ না হলে পরে অপারেশন করতে হবে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (প্রশাসন) ডা. আরিফ আহম্মেদ বলেন, এমন কোন অভিযোগ কেউ করেন নি। তবে এমন ঘটনা হওয়ার কথা নয়। খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

শেয়ার