মণিরামপুরে ভাইপোর লাথিতে চাচার মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর॥ যশোরের মণিরামপুরে ভাইপো পারভেজ হোসেনের (৩০) লাথির আঘাতে চাচা অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুস সাত্তারের (৬৫) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার গোবিন্দুপর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুভিটার জমি নিয়ে বিরোধ মীমাংসাকালে ভাইপোর লাথিতে চাচা গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ ভাইপো পারভেজকে হেফাজতে নিয়েছে। মৃত আব্দুস সাত্তার গোবিন্দুপর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম গোলদারের ছেলে। এবং ভাইপো পারভেজ নিহতের সেজ ভাই আব্দুল হামিদের ছেলে।
নিহতের ভাই হাফেজ জয়নাল আবেদিন গোলদার বলেন, তাদের বাবা জীবিত থাকতেই বাস্তুভিটার ৮৫ শতাংশ জমি ৬ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে বন্টন করে দেন। সে মোতাবেক তারা তাদের জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। কয়েক বছর ধরে সেজ ভাই আব্দুল হামিদ ও ছোট ভাই রোকনুজ্জামান বাবার বন্টন অস্বীকার করে ফের ভাগ করতে চায়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই দুই ভাইয়ের সাথে অপর ৩ ভাইয়ের বিরোধ চলে আসছিলো। ঘটনার দিন শুক্রবার সকালে ৫ ভাই ও তাদের সন্তানেরা বিরোধ মীমাংসায় শালিসে বসেন। জুম্মাবাদ ফের শালিসের এক পর্যায় বিরোধ মীমাংসার পর্যায় আসে। হঠাৎ মেঝ ভাই নিহত আব্দুস সাত্তারের সাথে সেজ ভাই আব্দুল হামিদের কথা কাটাকাটির হয়। এরই এক পর্যায় আব্দুল হামিদ, ছোট ভাই রোকনুজ্জামান, আব্দুল হামিদের ছেলে পারভেজ ও সোয়াইব হোসেন তার উপর হামলা চালায়। এসময় তাকে (জয়নাল) রক্ষা করতে মেঝ ভাই আব্দুস সাত্তার এগিয়ে আসলে পারভেজ তার (সাত্তার) বুকে লাথি ও কিল-ঘুষি মারে। এতে আব্দুস সাত্তার মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারান। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জুয়েল জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আব্দুস সাত্তারের মৃত্যু হয়েছে। মণিরামপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ভাইপো পারভেজকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

 

শেয়ার