‘পাত্র চাই’ প্রতারণায় ‘কোটি কোটি টাকা’

সমাজের কথা ডেস্ক॥ পত্রিকায় ‘কানাডাপ্রবাসীর জন্য বয়স্ক পাত্র চাই’ বিজ্ঞাপন দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

সাদিয়া জান্নাত ওরফে জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৮) নামের ওই নারীকে বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা এলাকা গ্রেপ্তার করা হয় বলে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ রেজাউল হায়দার জানিয়েছেন।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ওই নারী প্রায় ১০ বছর ধরে এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার পোশাক, চালচলন এবং কথাবার্তায় কানাডা প্রবাসী নন বলে কেউ বিশ্বাস করতে পারবে না।”

তার কাছ থেকে বেশ কয়েকটি পাসপোর্ট, একাধিক মোবাইল ফোন, অনেকগুলো সিম কার্ড, একটি হিসাবের খাতা এবং ব্যাংক এশিয়ায় ৪৮ লাখ টাকা জমা দেওয়ার রশিদ পাওয়া গেছে বলে জানান এই সিআইডি কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে হিসাবের খাতায় কার কাছ থেকে কত নিয়েছেন এবং কী করেছেন তা লেখা আছে। এ যাবৎ প্রায় ‘২০ কোটি টাকার সম্পদের’ হিসাব পাওয়া গেছে।

রেজাউল হায়দার জানান, নাজির হোসেন নামের একজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে জান্নাতুল ফেরদৌসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার প্রতারণার কৌশল জানা যায়।

“অত্যন্ত ধূর্ত এই নারী নিজেকে সব সময় কানাডা প্রবাসী পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে থাকে। সে তার দ্বিতীয় স্বামীর সহযোগিতায় প্রতারণার অংশ হিসাবে প্রথমে পত্রিকায় বয়স্ক পাত্র চাই বলে বিজ্ঞাপন দেয়। বিজ্ঞাপনে কানাডায় ব্যবসা আছে উল্লেখ করে ব্যবসার দায়িত্ব নিতে আগ্রহীদের যোগাযোগ করতে একটি ফোন নম্বর দেওয়া হয়। সেই নম্বরে যোগাযোগের পর প্রতারিত হয়েছেন নানাজন।”

নাজির হোসেন নামে ওই ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, বিজ্ঞাপন দেখে তিনি ফোনে যোগাযোগ করলে প্রথমে এই নারী গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় দেখা করেন। সেখানে কথা বলার এক পর্যায়ে পাসপোর্ট ও ১৫ হাজার টাকা ওই নারীর হাতে তুলে দেন।

“পরে এক সময় জান্নাতুল ফেরদৌস জানায়, কানাডায় তার ২০০ কোটি টাকার ব্যবসা আছে। সেখান থেকে ব্যবসা গুটিয়ে বাংলাদেশে টাকা ফিরিয়ে আনতে চায়। তাছাড়া সেখানে প্রচ- শীত, নাজির হোসেন গিয়ে থাকতে পারবে না। কানাডা থেকে টাকা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কিছু ভুয়া কাগজপত্রও দেখিয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং এজন্য দুই দেশের সরকারি খাতে ভ্যাট-ট্যাক্স, ডিএইচএল বিল দিতে হবে বলে নাজির হোসেনকে জানায়।

“নাজির হোসেন সরল বিশ্বাসে বিভিন্ন ধাপে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ টাকা তুলে দেয় ওই নারীর হাতে। পরে ওই নারী ফোন বন্ধ করে ফেলে,” বলেন সিআইডি কর্মকর্তা রেজাউল।

তিনি বলেন, নাজিরের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে তারা জানতে পারেন এই নারী একই কায়দায় আরও কয়েকজনের কাছ থেকে ৫ থেকে ২০ লাখ টাকা করে নিয়েছেন।

সিআইডির তদন্তকালে ওই নারী অপর একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখা করতে বলেন। সেই খবর পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস প্রথম স্বামীকে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় স্বামী এনামুল হাসান জিহাদকে বিয়ে করার পর তার সহযোগিতায় এই প্রতারণা করে আসছে বলে জানান সিআইডি কর্মকর্তা রেজাউল।

“তার সম্পদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া ছাড়াও তার দ্বারা আর কে কে প্রতারিত হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে,” বলেন তিনি।

শেয়ার